শিগগিরই আসছে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, চলছে শেষ মুহূর্তের যাচাই-বাছাই
- আপডেট সময় : ১১:০৮:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে। দুই বছর মেয়াদি কমিটির মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হওয়ার পর থেকে সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়টি সামনে আসে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের যাচাই-বাছাই শেষে যে কোনো সময় এই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।
সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনসহ শীর্ষ নেতারা বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এটি ছিল বিদায়ী সাক্ষাতের অংশ, যেখানে নতুন নেতৃত্বের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তারেক রহমান বর্তমান নেতাদের কাছ থেকে পরবর্তী নেতৃত্ব সম্পর্কে মতামত নিয়েছেন এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এবারের কমিটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি সম্ভাব্য প্রার্থীর বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। এর ফলে অতীতে ছাত্রদল কমিটি গঠনে প্রভাব বিস্তারকারী তথাকথিত ‘সিন্ডিকেট’ বা কোনো গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বললেই চলে। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়েই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হচ্ছে।
নতুন কমিটির শীর্ষ পদের জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অন্তত ১৫ জন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির দুই নম্বর সহসভাপতি এ বি এম ইজাজুল কবির (রুয়েল), সহসভাপতি মনজুরুল আলম (রিয়াদ), সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম (জিসান), ইব্রাহিম খলিল ও রাজু আহমেদ উল্লেখযোগ্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, এক নম্বর সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার (অনিক), জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন (শাওন) এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খানের নামও শোনা যাচ্ছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি খোরশেদ আলম (সোহেল), এইচ এম আবু জাফর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম (তারিক), ফারুক আহমেদ ও শরীফ প্রধান (শুভ) এবং সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ (প্রিন্স) নিয়েও আলোচনা আছে।
নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রার্থীর আন্দোলনের ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, শিক্ষাজীবন এবং অতীত কর্মকাণ্ডকে বড় মানদণ্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ প্রতিকূল সময়ে কে মামলার শিকার হয়েছেন, কে গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে কার ভূমিকা কেমন ছিল—তা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা, সারা দেশে যোগাযোগ এবং প্রাঞ্জল বক্তৃতার সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে শীর্ষ দুই নেতৃত্বই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন জানান, দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান রাখা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার সক্ষমতা সম্পন্ন নেতারাই নতুন কমিটিতে জায়গা পাবেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১ মার্চ বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে তারা দায়িত্ব পালন করছেন। অতীতে ১৯৯২ বা ২০১৯ সালে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে কমিটি নির্বাচিত হলেও এবার কাউন্সিল বা ভোটের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, বরং মনোনয়নের মাধ্যমেই নেতৃত্ব চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়েও আলোচনা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য আলোচনায় আছেন বিজয় একাত্তর হল শাখার আহ্বায়ক তানভীর আল হাদী (মায়েদ), কবি জসীমউদ্দীন হল শাখার আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী (হামিম), বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান (বিজয়), বি এম কাউসার ও মো. আল আমীন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হায়াৎ মো. জুলফিকার জিসান, প্রচার সম্পাদক তানভীর হাসান, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান এবং আপ্যায়ন সম্পাদক আরিফুল ইসলাম।
১১৭টি সাংগঠনিক শাখার ৫৩৪ কাউন্সিলরের মধ্যে ৪৮১ জন ভোট দেন।





























