ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অপতথ্য ও এআইয়ের অপব্যবহার রোধে বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২০৩৬ জন বোয়িং কেনায় কোনো গোপন এজেন্ডা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এশিয়ান গেমসে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ শেরপুরে ব্রক্ষপুত্র নদ থেকে যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার লালমোহনে দুর্গোৎসব ও সরকারি সেবামূলক কার্যক্রম নিয়ে প্রশাসনের সভা মিয়ানমারে বাজারে বিমান হামলা, নিহত অন্তত ৩৩ ২২টি লাইসেন্সবিহীন অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে লেনদেন না করার সতর্কবার্তা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএসসিসিতে ১২ দিনব্যাপী এডিস মশার লার্ভা জরিপ শুরু পাবনায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালিত

গাজায় ৩০০ দিনের কথিত যুদ্ধবিরতিতে প্রাণ হারাল অন্তত ৩০০ শিশু

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:২৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, গাজায় কথিত যুদ্ধবিরতির প্রায় ৩০০ দিনে অন্তত ৩০০ শিশু নিহত হয়েছে। এর মানে হলো, এই দীর্ঘ সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় একজন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে আরও শত শত শিশু আহত হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থাই অত্যন্ত গুরুতর।

ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক এদুয়ার বেইগবেদার বলেন, যে যুদ্ধবিরতিতে প্রতিদিন গড়ে একজন শিশু নিহত হয়, তা শিশুদের জন্য এক প্রকার ব্যর্থতা। তিনি আরও বলেন, গাজার শিশুরা এখনো সেই সহিংসতার অবসানের অপেক্ষায় রয়েছে, যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানায়।

ইউনিসেফের তথ্যমতে, গাজার পরিবারগুলো বর্তমানে উপত্যকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন, ধ্বংসস্তূপ এবং অপসারণ না করা বর্জ্যের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও শিশুরা তীব্র অপুষ্টি, রোগব্যাধি, অনিরাপদ পানি ও ক্ষতিগ্রস্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইনকিউবেটরের তীব্র সংকটের কারণে অনেক অপরিণত নবজাতককে একই যন্ত্র ভাগ করে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

অঞ্চলটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইউনিসেফের হিসাবে, গাজায় ৫৮ হাজারের বেশি শিশু তাদের বাবা অথবা মা কিংবা উভয়কেই হারিয়েছে। প্রায় ১৭ হাজার শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন বা অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। সংস্থাটি একে বিশ্বের অন্যতম বড় শিশু সুরক্ষা সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছে। এছাড়া ১০ লাখের বেশি শিশুর সুরক্ষা ও মানসিক সহায়তা প্রয়োজন।

যুদ্ধের ভয়াবহতায় বহু পরিবার বারবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। সেই সঙ্গে আয় হারানো, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সীমিত সুযোগ এবং নিরাপত্তাহীনতা শিশুদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট পশ্চিম গাজা সিটিতে এক হামলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি অনাগত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই একই হামলায় এক গর্ভবতী নারী, তার স্বামী এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী সন্তান নিহত হন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় ৩০০ দিনের কথিত যুদ্ধবিরতিতে প্রাণ হারাল অন্তত ৩০০ শিশু

আপডেট সময় : ০২:২৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, গাজায় কথিত যুদ্ধবিরতির প্রায় ৩০০ দিনে অন্তত ৩০০ শিশু নিহত হয়েছে। এর মানে হলো, এই দীর্ঘ সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় একজন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে আরও শত শত শিশু আহত হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থাই অত্যন্ত গুরুতর।

ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক এদুয়ার বেইগবেদার বলেন, যে যুদ্ধবিরতিতে প্রতিদিন গড়ে একজন শিশু নিহত হয়, তা শিশুদের জন্য এক প্রকার ব্যর্থতা। তিনি আরও বলেন, গাজার শিশুরা এখনো সেই সহিংসতার অবসানের অপেক্ষায় রয়েছে, যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানায়।

ইউনিসেফের তথ্যমতে, গাজার পরিবারগুলো বর্তমানে উপত্যকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন, ধ্বংসস্তূপ এবং অপসারণ না করা বর্জ্যের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও শিশুরা তীব্র অপুষ্টি, রোগব্যাধি, অনিরাপদ পানি ও ক্ষতিগ্রস্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইনকিউবেটরের তীব্র সংকটের কারণে অনেক অপরিণত নবজাতককে একই যন্ত্র ভাগ করে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

অঞ্চলটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইউনিসেফের হিসাবে, গাজায় ৫৮ হাজারের বেশি শিশু তাদের বাবা অথবা মা কিংবা উভয়কেই হারিয়েছে। প্রায় ১৭ হাজার শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন বা অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। সংস্থাটি একে বিশ্বের অন্যতম বড় শিশু সুরক্ষা সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছে। এছাড়া ১০ লাখের বেশি শিশুর সুরক্ষা ও মানসিক সহায়তা প্রয়োজন।

যুদ্ধের ভয়াবহতায় বহু পরিবার বারবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। সেই সঙ্গে আয় হারানো, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সীমিত সুযোগ এবং নিরাপত্তাহীনতা শিশুদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট পশ্চিম গাজা সিটিতে এক হামলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি অনাগত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই একই হামলায় এক গর্ভবতী নারী, তার স্বামী এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী সন্তান নিহত হন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy