মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব দিল ইরান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ
- আপডেট সময় : ০১:১৬:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সামরিক স্থাপনায় টানা ষষ্ঠ রাতের মতো চালানো মার্কিন বিমান হামলার কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। উপসাগরে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোতে নতুন করে পাল্টা হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে গত মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত ভেঙে পড়েছে। এখন দুই পক্ষের মধ্যে নিয়মিত বিরতিতে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যে কেশম দ্বীপ এবং বন্দর আব্বাসের কাছাকাছি এলাকায় নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। এই অঞ্চলগুলোতে ইরানের বৃহত্তম বন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌবাহিনী ও রেভল্যুশনারি গার্ডসের স্থাপনা রয়েছে। সেন্টকম আরও জানায়, যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাসহ ডজন খানেক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানা হয়েছে।
এর বিপরীতে ইরান জর্ডানের একটি বিমান ঘাঁটাসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার ভোরে ইরানি বাহিনী বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করেছে। কাতারের রাজধানী দোহাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের স্প্লিন্টারের আঘাতে একটি শিশু আহত হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় পাঁচটি সেতু, বন্দর খামিরের ট্রেন স্টেশন এবং ইরানশহর বিমানবন্দরে আঘাত লেগেছে। বন্দর খামিরের সেতুগুলোতে মার্কিন হামলায় সাতজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থা ইরনা।
এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার থেকে তেহরান প্রণালিতে নিজস্ব অবরোধ শুরু করেছে এবং ওয়াশিংটনও পাল্টা ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে। রয়টার্সের সূত্রমতে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের অবকাঠামোতে আঘাত অব্যাহত রাখে, তবে তেহরান লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার হুমকিও দিয়েছে।
হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে চলমান এই পরিস্থিতির মুখে চুপচাপ বসে থাকবেন না। তবে তিনি কূটনীতির পথ খোলা থাকার কথাও উল্লেখ করেছেন। ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা করছে এবং নির্দিষ্ট চ্যানেল ব্যবহারের নিয়ম করে সেখান থেকে শুল্ক আদায়ের পরিকল্পনা করছে। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প পথের কৌশল কাজ করবে না, কারণ ইরান যেকোনো স্থান থেকে প্রণালিতে আঘাত হানার ক্ষমতা রাখে। এদিকে ট্রাম্প খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্য স্থলবাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি এবং তেহরান আলোচনায় না ফিরলে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুতে আরও বড় হামলার হুমকি দিয়েছেন।
প্রণালির ওপর ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ: ইরান চায় হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী সমস্ত জাহাজ যেন তাদের উপকূলের কাছাকাছি একটি নির্দিষ্ট চ্যানেল দিয়ে চলাচল করে। গত মাসে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকে নির্ধারিত ৬০ দিনের আলোচনা শেষে তারা এই পথে যাতায়াতের জন্য ফি বা শুল্ক আদায় করারও পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন জাহাজগুলোকে ওমান উপকূলের



























