পোল্যান্ডে মানুষের চাকরি রক্ষায় রোবটদের অভিনব বিক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৩:১২:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে মানুষের কর্মসংস্থান রক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এক অভিনব বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ৩০টি মানবাকৃতির (হিউম্যানয়েড) ও চার পায়ের রোবট কুকুর। সাধারণত প্রযুক্তির কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় মানুষকেই রাজপথে আন্দোলন করতে দেখা যায়, তবে এবার স্বয়ং রোবটরাই মানুষের অধিকার রক্ষায় রাজপথে নেমেছে। চলতি সপ্তাহে দেশটির ডিজিটাল অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের সামনে এই ব্যতিক্রমী সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
‘ডেমোক্রেটিজম’ নামের একটি পোলিশ সংগঠনের উদ্যোগে এই অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এআই-চালিত ‘অ্যাজিবট এ-৩’ মডেলের হিউম্যানয়েডসহ বিভিন্ন রোবট বৃত্তাকারে মার্চ করে এবং প্ল্যাকার্ড ও পতাকা নাড়িয়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরে। এ সময় রোবটগুলোর সঙ্গে থাকা লাউডস্পিকার থেকে ‘কর্মক্ষেত্র রক্ষা করো’, ‘নিয়ম করার এখনই সময়’ এবং ‘অপেক্ষা নয়, নিয়ন্ত্রণ করো’-র মতো স্লোগান প্রচার করা হয়। মূলত নিজেদের এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছিল এই যন্ত্রগুলো।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শ্রমবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে একটি বড় ধরনের সামাজিক বিতর্ক তৈরি করাই ছিল এই প্রতিবাদের মূল উদ্দেশ্য। বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক গ্রেগরিজ কুলিশ এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক পেশাগুলোতে রোবট ও এআই-এর প্রতিস্থাপন ঠেকাতে এখনই সুরক্ষামূলক নীতিমালা প্রয়োজন। তা না হলে মানবজাতি খুব দ্রুতই বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হবে।
তবে এই প্রতিবাদের পেছনে ভিন্ন একটি আলোচনাও তৈরি হয়েছে। বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক গ্রেগরিজ কুলিশ নিজেই ‘ডেল্টা রোবটস’ নামের একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিক। ফলে সমালোচকদের অনেকেই মনে করছেন, এটি হয়তো তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের প্রচার বা জনসংযোগের একটি কৌশল হতে পারে। যেভাবে ওপেনএআই বা অ্যানথ্রোপিকের মতো বড় বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের প্রযুক্তির চরম সক্ষমতা জাহির করতে এক ধরনের ‘ভীতি ছড়ানোর’ কৌশল অবলম্বন করে থাকে, এটিও তেমন কিছু হতে পারে।
উদ্দেশ্য যা-ই হোক না কেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক কোনো দাবিতে হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহারের এমন ঘটনা বিশ্বে এটাই প্রথম। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার কারণে মানুষের প্রয়োজনীয়তা কমে যাওয়ার যে আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে, খোদ যন্ত্রের মাধ্যমে সেই আশঙ্কার কথা রাজপথে তুলে ধরা বিশ্বজুড়ে চলমান এআই নিয়ন্ত্রণ বিতর্কে একটি নতুন ও নাটকীয় মাত্রা যোগ করেছে।





























