ফেসবুক মন্তব্য ঘিরে রাবিতে উত্তেজনা, হকিস্টিক নিয়ে ছাত্রদল নেতার মহড়া
- আপডেট সময় : ১০:০১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিবের মধ্যে ফেসবুক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রাকিবুলকে মেসেঞ্জারে হুমকি দিয়েছেন আহসান হাবিব। এই ঘটনার জেরে রবিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে অবস্থান নেন রাকিবুল। রাকিবুল চত্বর ত্যাগ করার পর আহসান হাবিব দলবল নিয়ে হকিস্টিক ও বেসবল ব্যাট হাতে সেখানে উপস্থিত হন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
উত্তেজনা শুরুর প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা যায়, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে আহসান হাবিব একটি বিতর্কিত পোস্ট করেন। ওই পোস্টে তিনি সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন। এর প্রেক্ষিতে রাকিবুল ইসলাম ওই পোস্টে মন্তব্য করেন, “কার খুনের আসামী করলি? ক্লিয়ার কর। এগুলো ছাত্রলীগের বয়ান।”
এর জেরে আহসান হাবিব মেসেঞ্জারে রাকিবুলকে হুমকি দিয়ে লেখেন, “ছাত্রলীগ, শিবির, বাম সব মিলেও এক আহসান হাবিবের সামলাতে পারবিনা, টোটাল ছাত্রদলের কথা বাদই দিলাম। সাহস থাকলে আয় আমার সামনে।” এর জবাবে রাকিবুল পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জানান, তিনি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিবহন মার্কেটে অবস্থান করবেন। রাকিবুল সেখানে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবস্থান করলেও আহসান হাবিব তখন আসেননি। রাকিবুল চলে যাওয়ার পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আহসান হাবিব হকিস্টিক ও বেসবল ব্যাট নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন এবং বিষয়টি ফেসবুকে প্রচার করেন। রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
রাকিবুল ইসলামের দাবি, তিনি সকাল থেকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন কিন্তু আহসান হাবিব তখন আসেননি। তিনি বলেন, “ছাত্রদলের পুলাপান হকিস্টিক নিয়ে এসেছে, তারা হয়তো নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রেখে যাওয়া দায়িত্ব পালন করছে।” অন্যদিকে আহসান হাবিবের দাবি, রাকিবুল তাঁর মা-বোনকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “আমি তাঁকে ইনবক্সে বলেছি, ছাত্রদলকে লাগবে না, আমি একাই যথেষ্ট। সাহস থাকলে আমার সামনে আসতে বলেছি।”
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান জানান, প্রশাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হয়েছে এবং উভয় পক্ষকে শান্ত রাখার চেষ্টা চলছে।




























