রাজশাহীর কৃষ্ণচূড়া সড়কে ফিরছে সবুজ, নতুন কুঁড়িতে প্রাণ পাচ্ছে গাছ
- আপডেট সময় : ০৯:৩২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী নগরের দায়রাপাক মোড় থেকে নাদের হাজীর মোড় পর্যন্ত সড়কটির দুই পাশে সারি সারি কৃষ্ণচূড়াগাছ। কয়েক মাস আগেও সড়কটির চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন। ওয়াসার পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের পাইপলাইন স্থাপনের কাজ করতে গিয়ে সড়কের এক পাশের প্রায় ১০০টি কৃষ্ণচূড়াগাছের ডালপালা কেটে ফেলা হয়েছিল। এতে গাছগুলো যেমন বিবর্ণ হয়ে পড়েছিল, তেমনি সড়কের সৌন্দর্যও হারিয়ে গিয়েছিল। গাছগুলো আদৌ টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে পরিবেশকর্মী ও নগরবাসীর মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
তবে গত সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, গাছগুলোর কাণ্ড ও কাটা ডাল থেকে নতুন শাখা বের হয়েছে। কোথাও নতুন ডালপালা ঘন হয়েছে, আবার কোথাও কচি পাতা গজিয়েছে। সড়কের দক্ষিণ পাশের যেসব গাছের ডাল কাটা হয়েছিল, সেগুলোতেও নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। ধীরে ধীরে সেই শূন্যতা পূরণ হতে শুরু করেছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রাজশাহী ওয়াসার পানি শোধনাগার প্রকল্পের পাইপলাইন বসানোর সময় এসব গাছের ডাল কাটা হয়। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন, ভারী পাইপ ওঠানো-নামানোর কাজে ব্যবহৃত ক্রেন চলাচলের সময় গাছের ডাল বাধা সৃষ্টি করায় সেগুলো কাটা হয়েছিল। ২০১৯ সালে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এই গাছগুলো রোপণ করেছিল। কয়েক বছরের মধ্যেই গাছগুলো বড় হয়ে সড়কের ওপর ছায়াঘেরা পরিবেশ তৈরি করেছিল।
গাছগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে স্থানীয় চা বিক্রেতা তাইজুল ইসলাম বলেন, সড়কের সৌন্দর্য দেখতে অনেক মানুষ আসতেন, ডাল কাটার পর আনাগোনা কমে গিয়েছিল। এখন গাছগুলো আবার বড় হচ্ছে, আশা করা যায় একসময় আবার ছায়া হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বলছেন, সড়কের পরিবেশ ও সৌন্দর্যের ওপর তাঁদের ব্যবসার প্রভাব নির্ভর করে।
তবে ডাল কাটার পর একটি গাছ মারা গেছে। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনও মাঝেমধ্যে গাছের ডাল কাটেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিবেশ শাখার ব্যবস্থাপক মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশনের অনুমতি ছাড়া গাছের ডাল কাটার নিয়ম নেই। বিদ্যুৎ বিভাগকে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চিঠি দিয়ে জানালে কতটুকু ডাল কাটা প্রয়োজন, তা দেখিয়ে দেওয়া সম্ভব। রাজশাহী বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমানে নতুন ডালপালা এখনো আগের মতো বিস্তৃত ছায়া তৈরি করতে পারেনি। তবুও কচি পাতা ও নতুন শাখাগুলো পুরোনো সবুজের ফিরে আসার বার্তা দিচ্ছে। নগরবাসী ও পরিবেশকর্মীদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে উন্নয়নকাজের পাশাপাশি গাছের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে এবং সমন্বয়হীনতা দূর হবে।




























