বায়ুদূষণে দেশে প্রতিদিন অকালমৃত্যু ২৪২ জনের
- আপডেট সময় : ১১:৩১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

বাতাসে মিশে থাকা সূক্ষ্ম ধূলিকণা বা পিএম২.৫ এখন মানুষের জন্য নীরব ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বায়ুদূষণের প্রভাবে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যান্সার ও দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টের মতো অসংক্রামক রোগে দেশে প্রতিদিন গড়ে ২৪২ জন মানুষ অকালমৃত্যুর শিকার হচ্ছেন। এই প্রাণহানির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে এবং মানুষের কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ‘ক্লাইমেট চেইঞ্জ, এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ ইউনিট’ এই সংকট নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা করেছে। সম্প্রতি ইউনিটের একটি গবেষণা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পলিউশন (Pollution) সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন। গবেষণায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল—এই ছয়টি প্রধান শহরের পিএম২.৫ জনিত বায়ুদূষণের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এই ছয়টি শহরে বছরে প্রায় ৮৮ হাজার ২৪০ জন মানুষ অকালমৃত্যুর শিকার হন। অর্থাৎ প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ২৬০ জন বায়ুদূষণের প্রভাবে প্রাণ হারাচ্ছেন। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে ৮ হাজার ৩৪৪ জন এবং ফুসফুসের ক্যান্সারে ৮১১ জনের মৃত্যু ঘটছে প্রতি বছর। অর্থনৈতিক হিসেবে, এই দূষণের ফলে বছরে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে, যা বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় পাঁচ শতাংশের সমান।
শহরভিত্তিক চিত্রে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে রাজধানী ঢাকা, যেখানে বছরে প্রায় ৬৮ হাজার ৭০৩ জনের অকালমৃত্যু পিএম২.৫ দূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত। তালিকার পরবর্তী শহরগুলো হলো চট্টগ্রাম (১১ হাজার ২০২), রাজশাহী (২ হাজার ৮২৭), খুলনা (২ হাজার ৬২৫), সিলেট (১ হাজার ৪৮৮) এবং বরিশাল (১ হাজার ৩৯৫)। ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ছয়টি শহরেই বায়ুদূষণজনিত অকালমৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে ঢাকায় প্রতি বছর গড়ে ৩ হাজার ৪৮৪ জন অতিরিক্ত মানুষ বায়ুদূষণের কারণে প্রাণ হারাচ্ছেন, যা নগরের বায়ুমানের দ্রুত অবনতির ইঙ্গিত দেয়।
গবেষক দলের প্রধান মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বায়ুদূষণকে কেবল পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে দেখলে হবে না, এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকট। তিনি আরও জানান, বছরে ৮৮ হাজার অকালমৃত্যু এবং জিডিপির ৫ শতাংশ ক্ষতি নীতি-নির্ধারকদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। এই সংকট মোকাবিলায় তিনি পিএম২.৫ নির্গমন কমাতে প্রমাণভিত্তিক নীতি গ্রহণ, শিল্প ও যানবাহনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সমন্বিত বায়ুমান ব্যবস্থাপনা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।




























