সবজির পর এবার ডিমের বাজারেও আগুন, ডজন ছুঁল ১৬৫ টাকা
- আপডেট সময় : ১২:৪৫:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

সবজির চড়া দামের পর এবার ডিমের বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আমিষের চাহিদা মেটাতে নিম্ন আয়ের মানুষ যে ডিমের ওপর ভরসা করতেন, তার দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা এখন চরম বিপাকে পড়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ফার্মের ডিমের ডজন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও পাড়া-মহল্লার দোকানে এক হালি ডিম কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৫৫ টাকা, যা ডজন হিসাবে দাঁড়ায় ১৬৫ টাকা।
তেজগাঁওয়ের পূর্ব নাখালপাড়া সমিতি বাজারে ডিম কিনতে আসা আলেয়া বেগম জানান, সবজির দাম বেশি হওয়ায় তারা ডিম বেশি খেতেন। কিন্তু এখন ডিমের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তার স্বামী একটি ওয়ার্কশপে দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরিতে রংমিস্ত্রির কাজ করেন, যা তাদের একমাত্র আয়। মাছ-মাংস কেনার সামর্থ্য না থাকায় ডিম ও সবজিই ছিল তাদের ভরসা। বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চার মাস আগে ডিমের ডজন ১০০ থেকে ১১০ টাকায় নামলেও পরে তা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। বর্তমানে কারওয়ান বাজার, নাখালপাড়া ও সমিতি বাজারে সাদা ডিমের ডজন ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, গত এক মাসে ডিমের দাম বেড়েছে ৩ শতাংশের বেশি।
ভোক্তাদের অভিযোগ, অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি ও অতিমুনাফার কারণেই ডিমের দাম এভাবে বাড়ছে। তবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, বছরের এই সময়ে সবজির দাম বাড়লে ডিমের চাহিদা ও দাম দুই-ই বাড়ে। ঢাকার বাজারে ডিমের একটি বড় অংশ আসে টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সারা দেশের দর নির্ধারণ করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন। কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতা সাইফুল গাজী জানান, পাইকাররা দুই দিন দাম কমিয়ে আবার তিন দিন বাড়ান, যার ফলে ডজন এখন দেড়শ টাকায় ঠেকেছে। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডিমের ডজন ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় উঠলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রতিটি ডিমের খুচরা দাম ১১ টাকা ৮৭ পয়সা (ডজন ১৪২ টাকা) নির্ধারণ করে দিয়েছিল।
এদিকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও গত এক সপ্তাহে ডিমের দাম ডজনে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় ঠেকেছে, যা সপ্তাহখানেক আগেও ১৪০ থেকে ৪৫ টাকা ছিল। বহদ্দারহাটের পাইকারি ব্যবসায়ী আহমেদ ফারুক এবং আগ্রাবাদের চৌমুহনী বাজারের বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টির পর সরবরাহ সংকটের কারণে খামারি ও আড়তদাররা দাম বাড়িয়েছেন। চট্টগ্রামে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লাখ ডিমের চাহিদা রয়েছে এবং এর বড় অংশই বাইরের জেলা থেকে আসে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত জুলাইয়ের বন্যায় এ বিভাগে ডিম উৎপাদনকারী লেয়ার মুরগিসহ ৬ হাজারের বেশি হাঁস-মুরগির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সরবরাহ সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বাজার তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো পণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের হয়রানি করছেন। গরিবের পাত থেকে ডিম কেড়ে নেওয়া এসব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ডিমের দাম ১৬০ টাকা ছাড়ানোর পর সরকার দাম বেঁধে দিতে বাধ্য হয়েছিল, অথচ এখন সেই নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি মূল্যে ডিম বিক্রি হচ্ছে।




























