ঢাকা ০১:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গ্রাম ও শহর: জীবনযাত্রার ভিন্নতা, শিশুদের স্বাস্থ্যে এগিয়ে গ্রাম উখিয়ায় বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি, দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধার আজ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ উদ্ধারে ইরানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ দিনের আলটিমেটাম দিল ইরান জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা ও বাড়তি চাপ লোক দেখানো ইবাদত থেকে বাঁচার উপায় ও করণীয় জমি ছাড়ার নোটিশে দিশেহারা নাটোরের দিনমজুরের কলেজপড়ুয়া তিন মেয়ে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হলেন নোমান মাহমুদ হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

বন্যায় ঘরহারা দুই বৃদ্ধার আশ্রয় নিয়ে দুশ্চিন্তা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:০১:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মালামাল ভর্তি কয়েকটি বস্তা, পুরোনো হাঁড়ি-পাতিল আর কিছু কাপড়চোপড় নিয়ে বান্দরবান সদরের উজানীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসে আছেন ৬৫ বছর বয়সী পাইনুচিং মারমা এবং ৬০ বছর বয়সী গীতা বড়ুয়া। বন্যার পানি কমায় আশ্রয়কেন্দ্রের অন্য পরিবারগুলো বাড়ি ফিরতে শুরু করলেও, ঘরহারা এই দুই বৃদ্ধা কোথায় যাবেন, তা নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রটি ছেড়ে দিতে বলায় তাঁদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।

সাঙ্গু নদের তীরে পাশাপাশি দুটি ঘরে ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে বসবাস করতেন তাঁরা। পাইনুচিং মারমার ঘরটি বন্যায় পুরোপুরি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ২০২৩ সালে স্বামী হারানো পাইনুচিংয়ের জন্য এই ঘরটিই ছিল শেষ সম্বল। বর্তমানে তাঁর কাছে থাকা আট কেজি চালও প্রায় শেষ। তিনি জানান, নতুন করে ঘর করার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁর নেই। একই অবস্থা গীতা বড়ুয়ারও, যার স্বামী ১৭ বছর আগে মারা গেছেন। তাঁর বড় ছেলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং ছোট ছেলে উচ্চমাধ্যমিকে পড়ছে। বন্যার স্রোতে তাঁর ঘরটি দুমড়েমুচড়ে গেছে, যা মেরামত ছাড়া বসবাসযোগ্য নয়।

গত ৭ জুলাই নদীর পানি বাড়লে তাঁরা আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেন। স্থানীয়দের তথ্যমতে, ৯ জুলাই পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে পাইনুচিংয়ের ঘর ভেসে যায় এবং গীতার ঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতদিন পৌরসভার দেওয়া খাবার খেয়ে চললেও এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তিংম্যায়ী মারমা জানিয়েছেন, এই দুই বৃদ্ধার অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে তাঁদের আরও পাঁচ দিন থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌরসভার প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক জানান, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে এবং এই দুই বৃদ্ধার আবাসনের বিষয়ে কী করা যায়, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

বন্যায় ঘরহারা দুই বৃদ্ধার আশ্রয় নিয়ে দুশ্চিন্তা

আপডেট সময় : ০১:০১:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

মালামাল ভর্তি কয়েকটি বস্তা, পুরোনো হাঁড়ি-পাতিল আর কিছু কাপড়চোপড় নিয়ে বান্দরবান সদরের উজানীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসে আছেন ৬৫ বছর বয়সী পাইনুচিং মারমা এবং ৬০ বছর বয়সী গীতা বড়ুয়া। বন্যার পানি কমায় আশ্রয়কেন্দ্রের অন্য পরিবারগুলো বাড়ি ফিরতে শুরু করলেও, ঘরহারা এই দুই বৃদ্ধা কোথায় যাবেন, তা নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রটি ছেড়ে দিতে বলায় তাঁদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।

সাঙ্গু নদের তীরে পাশাপাশি দুটি ঘরে ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে বসবাস করতেন তাঁরা। পাইনুচিং মারমার ঘরটি বন্যায় পুরোপুরি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ২০২৩ সালে স্বামী হারানো পাইনুচিংয়ের জন্য এই ঘরটিই ছিল শেষ সম্বল। বর্তমানে তাঁর কাছে থাকা আট কেজি চালও প্রায় শেষ। তিনি জানান, নতুন করে ঘর করার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁর নেই। একই অবস্থা গীতা বড়ুয়ারও, যার স্বামী ১৭ বছর আগে মারা গেছেন। তাঁর বড় ছেলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং ছোট ছেলে উচ্চমাধ্যমিকে পড়ছে। বন্যার স্রোতে তাঁর ঘরটি দুমড়েমুচড়ে গেছে, যা মেরামত ছাড়া বসবাসযোগ্য নয়।

গত ৭ জুলাই নদীর পানি বাড়লে তাঁরা আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেন। স্থানীয়দের তথ্যমতে, ৯ জুলাই পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে পাইনুচিংয়ের ঘর ভেসে যায় এবং গীতার ঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতদিন পৌরসভার দেওয়া খাবার খেয়ে চললেও এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তিংম্যায়ী মারমা জানিয়েছেন, এই দুই বৃদ্ধার অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে তাঁদের আরও পাঁচ দিন থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌরসভার প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক জানান, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে এবং এই দুই বৃদ্ধার আবাসনের বিষয়ে কী করা যায়, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo