তারুণ্যের শক্তি ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার আহ্বান
- আপডেট সময় : ১২:৪৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

একটি দেশের বর্তমানকে গতিশীল ও ভবিষ্যৎকে সমৃদ্ধ করার প্রধান চালিকাশক্তি হলো তারুণ্যের শক্তি, সাহস ও উদ্ভাবনী চিন্তা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণদের অধিকার, সমস্যা এবং সমাজে তাদের অবদানকে গুরুত্ব দিতে প্রতিবছর ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত হয়। ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এই দিবসটির ঘোষণা দেয় এবং ২০০০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী এটি উদযাপিত হয়ে আসছে। দিবসটি তরুণদের ক্ষমতায়ন ও তাদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান জানায়।
তরুণরা যেকোনো দেশের সবচেয়ে কর্মক্ষম ও সম্ভাবনাময় অংশ। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ই-কমার্স ও স্টার্টআপের মতো নতুন ক্ষেত্রগুলোতে তরুণরা নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছে। এর পাশাপাশি খেলাধুলা, সাহিত্য, সংগীত ও চলচ্চিত্রেও তাদের সাফল্য দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। বাংলাদেশকেও যদি একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশে পরিণত করতে হয়, তবে এই বিশাল তরুণ সমাজকে দক্ষ ও কর্মমুখী মানবসম্পদে রূপান্তর করা জরুরি। এটি একদিকে যেমন বেকারত্ব কমাবে, অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করবে।
সম্ভাবনার পাশাপাশি বর্তমান তরুণদের সামনে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও উপযুক্ত কর্মসংস্থানের অভাব এবং শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের দক্ষতার অমিল একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এছাড়া মাদকাসক্তি, কিশোর গ্যাং, অপরাধপ্রবণতা, সামাজিক বৈষম্য, অনলাইন আসক্তি এবং মানসিক হতাশাও অনেক তরুণের জীবনকে বাধাগ্রস্ত করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং ভুল তথ্যের প্রভাব তরুণদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।
এই পরিস্থিতি উত্তরণে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুধু পরীক্ষার ভালো ফলাফলের দিকে নজর না দিয়ে বাস্তব দক্ষতা, কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, যোগাযোগ দক্ষতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটাতে হবে। তরুণদের এমন শিক্ষা দিতে হবে যা তাদের বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলবে। একই সঙ্গে তাদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের শিক্ষা দেওয়া জরুরি।
তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম বড় দায়িত্ব। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একজন তরুণ উদ্যোক্তা নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন, যা দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।
সামাজিক পরিবর্তন ও মানবিক সমাজ গঠনেও তরুণদের ভূমিকা অপরিসীম। পরিবেশ রক্ষা, রক্তদান, দারিদ্র্য বিমোচন ও দুর্যোগ মোকাবিলার মতো স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে তরুণদের শক্তিকে কাজে লাগানো যায়। তাদের মধ্যে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করা প্রয়োজন। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও দেশের নেতৃত্ব। তরুণদের স্বপ্ন দেখার এবং ভুল থেকে শেখার সুযোগ দিয়ে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে তারাই গড়ে তুলতে পারে একটি বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ।





























