সিরাজগঞ্জের মুনসুমি গ্রামে জলাবদ্ধতায় ৩শ’ বিঘা জমি চাষাবাদহীন
- আপডেট সময় : ১০:২৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মুনসুমি গ্রামে পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে প্রায় ৩শ’ বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে আছে। এই সমস্যার কারণে কৃষকরা তাদের তিন ফসলি জমিতে নিয়মিত চাষাবাদ করতে পারছেন না, ফলে জমিগুলো এখন এক ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুনসুমি গ্রামে কৃষকসহ বিভিন্ন পেশার প্রায় ৫ হাজার মানুষের বসবাস। গ্রামের দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে সাটিকাবাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত এই ৩শ’ বিঘা জমিটি ভৌগোলিকভাবে গ্রামের পূর্বে চন্দ্রকোণা এবং পশ্চিমে বহুলী নামক দুটি আঞ্চলিক নদীর মাঝখানে অবস্থিত।
দীর্ঘমেয়াদী এই জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছর জুন থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত জমিগুলো পানির নিচে থাকে। ভারী বর্ষণের সময় গ্রামের কিছুটা নিচু এলাকায় পানি জমে যাওয়ার পর তা নিষ্কাশনের কোনো পথ না থাকায় প্রতিবছর একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে। কৃষক আনোয়ার মাস্টারসহ স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, জলাবদ্ধতার ফলে জমিগুলোতে কস্তুরি ও কচুরিপানাসহ বিভিন্ন আবর্জনা জমে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। যথাযথ ব্রিজ বা কালভার্টের অভাবে পানি স্বাভাবিকভাবে নামতে পারে না, যার ফলে কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জলাবদ্ধতার প্রভাব কেবল কৃষিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও বর্তমানে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য গ্রামের উত্তরে পাকা সড়কের মোড় থেকে পশ্চিম দিকে একটি নতুন পাকা সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের জন্য কালভার্ট বা ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হলেও এবং কর্মকর্তারা সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে খোকশাবাড়ি ও বহুলী ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যানদের অবহেলাকেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন গ্রামবাসী। দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতা নিরসন করে কৃষকদের চাষাবাদের সুযোগ ফিরিয়ে দিতে তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।





























