ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ৯/১১ স্টাইলে হামলার ছক: যেভাবে রুখে দিলেন পাইলট
- আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১ স্টাইলে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন ওমানি সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি। ইসরাইলের তেল আবিবে অবস্থিত বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে এই হামলার ছক কষা হয়েছিল। তবে ককপিটে মূল পাইলটের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ এবং ক্রু ও যাত্রীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত সেই ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।
সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) তদন্তকারীদের কাছে গ্রেপ্তার হওয়া ফার্স্ট অফিসার হামাম আল-হামামি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। তদন্তে জানা যায়, ফ্লাইদুবাইয়ের ১০৭৩ নম্বর ফ্লাইটের প্রধান পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্চারকে হত্যা করে বিমানের একক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। জর্ডানের আকাশসীমায় পৌঁছানোর পর আল-হামামি হঠাৎ করেই প্রধান পাইলটের ওপর হামলা চালান। এর আগে তিনি ক্যাপ্টেন মাচ্চারকে নামাজ পড়ার কথা বলেন এবং অসতর্ক অবস্থায় একটি ক্র্যাশ অ্যাক্স (কুড়াল) দিয়ে তার মাথায় জোরালো আঘাত করেন। আহত ভারতীয় পাইলট পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, বিপদসংকেত পাঠান এবং ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। এরপর বিমানের ক্রু ও যাত্রীরা মিলে সহকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে নেন। পরবর্তীতে বিমানে থাকা অফ-ডিউটি দুই পাইলট বিমানটিকে নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করান।
তদন্তকারীদের কাছে হামামি স্বীকার করেছেন, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে কোনো ভবন বা অন্য একটি বিমানের ওপর বিমানটি বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা ছিল তার। সেখানে ব্যর্থ হলে তেল আবিবের কোনো বহুতল ভবন অথবা জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক ঘাঁটিতে বিমানটি আছড়ে ফেলার বিকল্প ছকও তিনি তৈরি করে রেখেছিলেন। ২৯ বছর বয়সী এই ওমানি নাগরিকের বাবা ওমানি এবং মা সিরীয়। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় তিনি সেখানে বসবাস করতেন এবং অনলাইনে জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সমর্থনে বিভিন্ন বার্তা পোস্ট করতেন। চরমপন্থী মতাদর্শের কারণে ওমান সরকার তাকে আগেই বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করেছিল। তা সত্ত্বেও ফ্লাইদুবাইয়ে তার নিয়োগ এবং ইসরাইলগামী ফ্লাইটের দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি বড় ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে আবুধাবির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্চার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, হামলার পর প্রথমে ভেবেছিলেন বিমানটি হয়তো কোনো বাহ্যিক আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু ক্রমাগত আঘাত আসতে থাকায় তিনি বুঝতে পারেন ককপিটে থাকা সহকর্মীই তাকে হত্যা করতে চাচ্ছেন। হামলার সময় আল-হামামি বিমানের ইঞ্জিন বন্ধ করে দিয়ে কন্ট্রোল সামনে ঠেলে দিয়েছিলেন, যার ফলে মাত্র এক মিনিটেরও কম সময়ে বিমানটি ১৬ হাজার ফুট নিচে নেমে শব্দের গতির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগেই আল-হামামি এই হামলার ছক কষেছিলেন। তেল আবিবে কোন কোন বিমান সংস্থা যাতায়াত করে তা যাচাই করেই তিনি ফ্লাইদুবাইকে বেছে নেন। গত জুনে ইসরাইল সফরের সময় তিনি বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন এবং জুলাইয়ে হামলার চেষ্টা করেও শেষ মুহূর্তে এক সহকর্মীর সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে পিছিয়ে যান। এদিকে, ওমানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও একজন ওমানি নাগরিককে ইসরাইলি যাত্রীসহ বিমান চালানোর অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক নিরাপত্তা ঘাটতি প্রকাশ পেয়েছে। যদিও সংযুক্ত আরব আমিরাত দাবি করেছে তারা যাত্রী ও ক্রুদের তথ্য ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শেয়ার করেছিল, তবে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত এবং পরিবহন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে।
ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর কাছে সূত্রগুলো জানিয়েছে, আল-হামামি প্রথমে জুলাই মাসে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি পিছিয়ে যান। কারণ ক্রু সদস্যদের একজনের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেয়ার পর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আল-হামামি বেশ কয়েকবার বেন গুরিয়ন বিমানবন্দ
চ্যানেল ১৩-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেয়ার আগেই ওমানি সহকারী পাইলট হামলার পরিকল্পনা করেন। ফ্লাইদুবাই ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে। তদন্তকারীদের আল হামামি বলেছেন, তেল আবিবে কোন বিমান সংস্থা ফ্লাইট পরিচালনা করে, তা আ


























