এসএসসি ফল প্রকাশের পর তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু

- আপডেট সময় : ১২:০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিন রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও চাঁদপুরে তিন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার খবর শুনে প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীরা ফলাফল জানার পরপরই চরম হতাশায় এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার এক শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার খবর জানার পর বেলা দেড়টার দিকে সে নিজ ঘরে গিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তার বাবা কাঞ্চন কুমার জানান, মেয়েটি পড়াশোনায় বেশ ভালো ছিল। বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সাত্তার জানান, ৩২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬ জন পাস করেছে এবং ওই ছাত্রী মেধাবী ছিল।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে আরও এক শিক্ষার্থী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। দুপুরে ফলাফল প্রকাশের পর সে জানতে পারে যে অন্য সব বিষয়ে পাস করলেও ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়েছে। বিষপানের পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শিবগঞ্জ থানার ওসি মতিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহরিনা ইসলাম জানান, বেলা ২টা ৪০ মিনিটে তাকে হাসপাতালে আনা হয়, কিন্তু এর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
এদিকে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক ছাত্রী অকৃতকার্য হওয়ার খবর শুনেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। দুপুর ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। তার চাচা ইকবাল হোসেন জানান, পরীক্ষার ফল জানার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শাহরাস্তি থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান, ফল শোনার পর মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে এবং পুলিশ এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখছে।
এসব মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শফিউল আজম বলেন, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেই জীবনের সব শেষ হয়ে যায় না। তিনি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কথা উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের ত্রুটির বলি হচ্ছে অল্প বয়সের আবেগপ্রবণ শিক্ষার্থীরা এবং এর দায় সমাজেরও রয়েছে।


























