হুথিদের সামরিক চাপে কোণঠাসা সৌদি আরব, বাড়ছে যুদ্ধের ঝুঁকি
- আপডেট সময় : ০৯:১৪:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের দ্রুত সামরিক অগ্রগতি এবং সৌদি আরবের ভেতরে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা রিয়াদকে একটি বড় সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। হুথিদের এই তৎপরতা ঠেকাতে সৌদি আরবের সামনে যে বিকল্পগুলো রয়েছে, তার প্রতিটির সঙ্গেই যুক্ত রয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকি। সামরিকভাবে কঠোর জবাব দিলে তা বড় ধরনের যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে, আবার রাজনৈতিক সমাধানের পথও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে উপসাগরীয় দেশটি ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।
ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক ঝুঁকি পরামর্শক ও ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আল-বাশার মতে, পরিস্থিতির যা গতিপ্রকৃতি, তাতে সৌদি আরবের পাল্টা হামলার সম্ভাবনাই প্রবল। প্রতিদিনই সেই ঝুঁকি বাড়ছে। আল-বাশার ভাষায়, এই মুহূর্তে তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।
চলতি সপ্তাহে হুথিরা লোহিত সাগরের মুখে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ দখল করে নিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বন্দর শহর মোচার নিয়ন্ত্রণও হাতে নিয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ।
এই ঘটনার পরপরই সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে, যার ফলে পাইপলাইনটি বন্ধ হয়ে যায়। যদিও ইরাক থেকে ড্রোন হামলাটি চালানো হয়েছিল, কিন্তু কোনো পক্ষই এর দায় স্বীকার করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন। উল্লেখ্য যে, ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বেশ সক্রিয়।
হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে সৌদি আরব এই পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের ওপর আগের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পারস্য উপসাগরে অপেক্ষমাণ ট্যাংকারের দিকে সরিয়ে নেওয়া হতো। হামলার আশঙ্কার বিষয়টি গত মাসের শুরুতেই সৌদি আরব জানিয়েছিল। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছিলেন, ইরান-সমর্থিত হুথি ও ইরাকি মিলিশিয়াদের সমন্বিত একাধিক হামলার জন্য রিয়াদ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮: ৩৩আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮: ৪০



























