সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন মালিক-চালক ও যাত্রীর সম্মিলিত সচেতনতা
- আপডেট সময় : ১২:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬, ১২: ৩৩ | আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ১২: ৩৫
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ঈদযাত্রার মতো উৎসবের সময়গুলোতে কয়েক দিনের ব্যবধানে ঝরে যায় শত শত প্রাণ। অথচ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সারা বছর সড়ক দুর্ঘটনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব।
উৎসবের মৌসুমে কোটি মানুষের স্থানান্তরের সময় পরিবহন খাতে এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। অধিক মুনাফার আশায় মালিকরা চালকদের ওপর অতিরিক্ত ট্রিপের চাপ সৃষ্টি করেন, যার ফলে ক্লান্ত চালকের আসনে অনেক সময় হেল্পারকে বসতে দেখা যায়। এই অব্যবস্থাপনার সাথে যুক্ত হয়েছে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালকের দৌরাত্ম্য। নির্দিষ্ট সময় পর গাড়ি মেরামত বা চালক পরিবর্তনের সংস্কৃতি আমাদের গণপরিবহন ব্যবস্থায় এখনো গড়ে ওঠেনি। অধিক মুনাফার লোভে সিটি সার্ভিসের বাস দূরপাল্লার রাস্তায় নামানোর ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
যাত্রীদের অসচেতনতাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। নির্দিষ্ট স্টপেজে ওঠা-নামা না করে চলন্ত গাড়িতে ঝুঁকি নিয়ে ওঠা, রাস্তা পার হওয়ার সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা এবং ফুটপাত দখলের মতো বিষয়গুলো প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, চালকরাও দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর ফলে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং অনেক সময় মাদকের জালে জড়িয়ে পড়েন। সামাজিক মর্যাদার অভাব এবং কর্মক্ষেত্রে সৌজন্যবোধের অনুপস্থিতিও তাদের পেশাদারিত্ব নষ্ট করছে।
সড়কে প্রাণরক্ষা শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন মালিক, চালক ও যাত্রীর সম্মিলিত সচেতনতা। চালকদের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করা জরুরি। উন্নত বিশ্বের মতো বায়োমেট্রিক বা স্মার্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে চালকের ডিউটি মনিটরিং করা যেতে পারে, যেখানে দিনে সর্বোচ্চ ১০ ঘণ্টা গাড়ি চালানোর সীমা থাকবে। এছাড়া চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ, আলাদা পোশাক ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের পাশাপাশি যাত্রীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। নির্দিষ্ট স্টপেজ থেকে গাড়িতে ওঠা ও নামার অভ্যাসের পাশাপাশি চালকের প্রতি সৌজন্যমূলক আচরণ গড়ে তোলা জরুরি। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধে লাইসেন্স ও রুট পারমিট বাতিলের মতো কঠোর আইন প্রয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। মালিক, চালক ও যাত্রী সবাই নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার বন্ধনে আবদ্ধ হলেই নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং উৎসবের আনন্দ শোকে পরিণত হবে না।




























