জাতি গঠনে যুগোপযোগী শিক্ষা ও আদর্শ শিক্ষকের গুরুত্ব অপরিসীম
- আপডেট সময় : ০১:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

সুশিক্ষিত, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও নৈতিকতাসম্পন্ন জাতি গঠনের মূল চাবিকাঠি হলো যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা এবং আদর্শ শিক্ষক। একটি জাতির সংস্কৃতি, চিন্তাধারা ও নৈতিক মানদণ্ড মূলত শিক্ষকের মাধ্যমেই বিকশিত হয়। বর্তমান সময়ে শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধাবোধের অভাব এবং পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি সমাজকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই বহুমুখী সমস্যার সমাধান খোঁজা এখন রাষ্ট্রীয় ও নৈতিক দায়বদ্ধতা।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে চিরাচরিত মুখস্থনির্ভর শিক্ষা এবং সনদসর্বস্ব মূল্যায়ন পদ্ধতি স্থবিরতা তৈরি করেছে। শিক্ষাকে কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিজ্ঞানমনস্কতা, প্রায়োগিক দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং নৈতিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। যে শিক্ষা কেবল জীবিকা অর্জন শেখায় কিন্তু মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে না, তা টেকসই রাষ্ট্র গঠনে ব্যর্থ।
শিক্ষাক্রমের আধুনিকায়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের মানদণ্ড পুনর্নির্ধারণ করা জরুরি। আদর্শ শিক্ষক কেবল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে পরিমাপযোগ্য নন; জ্ঞান, চরিত্র, ধৈর্য ও মানবিকতা তাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। শিক্ষকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, যাতে তারা নিশ্চিন্তে মেধার সেরা অংশটুকু শ্রেণিকক্ষে প্রদান করতে পারেন। এছাড়া বাণিজ্যিক কোচিং ও প্রাইভেট পড়ানোর সংস্কৃতি শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তিকে দুর্বল করছে, যা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক সময়ে 'মব জাস্টিস' বা দলবদ্ধ বিচারহীনতার সংস্কৃতি এক ভয়ংকর প্রবণতা হিসেবে দেখা দিয়েছে। শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে তার সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব ছাত্র বা জনতার নয়, বরং আইন ও প্রশাসনের। অভিযোগ মানেই প্রমাণিত অপরাধ নয়; যথাযথ তদন্ত ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে বিচারকের আসনে বসে যাওয়া সভ্য সমাজের লক্ষণ নয়। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।
পরিশেষে, একটি মানবিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণের আন্দোলন শুরু হতে হবে শিক্ষক গড়ার মাধ্যমে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন প্রজন্ম তৈরি করা, যারা শিক্ষিত হবে কিন্তু অহংকারী হবে না, প্রশ্ন করবে কিন্তু অশ্রদ্ধা করবে না, অধিকার সচেতন হবে কিন্তু দায়িত্ব ভুলবে না। শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা এবং আইনের শাসন বজায় রাখার মাধ্যমেই একটি আলোকিত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।





























