ঢাকা ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাঁচ জেলায় ছড়িয়েছে অ্যানথ্রাক্স, আক্রান্ত শতাধিক মানুষ জাতিসংঘে এরদোয়ানের শান্তির আহ্বানে বিশ্ব বিবেকের প্রতিধ্বনি: এমিনি পার্বতীপুরে ৫ কেজি গাঁজাসহ আটক ১ মাদক কারবারি পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যুর নতুন নিয়ম, দ্বিতীয়বার হারালে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এমপি-মন্ত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না: ডা. শফিকুর রহমান নারী রেফারিকে হেনস্তা ও লিঙ্গবৈষম্যমূলক মন্তব্যে বরখাস্ত হিগুয়েইন খেলাফতের দায়িত্ব পালনে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই: মুহাম্মদ শাহজাহান বিএনপির কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যে ফাটল ধরেছে: শফিকুর রহমান বাসের নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি, কার্যকর ২২ সেপ্টেম্বর দেশের ৬ হাজার ৫৪৪ প্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল বসাবে সরকার

এআই দিয়ে নতুন ভাইরাস তৈরির গবেষণায় বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৩৮:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নতুন অস্ত্র হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে ১৬টি নতুন ভাইরাস তৈরির তথ্য জানিয়েছেন গবেষকরা। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ইভো১ (Evo1) এবং ইভো২ (Evo2) নামক এআই মডেল ব্যবহার করে এই পরীক্ষাটি সম্পন্ন করেছেন, যা ল্যাবরেটরিতে পুনরুৎপাদন করা সম্ভব। সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে সক্ষম ব্যাকটেরিওফাজ নামক ভাইরাসের শত শত নকশা তৈরি করেছে এআই, যার মধ্যে ১৬টি সফল হয়েছে।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ব্রায়ান হি জানিয়েছেন, এটি জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নতুন ধাপ। তার মতে, এই প্রথম কোনো সম্পূর্ণ জিনোমের নকশা তৈরি করা হয়েছে যা কোষের ভেতরে কাজ করতে সক্ষম। গবেষকরা দাবি করেছেন, এই নতুন ব্যাকটেরিওফাজ অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই প্রযুক্তি মানুষের জন্য মারাত্মক রোগ সৃষ্টির ঝুঁকিও তৈরি করেছে, যা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির ডা. টমাস ইংলেসবি এবং ডা. মরিটজ হাঙ্কে সতর্ক করে বলেছেন যে, এই ফলাফলগুলো জরুরি জৈব নিরাপত্তা এবং বায়োসিকিউরিটি সংক্রান্ত বড় প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তাদের মতে, প্রশ্নটি এখন আর কেবল ভাইরাসের জিনোম ডিজাইন নিয়ে নয়, বরং এই প্রযুক্তি যেন কোনো ক্ষতিকর কাজে ব্যবহৃত না হয় সেটি নিশ্চিত করা নিয়ে। চিকিৎসকদের মতে, যেসব নতুন ভাইরাস রোগের কারণ হতে পারে, সেগুলো নিয়ে কাজ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

তবে ব্রায়ান হি জানিয়েছেন, তাদের গবেষণায় কেবল ব্যাকটেরিওফাজের ওপর মনোযোগ দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিকারক ভাইরাস তৈরির উপাদানগুলো এআইয়ের প্রশিক্ষণ ডাটাবেস থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, সমস্ত কাজ সুরক্ষিত ল্যাবে করা হয়েছে এবং প্রযুক্তিটির অপব্যবহার রোধে সুরক্ষাব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।

সিস্টেমের বিকল হওয়া বা অনিয়ন্ত্রিত আচরণের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি চ্যাটজিপিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের একটি পরীক্ষামূলক মডেল সুরক্ষাব্যবস্থা ভেঙে ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে হ্যাক করেছিল। এই ধরনের ঘটনা এআই প্রযুক্তির ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংশয় আরও বাড়িয়ে তুলছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

এআই দিয়ে নতুন ভাইরাস তৈরির গবেষণায় বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা

আপডেট সময় : ০২:৩৮:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নতুন অস্ত্র হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে ১৬টি নতুন ভাইরাস তৈরির তথ্য জানিয়েছেন গবেষকরা। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ইভো১ (Evo1) এবং ইভো২ (Evo2) নামক এআই মডেল ব্যবহার করে এই পরীক্ষাটি সম্পন্ন করেছেন, যা ল্যাবরেটরিতে পুনরুৎপাদন করা সম্ভব। সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে সক্ষম ব্যাকটেরিওফাজ নামক ভাইরাসের শত শত নকশা তৈরি করেছে এআই, যার মধ্যে ১৬টি সফল হয়েছে।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ব্রায়ান হি জানিয়েছেন, এটি জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নতুন ধাপ। তার মতে, এই প্রথম কোনো সম্পূর্ণ জিনোমের নকশা তৈরি করা হয়েছে যা কোষের ভেতরে কাজ করতে সক্ষম। গবেষকরা দাবি করেছেন, এই নতুন ব্যাকটেরিওফাজ অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই প্রযুক্তি মানুষের জন্য মারাত্মক রোগ সৃষ্টির ঝুঁকিও তৈরি করেছে, যা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির ডা. টমাস ইংলেসবি এবং ডা. মরিটজ হাঙ্কে সতর্ক করে বলেছেন যে, এই ফলাফলগুলো জরুরি জৈব নিরাপত্তা এবং বায়োসিকিউরিটি সংক্রান্ত বড় প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তাদের মতে, প্রশ্নটি এখন আর কেবল ভাইরাসের জিনোম ডিজাইন নিয়ে নয়, বরং এই প্রযুক্তি যেন কোনো ক্ষতিকর কাজে ব্যবহৃত না হয় সেটি নিশ্চিত করা নিয়ে। চিকিৎসকদের মতে, যেসব নতুন ভাইরাস রোগের কারণ হতে পারে, সেগুলো নিয়ে কাজ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

তবে ব্রায়ান হি জানিয়েছেন, তাদের গবেষণায় কেবল ব্যাকটেরিওফাজের ওপর মনোযোগ দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিকারক ভাইরাস তৈরির উপাদানগুলো এআইয়ের প্রশিক্ষণ ডাটাবেস থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, সমস্ত কাজ সুরক্ষিত ল্যাবে করা হয়েছে এবং প্রযুক্তিটির অপব্যবহার রোধে সুরক্ষাব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।

সিস্টেমের বিকল হওয়া বা অনিয়ন্ত্রিত আচরণের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি চ্যাটজিপিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের একটি পরীক্ষামূলক মডেল সুরক্ষাব্যবস্থা ভেঙে ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে হ্যাক করেছিল। এই ধরনের ঘটনা এআই প্রযুক্তির ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংশয় আরও বাড়িয়ে তুলছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor