উত্তাল ফ্রান্স: ট্রাম্পের মন্তব্যের বাইরেও রয়েছে গভীর সংকট
- আপডেট সময় : ১১:৪৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ফ্রান্স আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। স্কুলের সামনে অবরোধ, রাস্তায় লাখো মানুষের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং শিক্ষার্থী আটকের ঘটনায় দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ ক্রমেই অস্থির হয়ে পড়ছে। একটি শিক্ষা-সংক্রান্ত ক্ষোভ কীভাবে জাতীয় সংকটে রূপ নিতে পারে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তার বড় উদাহরণ।
এই পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ফ্রান্সের অস্থিরতার পেছনে রয়েছে নিয়ন্ত্রণহীন অভিবাসন এবং ইসলাম ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে। তবে ফরাসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং আন্দোলনকারীদের বক্তব্য ট্রাম্পের এই ব্যাখ্যার সঙ্গে মেলে না। মাঠের বাস্তবতায় অভিবাসন বা ধর্মের চেয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট, শিক্ষক-স্বল্পতা, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, স্কুল ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে তরুণদের অনিশ্চয়তাই প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে।
ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬ অক্টোবরের বিক্ষোভে প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার মানুষ অংশ নেয়। প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে বড় সমাবেশ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করছে, তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান এবং শিক্ষার সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্র উদাসীন। এই ক্ষোভ হঠাৎ তৈরি হয়নি; শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য এবং দরিদ্র এলাকার স্কুলগুলোর পিছিয়ে থাকা নিয়ে বহু বছর ধরে বিতর্ক চলছে।
অবশ্য আন্দোলনের বড় একটি অংশ শান্তিপূর্ণ হলেও কিছু এলাকায় স্কুলে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সরকার একে আইনশৃঙ্খলার সংকট হিসেবে দেখছে এবং বামপন্থী দল ‘লা ফ্রঁস ইনসুমিজ’-এর ভূমিকার সমালোচনা করছে। অন্যদিকে বামপন্থীরা বলছে, সরকার সামাজিক সমস্যার সমাধান না করে আন্দোলনকে দমনের চেষ্টা করছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে পুলিশের ভূমিকার কারণে। ৫ অক্টোবর লঁস শহরে পুলিশের বিস্ফোরক শব্দ-সৃষ্টিকারী অস্ত্রের আঘাতে ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী হাত হারায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ৭ অক্টোবর সরকার উচ্চবিদ্যালয়ের বিক্ষোভে ওই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় এবং অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে।
ট্রাম্পের বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় হলেও বর্তমান আন্দোলনের দাবির সঙ্গে তার সরাসরি কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। ফ্রান্সের বর্তমান সংকট আসলে আস্থার। তরুণ প্রজন্ম তাদের ভবিষ্যৎ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন। রাষ্ট্র তাদের কথা শুনছে কি না, সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ফ্রান্সের পরিস্থিতিকে শুধু ধর্ম বা অভিবাসনের চশমায় দেখলে সংকটের প্রকৃত স্বরূপ আড়ালে থেকে যাবে।




























