সরকারি দপ্তরে ঘেরা জয়পুরহাটের স্কুল, জীর্ণ ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ পাঠদান
- আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

জয়পুরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মাত্র ১৫০ গজ এবং সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মাত্র ২০ গজ দূরে অবস্থিত জয়পুরহাট নার্সারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের এত কাছে অবস্থিত হলেও ৪৬ বছর আগে নির্মিত বিদ্যালয়টির ভবন এখন চরম জীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, কোথাও কোথাও পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং বৃষ্টির সময় ছাদের ভেতর দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠার পর ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। ৮৩ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ছয়জন শিক্ষক ও ১০২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। পাঁচ কক্ষের এই একতলা ভবনের একটি কক্ষ বর্তমানে তালাবদ্ধ এবং আরেকটি শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত হয়। বাকি তিনটি কক্ষে সব শ্রেণির পাঠদান চলে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে মাত্র একটি শৌচাগার, যা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাইলা আকতার জাহান জানান, ২০১৮ সালে যোগদানের পর থেকেই তিনি ভবনটির এমন দুরবস্থা দেখছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও এখনো নতুন ভবন নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ভবনের পরিবেশের কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের ভর্তি করাতে এসেও ফিরে যাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ ভর্তি করা সন্তানকে অন্য বিদ্যালয়ে সরিয়ে নিচ্ছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বিদ্যালয় চলাকালে ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইশরাত জাহান জানান, ভবনের দুরবস্থার কারণে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমছে। বিদ্যালয়ের তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে ফাটল দেখে তারা সব সময় ভয়ের মধ্যে থাকে। অভিভাবক ইমতিয়াজ আহমেদ ও শিউলি খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সন্তানদের পাঠিয়ে তাঁরা সব সময় দুর্ঘটনার দুশ্চিন্তায় থাকেন। তারা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জয়পুরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেছের আলী ও সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম ইকবাল জানান, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৫) আওতায় বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণের জন্য কয়েক মাস আগেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।



























