ফ্রান্সে শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ২ হাজার
- আপডেট সময় : ০৭:১২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শ্রেণিকক্ষের পরিস্থিতি ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ নিয়ে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ক্রমেই সহিংস রূপ নিচ্ছে, যা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকার। স্ট্রাসবুর্গে কাঁদানে গ্যাসে রাস্তা ঢেকে যায়, মার্সেইয়ে পুলিশের সারিতে আতশবাজি ছোড়া হয় এবং রেনে শহরে আবর্জনার ড্রামে আগুন ধরানোর মতো ঘটনা ঘটে। প্যারিসেও খণ্ড খণ্ড সংঘর্ষ হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা "আমাদের গড়তে হবে ভবিষ্যৎ, সহ্য করতে নয়" লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে।
বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ আরটিএল রেডিওকে জানিয়েছেন, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই কিশোর। তিনি মন্তব্য করেন যে, যারা সম্পত্তির ক্ষতি করছে, তাদের বাবা-মাকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা উচিত। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন এখন বহিরাগতদের হাতে চলে গেছে। অশান্তির কারণে শুক্রবার ফ্রান্সের প্রায় ১০ শতাংশ বা ৪০০টি হাইস্কুল বন্ধ ছিল। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা সন্তানদের রাস্তায় বিক্ষোভে যেতে নিরুৎসাহিত করেন। বিএফএম টিভিকে তিনি বলেন, "রাস্তায় শিশুরা বিপদে আছে।"
স্কুল অবরোধ করা শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ভিড়, নিয়মিত শিক্ষকসংকট ও জরাজীর্ণ ভবন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর এ খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ হয়নি। প্যারিসের শহরতলি পাঁতাঁয় ১৫ বছর বয়সী কেসিয়া রয়টার্সকে জানায়, তাদের ক্লাসে ৩৫ জন করে শিক্ষার্থী থাকলেও পর্যাপ্ত চেয়ার নেই এবং এক ঘণ্টার টিফিন বিরতিতে সবার খাবার পাওয়া সম্ভব হয় না। এরপর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে সে সরে যায়।
বৃহস্পতিবার সরকারের উপস্থাপন করা ২০২৭ সালের খসড়া বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ মাত্র ১.৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, যা মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে কম। শিক্ষকদের পেনশন বাদে এ খাতের বরাদ্দ দাঁড়াবে ৬ হাজার ৫৫৩ কোটি ইউরো। অথচ খসড়া বিল অনুযায়ী আগামী বছর ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে ৭ হাজার ৪৫০ কোটি ইউরো। এদিকে, সরকার এই বিক্ষোভকে রাজনৈতিক রং দিচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, নাবালকদের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর পন্থা নিচ্ছে। তারা লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস ও ফ্ল্যাশ-বল নামের প্রাণঘাতী নয় এমন বন্দুকের ব্যবহারের কথা জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে সতর্ক করে এক্স-এ লিখেছে, 'শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দিতে হবে, লাঠি দিয়ে পেটানো চলবে না।' শুক্রবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি সহিংসতার তিনটি তদন্ত শুরু হয়েছে। এই বিক্ষোভ ফ্রান্সের সীমানা ছাড়িয়ে বেলজিয়ামের লিয়েজ শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে শুক্রবার হাইস্কুলগুলো বন্ধ ছিল।


























