ঢাকা ১২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বরগুনায় বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালন: বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন শতাধিক মানুষ ইসরাইলের নির্বাচন ঘিরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা বাড়ার শঙ্কা পশ্চিমবঙ্গের তথ্য ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা হলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী উপজেলা পরিষদের সভার কার্যবিবরণী ১৪ দিনের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশ সিলেটের কৃষিপণ্য সরাসরি বিদেশে পাঠাতে ৩৮০ কোটি টাকার প্রকল্প টেক্সাসে ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে বিক্ষোভকারীদের হট্টগোল ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ট্রাম্পের সাড়ে ৮ ফুটের নগ্ন ভাস্কর্য ‘অরেঞ্জ প্লেগ’ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ২৩ জানুয়ারি, আবেদন শুরু ১২ অক্টোবর ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা: ৫ শিশুসহ নিহত ৩২ উত্তাল ফ্রান্স: ট্রাম্পের মন্তব্যের বাইরেও রয়েছে গভীর সংকট

বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব: যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি দ্বিগুণের বেশি বাড়ল

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৩১:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির (এআরটি) প্রভাব বাংলাদেশের আমদানি বাণিজ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশভিত্তিক সবশেষ পণ্য আমদানির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন বা ১৮৯ কোটি ৬২ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) আমদানির পরিমাণ ছিল ৬০ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) তা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ১২৯ কোটি ৬ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় ১১৩ দশমিক ১১ শতাংশ বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, বিটুমিনসহ খনিজ জ্বালানি ও তেল থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য। এসব খাতে বাংলাদেশের ব্যয় হয়েছে ৭৭ কোটি ৫২ লাখ ডলার, যা প্রথম প্রান্তিকে ছিল মাত্র ১৩ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। এছাড়া দ্বিতীয় প্রান্তিকে অন্যান্য আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১৪ কোটি ২৬ লাখ ডলারের তুলা, ১০ কোটি ৪১ লাখ ডলারের লোহা ও ইস্পাত, ৪ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের খাদ্যশস্য (গমসহ) এবং ৭ কোটি ২৯ লাখ ডলারের সয়াবিন ও পশুখাদ্য। এর বাইরে ২ কোটি ১৯ লাখ ডলারের পরিমাপ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাসংক্রান্ত যন্ত্রপাতি, ১ কোটি ৯১ লাখ ডলারের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম এবং ১ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের প্লাস্টিক সামগ্রী আমদানি করা হয়েছে।

আমদানিকারক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, এই চুক্তির ফলে আমদানি বৃদ্ধি পাওয়াটা প্রত্যাশিতই ছিল। ভবিষ্যতে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনা শুরু হলে এই আমদানি ব্যয়ের অঙ্ক আরও বড় হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে দুটি চুক্তি সই হয়েছে, যার মধ্যে গত ৩০ এপ্রিল সই হওয়া প্রথম চুক্তিতে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার মূল্যে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার কথা বলা হয়েছে। বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা) অনুযায়ী এর মূল্য প্রায় ৪৫ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। ২০৩১ থেকে ২০৫৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এসব উড়োজাহাজ সরবরাহ করবে বোয়িং। এরপর গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কিনতে দ্বিতীয় চুক্তি সই হলেও এর আর্থিক মূল্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

বাণিজ্য চুক্তির প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর চড়া শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এর আওতায় বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপের কথা থাকলেও দরকষাকষির মাধ্যমে তা ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘ নয় মাস আলোচনার পর জাতীয় নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তি (এআরটি) সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে আরোপিত পাল্টা শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তুর মতো কাঁচামাল আমদানি করে তৈরি করা পোশাক দেশটিতে রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো পাল্টা শুল্ক না দেওয়ার শর্ত যুক্ত হয়। এর বিনিময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৭০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য, ১৫ বছরে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের জ্বালানি পণ্য এবং ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার অঙ্গীকার করে। তবে চুক্তির ১১ দিন পর ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করায় এর আইনি ভিত্তি বাতিল হয়ে যায়। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশে মার্কিন পণ্যের দ্বিতীয় শীর্ষ আমদানিকারক সিকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক মনে করেন, আমদানি বাড়ার পেছনে এই চুক্তি বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি জানান, ব্যবসায়িক লাভ এবং দেশের স্বার্থ বিবেচনা করেই তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়েছেন। মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতিশ্রুতির মান ও সরবরাহের নিশ্চয়তা অনেক বেশি এবং তাদের পণ্যের গুণগত মানও ভালো। চলমান বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে ইউক্রেনসহ কয়েকটি দেশ থেকে পণ্য আনার ক্ষেত্রে বন্দর ব্যবহারের ঝুঁকি ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা বাড়ায় তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নিয়েছেন। যদিও মার্কিন পণ্যের দাম কিছুটা বেশি, তবে ব্রাজিলের মতো দেশের তুলনায় এর গুণগত মান অনেক ভালো বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি ২২৬ কোটি থেকে ২৮৫ কোটি ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা এক লাফে ৩৫৯ কোটি ২৯ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৩২ দশমিক ১৫ শতাংশ বেশি। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, বাণিজ্য চুক্তির কারণেই এই উল্লম্ফন ঘটেছে। তিনি জানান, চুক্তির পর জুন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতেই আমদানির বড় ধরনের বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে উড়োজাহাজ আমদানি শুরু হলে এই চিত্র আরও বদলে যাবে। তবে আমদানির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হলে এই বাণিজ্য ঘাটতি কোনো বড় সমস্যা তৈরি করবে না বলে তিনি মনে করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব: যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি দ্বিগুণের বেশি বাড়ল

আপডেট সময় : ১১:৩১:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির (এআরটি) প্রভাব বাংলাদেশের আমদানি বাণিজ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশভিত্তিক সবশেষ পণ্য আমদানির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন বা ১৮৯ কোটি ৬২ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) আমদানির পরিমাণ ছিল ৬০ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) তা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ১২৯ কোটি ৬ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় ১১৩ দশমিক ১১ শতাংশ বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, বিটুমিনসহ খনিজ জ্বালানি ও তেল থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য। এসব খাতে বাংলাদেশের ব্যয় হয়েছে ৭৭ কোটি ৫২ লাখ ডলার, যা প্রথম প্রান্তিকে ছিল মাত্র ১৩ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। এছাড়া দ্বিতীয় প্রান্তিকে অন্যান্য আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১৪ কোটি ২৬ লাখ ডলারের তুলা, ১০ কোটি ৪১ লাখ ডলারের লোহা ও ইস্পাত, ৪ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের খাদ্যশস্য (গমসহ) এবং ৭ কোটি ২৯ লাখ ডলারের সয়াবিন ও পশুখাদ্য। এর বাইরে ২ কোটি ১৯ লাখ ডলারের পরিমাপ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাসংক্রান্ত যন্ত্রপাতি, ১ কোটি ৯১ লাখ ডলারের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম এবং ১ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের প্লাস্টিক সামগ্রী আমদানি করা হয়েছে।

আমদানিকারক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, এই চুক্তির ফলে আমদানি বৃদ্ধি পাওয়াটা প্রত্যাশিতই ছিল। ভবিষ্যতে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনা শুরু হলে এই আমদানি ব্যয়ের অঙ্ক আরও বড় হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে দুটি চুক্তি সই হয়েছে, যার মধ্যে গত ৩০ এপ্রিল সই হওয়া প্রথম চুক্তিতে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার মূল্যে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার কথা বলা হয়েছে। বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা) অনুযায়ী এর মূল্য প্রায় ৪৫ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। ২০৩১ থেকে ২০৫৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এসব উড়োজাহাজ সরবরাহ করবে বোয়িং। এরপর গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কিনতে দ্বিতীয় চুক্তি সই হলেও এর আর্থিক মূল্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

বাণিজ্য চুক্তির প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর চড়া শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এর আওতায় বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপের কথা থাকলেও দরকষাকষির মাধ্যমে তা ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘ নয় মাস আলোচনার পর জাতীয় নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তি (এআরটি) সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে আরোপিত পাল্টা শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তুর মতো কাঁচামাল আমদানি করে তৈরি করা পোশাক দেশটিতে রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো পাল্টা শুল্ক না দেওয়ার শর্ত যুক্ত হয়। এর বিনিময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৭০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য, ১৫ বছরে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের জ্বালানি পণ্য এবং ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার অঙ্গীকার করে। তবে চুক্তির ১১ দিন পর ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করায় এর আইনি ভিত্তি বাতিল হয়ে যায়। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশে মার্কিন পণ্যের দ্বিতীয় শীর্ষ আমদানিকারক সিকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক মনে করেন, আমদানি বাড়ার পেছনে এই চুক্তি বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি জানান, ব্যবসায়িক লাভ এবং দেশের স্বার্থ বিবেচনা করেই তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়েছেন। মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতিশ্রুতির মান ও সরবরাহের নিশ্চয়তা অনেক বেশি এবং তাদের পণ্যের গুণগত মানও ভালো। চলমান বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে ইউক্রেনসহ কয়েকটি দেশ থেকে পণ্য আনার ক্ষেত্রে বন্দর ব্যবহারের ঝুঁকি ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা বাড়ায় তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নিয়েছেন। যদিও মার্কিন পণ্যের দাম কিছুটা বেশি, তবে ব্রাজিলের মতো দেশের তুলনায় এর গুণগত মান অনেক ভালো বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি ২২৬ কোটি থেকে ২৮৫ কোটি ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা এক লাফে ৩৫৯ কোটি ২৯ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৩২ দশমিক ১৫ শতাংশ বেশি। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, বাণিজ্য চুক্তির কারণেই এই উল্লম্ফন ঘটেছে। তিনি জানান, চুক্তির পর জুন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতেই আমদানির বড় ধরনের বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে উড়োজাহাজ আমদানি শুরু হলে এই চিত্র আরও বদলে যাবে। তবে আমদানির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হলে এই বাণিজ্য ঘাটতি কোনো বড় সমস্যা তৈরি করবে না বলে তিনি মনে করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin