তরুণদের উগ্রপন্থায় জড়ানোর নেপথ্য কারণ ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ
- আপডেট সময় : ০৮:৪৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

তরুণদের উগ্রপন্থায় জড়িয়ে পড়ার নেপথ্যে থাকা সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বোঝা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল ডিভাইসের সহজলভ্যতার কারণে উগ্রবাদী মতাদর্শ ছড়ানোর প্রক্রিয়াটি আরও সূক্ষ্ম ও জটিল রূপ নিয়েছে। অতীতে যেখানে উগ্রবাদকে কেবল মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ভাবা হতো, সেখানে বিগত কয়েক দশকে ঢাকার হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাসহ বিভিন্ন ঘটনায় দেখা গেছে যে, উচ্চ সামাজিক-অর্থনৈতিক শ্রেণির ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এতে জড়িয়ে পড়ছে।
নৃবিজ্ঞানের গবেষকদের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, উগ্রবাদীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তরুণদের লক্ষ্যবস্তু বানায়। ইসলামের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের ইতিহাস-সংবলিত বই পড়ার ছলে তরুণদের প্রথমে আকৃষ্ট করা হয় এবং পরবর্তীতে ধীরে ধীরে নিজেদের সংগঠনে ভেড়ানোর চেষ্টা চলে। তবে কেবল মতাদর্শই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একমাত্র পূর্বশর্ত নয়। অনেকে ধর্মের রাজনৈতিক প্রকাশভঙ্গি হিসেবে উগ্র চিন্তাধারায় প্রভাবিত হয়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলেও, তা যে তাকে সরাসরি সন্ত্রাসবাদের দিকে নিয়ে যাবে—এমনটি সবসময় নাও হতে পারে। তবে সামাজিক পরিসরে এই উগ্রবাদী চিন্তা ও আচরণের দৈনন্দিন প্রকাশকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
বাংলাদেশে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে একধরনের প্রতিরোধ বা ‘রেজিস্ট্যান্স’ হিসেবে উগ্রবাদী ধারণার ব্যাপক বিকাশ ঘটেছিল। তৎকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এই উগ্রপন্থা দমনের প্রচেষ্টা মূলত বৈশ্বিক ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তবে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত নতুন সরকারের ছয় মাস পার হওয়ার পরও সমাজে উগ্রপন্থী চিন্তার ধারাবাহিক প্রকাশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে এটি মূলত দুটি ধারায় দৃশ্যমান হচ্ছে।
প্রথমত, ধর্মের পিতৃতান্ত্রিক ও নেতিবাচক ব্যাখ্যার মাধ্যমে নারীর প্রতি ক্রমাগত অবমাননা এবং ভিন্ন চিন্তার মানুষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি বাউল, মাজার ও মাজারপন্থীদের ওপর হামলা ছাড়াও প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও ছায়ানটের মতো গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক চর্চাকে ইসলামবিরোধী বলে অপপ্রচার চালিয়ে সমাজে ঘৃণার বয়ান তৈরি করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি উগ্রবাদী চিন্তা উৎসাহিত করতে আল-কায়েদা ও আইএসের মতো নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত লেখকদের বই প্রকাশের হিড়িক তরুণদের মনোজগতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
দ্বিতীয়ত, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বোমা বা বোমাসদৃশ বস্তুর উপস্থিতি এবং সাভারে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের অধীনে বোমাসহ গ্রেপ্তারের ঘটনা জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগও বড় একটি আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং অ্যালায়েন্স ফর মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিসার্চ অ্যান্ড갠ালাইসিসের আহ্বায়ক বুলবুল সিদ্দিকী মনে করেন, সরকারের উচিত হবে পূর্ববর্তী সরকারের মতো ‘অস্বীকারের রাজনীতি’ না করে উগ্রবাদ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।





























