ঢাকা ০২:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্বকাপ বিজয়ীদের জন্য ফিফা চালু করছে বিশেষ চ্যাম্পিয়নশিপ রিং সিরিয়ায় মার্কিন কমান্ড সেন্টারে ইরানের আকস্মিক হামলা মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব দিল ইরান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ বন্যায় ঘরহারা দুই বৃদ্ধার আশ্রয় নিয়ে দুশ্চিন্তা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন মালিক-চালক ও যাত্রীর সম্মিলিত সচেতনতা ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে রেফারি হিসেবে থাকছেন স্লাভকো ভিনচিচ বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে বাজারে সবজি, মুরগি ও ডিমের দাম চড়া পুঁজিবাজারের উন্নয়নে অংশীজনদের সঙ্গে বিএসইসির মতবিনিময় ঢাকায় বৃষ্টির দিনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর লিয়েন্ডার হওয়ার গল্প বায়ুদূষণে দেশে প্রতিদিন অকালমৃত্যু ২৪২ জনের

বন্যায় ঘরহারা দুই বৃদ্ধার আশ্রয় নিয়ে দুশ্চিন্তা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০১:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মালামাল ভর্তি কয়েকটি বস্তা, পুরোনো হাঁড়ি-পাতিল আর কিছু কাপড়চোপড় নিয়ে বান্দরবান সদরের উজানীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসে আছেন ৬৫ বছর বয়সী পাইনুচিং মারমা এবং ৬০ বছর বয়সী গীতা বড়ুয়া। বন্যার পানি কমায় আশ্রয়কেন্দ্রের অন্য পরিবারগুলো বাড়ি ফিরতে শুরু করলেও, ঘরহারা এই দুই বৃদ্ধা কোথায় যাবেন, তা নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রটি ছেড়ে দিতে বলায় তাঁদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।

সাঙ্গু নদের তীরে পাশাপাশি দুটি ঘরে ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে বসবাস করতেন তাঁরা। পাইনুচিং মারমার ঘরটি বন্যায় পুরোপুরি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ২০২৩ সালে স্বামী হারানো পাইনুচিংয়ের জন্য এই ঘরটিই ছিল শেষ সম্বল। বর্তমানে তাঁর কাছে থাকা আট কেজি চালও প্রায় শেষ। তিনি জানান, নতুন করে ঘর করার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁর নেই। একই অবস্থা গীতা বড়ুয়ারও, যার স্বামী ১৭ বছর আগে মারা গেছেন। তাঁর বড় ছেলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং ছোট ছেলে উচ্চমাধ্যমিকে পড়ছে। বন্যার স্রোতে তাঁর ঘরটি দুমড়েমুচড়ে গেছে, যা মেরামত ছাড়া বসবাসযোগ্য নয়।

গত ৭ জুলাই নদীর পানি বাড়লে তাঁরা আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেন। স্থানীয়দের তথ্যমতে, ৯ জুলাই পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে পাইনুচিংয়ের ঘর ভেসে যায় এবং গীতার ঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতদিন পৌরসভার দেওয়া খাবার খেয়ে চললেও এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তিংম্যায়ী মারমা জানিয়েছেন, এই দুই বৃদ্ধার অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে তাঁদের আরও পাঁচ দিন থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌরসভার প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক জানান, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে এবং এই দুই বৃদ্ধার আবাসনের বিষয়ে কী করা যায়, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

বন্যায় ঘরহারা দুই বৃদ্ধার আশ্রয় নিয়ে দুশ্চিন্তা

আপডেট সময় : ০১:০১:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
print news

মালামাল ভর্তি কয়েকটি বস্তা, পুরোনো হাঁড়ি-পাতিল আর কিছু কাপড়চোপড় নিয়ে বান্দরবান সদরের উজানীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসে আছেন ৬৫ বছর বয়সী পাইনুচিং মারমা এবং ৬০ বছর বয়সী গীতা বড়ুয়া। বন্যার পানি কমায় আশ্রয়কেন্দ্রের অন্য পরিবারগুলো বাড়ি ফিরতে শুরু করলেও, ঘরহারা এই দুই বৃদ্ধা কোথায় যাবেন, তা নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রটি ছেড়ে দিতে বলায় তাঁদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।

সাঙ্গু নদের তীরে পাশাপাশি দুটি ঘরে ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে বসবাস করতেন তাঁরা। পাইনুচিং মারমার ঘরটি বন্যায় পুরোপুরি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ২০২৩ সালে স্বামী হারানো পাইনুচিংয়ের জন্য এই ঘরটিই ছিল শেষ সম্বল। বর্তমানে তাঁর কাছে থাকা আট কেজি চালও প্রায় শেষ। তিনি জানান, নতুন করে ঘর করার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁর নেই। একই অবস্থা গীতা বড়ুয়ারও, যার স্বামী ১৭ বছর আগে মারা গেছেন। তাঁর বড় ছেলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং ছোট ছেলে উচ্চমাধ্যমিকে পড়ছে। বন্যার স্রোতে তাঁর ঘরটি দুমড়েমুচড়ে গেছে, যা মেরামত ছাড়া বসবাসযোগ্য নয়।

গত ৭ জুলাই নদীর পানি বাড়লে তাঁরা আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেন। স্থানীয়দের তথ্যমতে, ৯ জুলাই পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে পাইনুচিংয়ের ঘর ভেসে যায় এবং গীতার ঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতদিন পৌরসভার দেওয়া খাবার খেয়ে চললেও এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তিংম্যায়ী মারমা জানিয়েছেন, এই দুই বৃদ্ধার অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে তাঁদের আরও পাঁচ দিন থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌরসভার প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক জানান, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে এবং এই দুই বৃদ্ধার আবাসনের বিষয়ে কী করা যায়, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo