ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৪৯১ জন গ্রেপ্তার, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার ইউরোপে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ নেপাল সীমান্তে বন্যা ও ভূমিধসের নতুন ঝুঁকি, উদ্ধার অভিযান স্থগিত চীনের আগামী ৫ দিন দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা, কমবে গরম আশুলিয়ায় পত্রিকার সাইনবোর্ডের আড়ালে নকল কনডম তৈরির কারখানায় অভিযান সেপ্টেম্বরে নয়, জানুয়ারিতে হতে পারে ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন নরওয়ের রাজা হারাল্ড নেপালের ভয়াবহ বন্যা: বাংলাদেশের কাপ্তাই বাঁধের জন্য কি সতর্কবার্তা? গোয়াইনঘাটে ২৬ কোটির মহাসড়ক নির্মাণে বাধা ৯০ গাছ মধুমতি নদীর ভাঙনে দিশেহারা বোয়ালমারীর লংকারচর নীচুপাড়ার বাসিন্দারা

আগৈলঝাড়া থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ এসোসিয়েশনের নিন্দা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৯:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় এক আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে চালানো হামলা, ভাঙচুর এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন। শুক্রবার (১০ জুলাই) সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৮ জুলাই চুরির মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন এবং হাজতে থাকা অবস্থায় নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে আহত হন। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৯ জুলাই রিয়াজ ফকির মারা গেছেন—এমন একটি গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভিত্তিহীন গুজবের জের ধরে কয়েকশ মানুষ থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর চালায় এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ অনেকে আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করতে হয়। পুলিশ পরবর্তীতে নিশ্চিত করে যে, রিয়াজ ফকির তখন জীবিত ছিলেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন এই ঘটনাকে ‘মব সংস্কৃতি’র উদ্বেগজনক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, অসুস্থ আসামির চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে পুলিশ মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে, অথচ একটি ভিত্তিহীন গুজবের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংগঠনটি মনে করে, গুজব ও উসকানির মাধ্যমে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের হুমকি।

বিবৃতিতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাচাই না করে গুজবে বিশ্বাস করা উচিত নয়। কোনো অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। সহিংসতা বা ভাঙচুর কোনো সমস্যার সমাধান নয়, বরং এটি নতুন অপরাধের জন্ম দেয়। পরিশেষে, বাংলাদেশ পুলিশ দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেশাদারিত্ব ও ধৈর্যের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে বলে সংগঠনটি পুনর্ব্যক্ত করে এবং গুজব ও উসকানির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

আগৈলঝাড়া থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ এসোসিয়েশনের নিন্দা

আপডেট সময় : ০৭:৪৯:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় এক আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে চালানো হামলা, ভাঙচুর এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন। শুক্রবার (১০ জুলাই) সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৮ জুলাই চুরির মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন এবং হাজতে থাকা অবস্থায় নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে আহত হন। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৯ জুলাই রিয়াজ ফকির মারা গেছেন—এমন একটি গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভিত্তিহীন গুজবের জের ধরে কয়েকশ মানুষ থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর চালায় এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ অনেকে আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করতে হয়। পুলিশ পরবর্তীতে নিশ্চিত করে যে, রিয়াজ ফকির তখন জীবিত ছিলেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন এই ঘটনাকে ‘মব সংস্কৃতি’র উদ্বেগজনক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, অসুস্থ আসামির চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে পুলিশ মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে, অথচ একটি ভিত্তিহীন গুজবের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংগঠনটি মনে করে, গুজব ও উসকানির মাধ্যমে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের হুমকি।

বিবৃতিতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাচাই না করে গুজবে বিশ্বাস করা উচিত নয়। কোনো অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। সহিংসতা বা ভাঙচুর কোনো সমস্যার সমাধান নয়, বরং এটি নতুন অপরাধের জন্ম দেয়। পরিশেষে, বাংলাদেশ পুলিশ দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেশাদারিত্ব ও ধৈর্যের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে বলে সংগঠনটি পুনর্ব্যক্ত করে এবং গুজব ও উসকানির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh