ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: হাসিনা-কেন্দ্রিক রাজনীতির ঊর্ধ্বে ওঠার আহ্বান
- আপডেট সময় : ০৫:৩৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বর্তমানে এক বিশেষ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। সম্পর্কের ওঠানামা অনেকটা সাপলুডো খেলার মতো, যেখানে ভরসার জায়গা তৈরির আগেই অবিশ্বাসের দেয়াল তৈরি হয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার বিদায় পরবর্তী সময়ে ভারত-বিরোধী মনোভাব বাংলাদেশে বেশ প্রবল। তবে এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান এখন পর্যন্ত এমন কোনো পদক্ষেপ নেননি বা বক্তব্য দেননি, যা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর। বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তিনি অনেক বেশি পরিণত হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতও এই বাস্তবতা স্বীকার করে তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যক্তিগত চিঠিও পাঠিয়েছেন।
নয়াদিল্লি এবং ঢাকা উভয়ই অবগত যে, সম্পর্কের উন্নতির জন্য ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন একটি বড় চাবিকাঠি। হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নেওয়ার পর ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা একটি ইতিবাচক দিক। তবে বর্তমানে ঢাকার কাছে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হলো ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান। যদিও ভারত হাসিনাকে ঢাকার হাতে তুলে দেবে না, তবুও ঢাকা চায় ভারত নিশ্চিত করুক যেন হাসিনা কোনো রাজনৈতিক উসকানি বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা না করেন। বিশেষ করে ৫ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসিনার অডিও বার্তা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে বাংলাদেশ সরকার বেশ ক্ষুব্ধ।
ভারত বারবার স্পষ্ট করেছে যে, হাসিনার ব্যক্তিগত বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তারা তা অনুমোদন করে না। বিদেশ মন্ত্রণালয় এমনকি বর্তমান বাংলাদেশ সরকারকে ‘ডিউলি ইলেকটেড গভর্নমেন্ট’ বা বৈধভাবে নির্বাচিত সরকার হিসেবেও অভিহিত করেছে, যা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। তবুও কিছু মহল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘ব্রিক্স’ শীর্ষ সম্মেলনে না যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে, যা তারেকের কূটনৈতিক বিচক্ষণতার অভাব হিসেবেই গণ্য হবে।
১০ আগস্টের বৈঠকে দীনেশ ত্রিবেদী তারেক রহমানের সাথে আলোচনায় বসেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল ভুল বোঝাবুঝি দূর করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্ককে স্রেফ হাসিনা-কেন্দ্রিক করে রাখলে কোনো লাভ নেই। দুই দেশ একে অপরের পরিপূরক এবং এই حقیقتটি রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুধাবন করা প্রয়োজন। কূটনীতিতে সংলাপই মূল চাবিকাঠি, তাই ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক আসরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।



























