ঢাকা ০৪:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হোমনায় মোবাইল চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে শিক্ষকের মৃত্যু রুপির বিপরীতে শক্তিশালী টাকা, দুই বছরে মান বেড়েছে ১১.৬ শতাংশ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন অ্যাটর্নি জেনারেল চরফ্যাশনে ৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে সড়ক সবুজ করলেন ইমাম রেজাউল অনাপত্তি সনদ বাতিল: ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ সিরাজগঞ্জে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৪০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিল ফাউন্ডেশন আফগানিস্তানের আটটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি পাকিস্তানের বাংলাদেশ পুলিশের ১৩ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন পদায়ন গুলশান ও বনানী থানায় নতুন ওসি নিয়োগ কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে পটুয়াখালীতে সেরা দশমিনার আরিফ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ারের ঝুঁকি ও করণীয়

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:২৯:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণের ছবি, জন্মদিনের আয়োজন, সন্তানের স্কুলে যাওয়ার প্রথম দিনের ছবি বা নিজের বর্তমান অবস্থান নিয়মিত প্রকাশ করে থাকেন। সাইবার নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সাধারণ পোস্ট থেকেও সাইবার অপরাধীরা একজন ব্যক্তির পরিচয়, সম্পর্ক, দৈনন্দিন রুটিন এবং অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পরে প্রতারণা, পরিচয় নকল, ফিশিং বা অনলাইনে হয়রানির মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

কুইক হিল টেকনোলজিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হরিশ কুমার জানান, ব্যক্তিগত মুহূর্ত শেয়ার করা অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হলেও ব্যবহারকারীরা প্রায়ই বুঝতে পারেন না যে একটি পোস্টের মাধ্যমে কতটা ব্যক্তিগত তথ্য বেরিয়ে যাচ্ছে। কোনো তথ্য একবার প্রকাশ্যে চলে এলে তা কপি, সংরক্ষণ বা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। প্রতারকেরা বিভিন্ন পোস্ট থেকে পাওয়া তথ্য একত্র করে একজন ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচিতি ও জীবনযাপনের ধরন সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে। এরপর তারা পরিচিত ব্যক্তির নাম ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। মুঠোফোন নম্বর, ব্যক্তিগত ই-মেইল ঠিকানা, বাড়ির ঠিকানা, কর্মস্থলের তথ্য, তাৎক্ষণিক অবস্থান এবং ভ্রমণের পরিকল্পনার মতো তথ্য প্রকাশ করা ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া বিমানের বোর্ডিং পাস, টিকিট, হোটেল বুকিংয়ের তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ব্যাংক কার্ডের ছবি বা নম্বর এবং আর্থিক লেনদেনের স্ক্রিনশট পোস্ট করা থেকে বিরত থাকা উচিত। পাসওয়ার্ড বা অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যও প্রকাশ করা নিরাপদ নয়।

মাল্টারবিটের ব্যবসায়িক ইউনিটের প্রধান বরুণ গ্রোভারের মতে, ডিজিটাল মাধ্যমে রেখে যাওয়া তথ্য খুব দ্রুতই বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে। অবস্থানসংবলিত ছবি বা দৈনন্দিন রুটিনের ছোট তথ্যগুলো আলাদাভাবে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে না হলেও, সব তথ্য মিলিয়ে ফিশিং, পরিচয় চুরি বা অনুসরণ করে হয়রানির মতো অপরাধের সুযোগ তৈরি হয়। কেবল গোপনীয়তার সেটিংস ঠিক রাখলেই অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না, এর পাশাপাশি ব্যবহারকারীর সচেতনতাও জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা পুরোপুরি বন্ধ করার কথা বলেননি, তবে পোস্টের আগে ‘পোস্ট করার আগে ভাবুন’—এই অভ্যাসটি গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন। পোস্ট করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত—এটি কি আমার অবস্থান প্রকাশ করছে? আমি কার সঙ্গে আছি? কেউ কি এই তথ্য ব্যবহার করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে? এটি কি আমার পরিচয় নকল বা প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে সেই তথ্য অনলাইনে প্রকাশ না করে বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে শেয়ার করাই শ্রেয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ারের ঝুঁকি ও করণীয়

আপডেট সময় : ০৩:২৯:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণের ছবি, জন্মদিনের আয়োজন, সন্তানের স্কুলে যাওয়ার প্রথম দিনের ছবি বা নিজের বর্তমান অবস্থান নিয়মিত প্রকাশ করে থাকেন। সাইবার নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সাধারণ পোস্ট থেকেও সাইবার অপরাধীরা একজন ব্যক্তির পরিচয়, সম্পর্ক, দৈনন্দিন রুটিন এবং অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পরে প্রতারণা, পরিচয় নকল, ফিশিং বা অনলাইনে হয়রানির মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

কুইক হিল টেকনোলজিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হরিশ কুমার জানান, ব্যক্তিগত মুহূর্ত শেয়ার করা অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হলেও ব্যবহারকারীরা প্রায়ই বুঝতে পারেন না যে একটি পোস্টের মাধ্যমে কতটা ব্যক্তিগত তথ্য বেরিয়ে যাচ্ছে। কোনো তথ্য একবার প্রকাশ্যে চলে এলে তা কপি, সংরক্ষণ বা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। প্রতারকেরা বিভিন্ন পোস্ট থেকে পাওয়া তথ্য একত্র করে একজন ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচিতি ও জীবনযাপনের ধরন সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে। এরপর তারা পরিচিত ব্যক্তির নাম ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। মুঠোফোন নম্বর, ব্যক্তিগত ই-মেইল ঠিকানা, বাড়ির ঠিকানা, কর্মস্থলের তথ্য, তাৎক্ষণিক অবস্থান এবং ভ্রমণের পরিকল্পনার মতো তথ্য প্রকাশ করা ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া বিমানের বোর্ডিং পাস, টিকিট, হোটেল বুকিংয়ের তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ব্যাংক কার্ডের ছবি বা নম্বর এবং আর্থিক লেনদেনের স্ক্রিনশট পোস্ট করা থেকে বিরত থাকা উচিত। পাসওয়ার্ড বা অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যও প্রকাশ করা নিরাপদ নয়।

মাল্টারবিটের ব্যবসায়িক ইউনিটের প্রধান বরুণ গ্রোভারের মতে, ডিজিটাল মাধ্যমে রেখে যাওয়া তথ্য খুব দ্রুতই বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে। অবস্থানসংবলিত ছবি বা দৈনন্দিন রুটিনের ছোট তথ্যগুলো আলাদাভাবে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে না হলেও, সব তথ্য মিলিয়ে ফিশিং, পরিচয় চুরি বা অনুসরণ করে হয়রানির মতো অপরাধের সুযোগ তৈরি হয়। কেবল গোপনীয়তার সেটিংস ঠিক রাখলেই অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না, এর পাশাপাশি ব্যবহারকারীর সচেতনতাও জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা পুরোপুরি বন্ধ করার কথা বলেননি, তবে পোস্টের আগে ‘পোস্ট করার আগে ভাবুন’—এই অভ্যাসটি গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন। পোস্ট করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত—এটি কি আমার অবস্থান প্রকাশ করছে? আমি কার সঙ্গে আছি? কেউ কি এই তথ্য ব্যবহার করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে? এটি কি আমার পরিচয় নকল বা প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে সেই তথ্য অনলাইনে প্রকাশ না করে বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে শেয়ার করাই শ্রেয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo