ঢাকা ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

প্রবাসীদের সঞ্চয় দেশে বিনিয়োগে ১০০ কোটি ডলারের বিশেষ তহবিল

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৫১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঞ্চয়কে দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনশীল খাতে টেকসই বিনিয়োগে কাজে লাগাতে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এম ক্যাপিটাল এ লক্ষ্যে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি বিশেষায়িত তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি এই তহবিলের মাধ্যমে তাদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজিত ‘ডাকছে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশেষ তহবিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তরুণদের মেধা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে সামাজিক ব্যবসা প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্জিত দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে দেশের উৎপাদনশীল উদ্যোগে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও কাঠামোগত সংস্কারের অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, বিদেশি ও প্রবাসী উদ্যোক্তারা সরাসরি বাংলাদেশে এসে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করলে বিনিয়োগে নতুন করে আস্থা তৈরি হতে পারে।

এম ক্যাপিটালের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর তহবিলের বিস্তারিত কাঠামো তুলে ধরে জানান, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থকে উৎপাদনশীল সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে এই ১০০ কোটি ডলারের অধীনে তিনটি পৃথক ফান্ড গঠন করা হবে। এগুলো হলো—ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ফান্ড, ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ফান্ড এবং হেলথকেয়ার ইমপ্যাক্ট ফান্ড। প্রতিটি ফান্ড দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইন এবং নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে পরিচালিত হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন উপদেষ্টাদের তদারকি থাকবে এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুই বছরের লক-ইন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ফান্ডগুলোর ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ানের দায়িত্ব পালন করবে ব্র্যাক ব্যাংক।

বিশ্বজুড়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে প্রায় ১০০টি প্রধান শহরে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এম ক্যাপিটাল। এ প্রসঙ্গে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ডাকছে বাংলাদেশ’ কেবল একটি স্লোগান নয়, এটি একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা। প্রবাসীদের সঞ্চিত অর্থ, বৈশ্বিক যোগাযোগ ও পেশাগত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে প্রযুক্তিনির্ভর ও উচ্চমূল্যের বিনিয়োগের কেন্দ্রে রূপান্তর করাই এর মূল লক্ষ্য। ঢাকার বনানীতে নিবন্ধিত প্রধান কার্যালয় থাকা এম ক্যাপিটাল মূলত প্রবাসী ও স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের অর্থ দেশের উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রবাসীদের সঞ্চয় দেশে বিনিয়োগে ১০০ কোটি ডলারের বিশেষ তহবিল

আপডেট সময় : ০৯:৫১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঞ্চয়কে দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনশীল খাতে টেকসই বিনিয়োগে কাজে লাগাতে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এম ক্যাপিটাল এ লক্ষ্যে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি বিশেষায়িত তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি এই তহবিলের মাধ্যমে তাদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজিত ‘ডাকছে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশেষ তহবিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তরুণদের মেধা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে সামাজিক ব্যবসা প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্জিত দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে দেশের উৎপাদনশীল উদ্যোগে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও কাঠামোগত সংস্কারের অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, বিদেশি ও প্রবাসী উদ্যোক্তারা সরাসরি বাংলাদেশে এসে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করলে বিনিয়োগে নতুন করে আস্থা তৈরি হতে পারে।

এম ক্যাপিটালের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর তহবিলের বিস্তারিত কাঠামো তুলে ধরে জানান, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থকে উৎপাদনশীল সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে এই ১০০ কোটি ডলারের অধীনে তিনটি পৃথক ফান্ড গঠন করা হবে। এগুলো হলো—ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ফান্ড, ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ফান্ড এবং হেলথকেয়ার ইমপ্যাক্ট ফান্ড। প্রতিটি ফান্ড দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইন এবং নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে পরিচালিত হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন উপদেষ্টাদের তদারকি থাকবে এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুই বছরের লক-ইন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ফান্ডগুলোর ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ানের দায়িত্ব পালন করবে ব্র্যাক ব্যাংক।

বিশ্বজুড়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে প্রায় ১০০টি প্রধান শহরে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এম ক্যাপিটাল। এ প্রসঙ্গে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ডাকছে বাংলাদেশ’ কেবল একটি স্লোগান নয়, এটি একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা। প্রবাসীদের সঞ্চিত অর্থ, বৈশ্বিক যোগাযোগ ও পেশাগত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে প্রযুক্তিনির্ভর ও উচ্চমূল্যের বিনিয়োগের কেন্দ্রে রূপান্তর করাই এর মূল লক্ষ্য। ঢাকার বনানীতে নিবন্ধিত প্রধান কার্যালয় থাকা এম ক্যাপিটাল মূলত প্রবাসী ও স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের অর্থ দেশের উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh