ঢাকা ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পুলিশের দাবি উন্নতি, বাস্তবে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা ও উৎকণ্ঠা পাকিস্তানে অনলাইনে যৌন নিপীড়নের ফাঁদে ১৫ লাখ শিশু গাজায় বিশ্ববাসীর নিষ্ক্রিয়তা লজ্জাজনক: জাতিসংঘে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাইবান্ধা সরকারি কলেজে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে স্থানীয়ভাবে প্রতিহত করার আহ্বান প্রিন্সের স্ত্রীর মৃত্যুর তদন্তে ঘুষ: অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার দেবিদ্বারে মাকে কুপিয়ে ও আট মাসের ভাতিজিকে আছড়ে হত্যা গুলশানে গ্রেফতার সন্দ্বীপের সাবেক আওয়ামী লীগ এমপি মিতা যশোর প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর জাতিসংঘে বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ

নারীদের জন্য মার্সী ত্রিপুরার সাপার ক্লাব: টেবিল ফর হার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৭:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সাপার ক্লাব আধুনিক নগরজীবনের এক নতুন ডাইনিং অভিজ্ঞতা, যেখানে খাবারের পাশাপাশি গল্প, আড্ডা ও নতুন মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বের সুযোগ তৈরি হয়। বর্তমানে ঢাকায় জনপ্রিয়তা পাওয়া এমন একটি উদ্যোগ হলো 'টেবিল ফর হার', যার উদ্যোক্তা মার্সী ত্রিপুরা। উত্তরার দিয়াবাড়ির একটি ফ্ল্যাটের খাবার ঘরে তিনি এই সাপার ক্লাবটি গড়ে তুলেছেন।

মার্সী ত্রিপুরা জানান, কানাডায় থাকার সময় তিনি মেয়েদের বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লাবের ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হন। ২০২৪ সালের আগস্টে দেশে ফিরে তিনি এটি শুরু করেন। তাঁর এই ক্লাবের মূল উদ্দেশ্য হলো, একই টেবিলে বসে অপরিচিত নারীরা যেন নিজেদের মনের কথা বলার সুযোগ পান। মার্সীর কুকিং ভিডিওর মাধ্যমে এই সাপার ক্লাবের ঘোষণা দেওয়ার পর দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এক হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল।

এই ক্লাবের টিমে মার্সীর সঙ্গে রয়েছেন থাংশ্রী দাংগ, পপি চাকমা ও ভিক্টোরিয়া চাকমা। তাঁদের সাপার ক্লাবের বিশেষত্ব হলো এর অন্তরঙ্গ পরিবেশ। সাধারণত আটজনের একটি দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অতিথিদের নির্বাচন প্রক্রিয়াটি বেশ কঠোর; ভিডিওর লিংকে দেওয়া ফরম পূরণ করে মেইল করার পর যাচাই–বাছাই শেষে অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রতিটি সেশনের জন্য সাধারণত চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা সময় নির্ধারিত থাকে।

এখানে কখনো পাহাড়ি, কখনো থাই বা ভিয়েতনামি খাবার পরিবেশন করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অতিথিরা আগে থেকে মেনু জানতে পারেন না। খাবার পরিবেশনের সময় প্রতিটি কোর্সের উপকরণ, উৎস ও ঐতিহ্যের বর্ণনা দেওয়া হয়, যা একে সাধারণ রেস্তোরাঁর চেয়ে আলাদা করে তোলে। মার্সী ত্রিপুরা বলেন, কোনো অতিথির নেতিবাচক মন্তব্য যেন কাউকে আঘাত না করে, সে বিষয়ে তাঁরা খুবই সতর্ক থাকেন, যাতে সবাই মানসিক প্রশান্তি নিয়ে ফিরতে পারেন।

ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে মুখোমুখি কথা বলার গুরুত্ব বাড়ায় সাপার ক্লাবের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বর্তমানে ঢাকায় আরও কয়েকটি সাপার ক্লাব গড়ে উঠেছে, যেমন 'দা সাপার পেয়ার' বা 'সুমাইয়া খান সাপার'। তবে প্রতিটি ক্লাবের নিয়ম, মেনু ও মূল্য ভিন্ন। টেবিল ফর হার-এর মতো উদ্যোগগুলো মানুষকে আবার টেবিলকেন্দ্রিক সামাজিকতায় ফিরিয়ে আনছে, যেখানে অপরিচিত মানুষরা কয়েক ঘণ্টার আড্ডায় গড়ে তোলেন নতুন সম্পর্ক।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

নারীদের জন্য মার্সী ত্রিপুরার সাপার ক্লাব: টেবিল ফর হার

আপডেট সময় : ০৫:৪৭:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাপার ক্লাব আধুনিক নগরজীবনের এক নতুন ডাইনিং অভিজ্ঞতা, যেখানে খাবারের পাশাপাশি গল্প, আড্ডা ও নতুন মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বের সুযোগ তৈরি হয়। বর্তমানে ঢাকায় জনপ্রিয়তা পাওয়া এমন একটি উদ্যোগ হলো 'টেবিল ফর হার', যার উদ্যোক্তা মার্সী ত্রিপুরা। উত্তরার দিয়াবাড়ির একটি ফ্ল্যাটের খাবার ঘরে তিনি এই সাপার ক্লাবটি গড়ে তুলেছেন।

মার্সী ত্রিপুরা জানান, কানাডায় থাকার সময় তিনি মেয়েদের বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লাবের ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হন। ২০২৪ সালের আগস্টে দেশে ফিরে তিনি এটি শুরু করেন। তাঁর এই ক্লাবের মূল উদ্দেশ্য হলো, একই টেবিলে বসে অপরিচিত নারীরা যেন নিজেদের মনের কথা বলার সুযোগ পান। মার্সীর কুকিং ভিডিওর মাধ্যমে এই সাপার ক্লাবের ঘোষণা দেওয়ার পর দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এক হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল।

এই ক্লাবের টিমে মার্সীর সঙ্গে রয়েছেন থাংশ্রী দাংগ, পপি চাকমা ও ভিক্টোরিয়া চাকমা। তাঁদের সাপার ক্লাবের বিশেষত্ব হলো এর অন্তরঙ্গ পরিবেশ। সাধারণত আটজনের একটি দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অতিথিদের নির্বাচন প্রক্রিয়াটি বেশ কঠোর; ভিডিওর লিংকে দেওয়া ফরম পূরণ করে মেইল করার পর যাচাই–বাছাই শেষে অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রতিটি সেশনের জন্য সাধারণত চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা সময় নির্ধারিত থাকে।

এখানে কখনো পাহাড়ি, কখনো থাই বা ভিয়েতনামি খাবার পরিবেশন করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অতিথিরা আগে থেকে মেনু জানতে পারেন না। খাবার পরিবেশনের সময় প্রতিটি কোর্সের উপকরণ, উৎস ও ঐতিহ্যের বর্ণনা দেওয়া হয়, যা একে সাধারণ রেস্তোরাঁর চেয়ে আলাদা করে তোলে। মার্সী ত্রিপুরা বলেন, কোনো অতিথির নেতিবাচক মন্তব্য যেন কাউকে আঘাত না করে, সে বিষয়ে তাঁরা খুবই সতর্ক থাকেন, যাতে সবাই মানসিক প্রশান্তি নিয়ে ফিরতে পারেন।

ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে মুখোমুখি কথা বলার গুরুত্ব বাড়ায় সাপার ক্লাবের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বর্তমানে ঢাকায় আরও কয়েকটি সাপার ক্লাব গড়ে উঠেছে, যেমন 'দা সাপার পেয়ার' বা 'সুমাইয়া খান সাপার'। তবে প্রতিটি ক্লাবের নিয়ম, মেনু ও মূল্য ভিন্ন। টেবিল ফর হার-এর মতো উদ্যোগগুলো মানুষকে আবার টেবিলকেন্দ্রিক সামাজিকতায় ফিরিয়ে আনছে, যেখানে অপরিচিত মানুষরা কয়েক ঘণ্টার আড্ডায় গড়ে তোলেন নতুন সম্পর্ক।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo