মেয়ে থেকে ছেলে হওয়া সেই কবিরের এসএসসি জয়, পেলেন ‘এ’ গ্রেড
- আপডেট সময় : ১২:০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শারীরিক পরিবর্তনের মাধ্যমে মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত হওয়া সেই এসএসসি পরীক্ষার্থী আব্দুর রহমান কাবির দেওয়ান জিপিএ ৪.৫৬ (এ গ্রেড) পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নেওয়া এই শিক্ষার্থীর সাফল্যে এলাকায় আনন্দের পাশাপাশি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই নতুন পরিচয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখা কাবিরকে দেখতে তার বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক মানুষ।
কাবিরের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বেলতলা এলাকার কাইয়ুম দেওয়ান ও কণিকা ইসলামের সন্তান তিনি। বর্তমানে তারা সপরিবারে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের কামরাঙ্গীচালা এলাকায় শহীদের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নথিপত্র ও জন্মসূত্রে আগে তার নাম ছিল কেয়া আক্তার। এই নামেই তিনি স্থানীয় ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুল থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে শারীরিক পরিবর্তনের পর পরিবারের সিদ্ধান্তে তার বর্তমান নাম রাখা হয়েছে আব্দুর রহমান কাবির দেওয়ান।
সোমবার ফল প্রকাশের পর থেকেই কালিয়াকৈরের কামরাঙ্গীচালা এলাকায় কাবিরদের ভাড়া বাসায় দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন। গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সার্বক্ষণিক আনাগোনায় পরিবারটি ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। উৎসুক জনতার ভিড় এড়াতে বাড়ির গেট বন্ধ করেও লোকজনের আনাগোনা থামানো যাচ্ছে না।
শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়ে কাবিরের মা কণিকা ইসলাম জানান, ২০২৫ সালের শেষের দিকে তার সন্তানের শরীরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। শুরুতে বিষয়টি তারা নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। পরে কণ্ঠস্বরসহ অন্যান্য শারীরিক পরিবর্তনগুলো আরও স্পষ্ট হলে আশপাশের মানুষের মনে কৌতুহল ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে বিভিন্ন মেডিকেল পরীক্ষা-পরীক্ষার মাধ্যমে তারা বিষয়টি নিশ্চিত হন।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আব্দুর রহমান কাবির দেওয়ান বলেন, "আমি আমার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ভালো হয়েছে। ভবিষ্যতে একটি ভালো চাকরি করে পরিবার ও দেশের কল্যাণে কাজ করতে চাই।"
ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানান, "কয়েক দিন আগে আমরা জানতে পারি যে আমাদের এই শিক্ষার্থী মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত হয়েছে। এতদিন সে আমাদের স্কুলে কেয়া নামেই পড়াশোনা করেছে। এখন তার নাম কবির দেওয়ান রাখা হয়েছে। সে এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।"
এলাকাজুড়ে এ নিয়ে নানা আলোচনা চললেও পরিবারের সদস্যরা কাবিরের শিক্ষা, ভবিষ্যৎ এবং একটি স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবনযাপন নিশ্চিত করাকেই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।




























