ঢাকা ০৩:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজগঞ্জে জেলি পুশ করা সাড়ে ৪৫০ কেজি চিংড়ি ধ্বংস কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী তাজমিনের মৃত্যুর আগে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিল্লাই শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে ছায়ানটের শরৎ উৎসব সাহিত্যে নোবেল জয়: অ্যান কারসনের সৃষ্টিশীলতায় মুগ্ধ বিশ্বজুড়ে লেখককুল রোববার ভারত সফরে যাচ্ছে তিন সদস্যের সরকারি প্রতিনিধিদল শান্তিতে নোবেল পেলেন মানবাধিকার কর্মী নাভি পিল্লাই জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্রেক্সিট-পরবর্তী যুক্তরাজ্যের ভূমিকা রাবিতে সাংবাদিকের ওপর হামলা: ৪ ছাত্রদল নেতার ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিল সিরাজগঞ্জে সেপ্টেম্বর মাসের শ্রেষ্ঠ সম্মাননা পেলেন ২ পুলিশ কর্মকর্তা

লেগ স্পিনের জাদুকর আবদুল কাদিরের ৭১তম জন্মদিনে ফিরে দেখা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৫২:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আজ পাকিস্তানি কিংবদন্তি ক্রিকেটার আবদুল কাদিরের ৭১তম জন্মদিন। হারিয়ে যেতে বসা লেগ স্পিনের শিল্পকে তিনি শুধু নতুন করে জাগিয়েই তোলেননি, বাইশ গজে এই বোলিংকে এক গ্ল্যামারাস রূপ দিয়েছিলেন। 'পুবের জাদুকর' হিসেবে পরিচিত এই মহান ক্রিকেটারের প্রয়াণও ঘটেছিল এই সেপ্টেম্বর মাসেই, তাঁর জন্মদিনের ঠিক নয় দিন আগে, ২০১৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর।

জাদুর তিনটি ধাপ থাকে—প্রতিজ্ঞা, রূপান্তর ও মর্যাদা। একজন জাদুকর যেমন সাধারণ কিছু দেখিয়ে পরে তা উধাও করে আবার ফিরিয়ে এনে নিজের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেন, আবদুল কাদিরের লেগ স্পিনও ছিল ঠিক তেমনই এক জাদু। শেন ওয়ার্নের বোলিং অ্যাকশন যেখানে ছিল বেশ খোলামেলা, সেখানে কাদির ছিলেন রহস্যপ্রিয়। রানআপ শুরুর আগে শূন্যে বল স্পিন করানো, দৌড়ানোর ঠিক আগের মুহূর্তে বাঁ হাত দিয়ে গ্রিপ লুকিয়ে ডান হাতে লালা লাগানো—সব মিলিয়ে তাঁর মাঝে ছিল এক জাদুকরী আবহ। এরপর হাতের মোচড় আর আঙুলের ভেলকিতে ব্যাটসম্যানরা যখন পরাস্ত হতেন, তখন ধারাভাষ্যকাররা উত্তেজিত হয়ে উঠতেন গুগলির রোমাঞ্চে। কাদির তাঁর ক্যারিয়ারের প্রতিটি ম্যাচেই এই চাতুরি আর বৈচিত্র্য নিয়ে খেলেছেন।

কাদিরের এই জাদুকরী পথ অনুসরণ করেই পরবর্তী প্রজন্মের অনেক স্পিনার তৈরি হয়েছেন। দানিশ কানেরিয়াকে কাদির নিজের 'প্রোডাক্ট' বলে ডাকতেন। মুশতাক আহমেদ কিংবা ইমরান তাহিরের অ্যাকশনের ভিত্তিও গড়ে উঠেছিল কাদিরের হাত ধরে। এমনকি স্টিভ ওয়াহ তাঁর শিষ্য স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলকে এবং অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার পল স্ট্রাংকে তাঁর কাছে পাঠিয়েছিলেন দীক্ষা নিতে। ১৯৯৪ সালে পাকিস্তান সফরে গিয়ে শেন ওয়ার্ন নিজে কাদিরের বাসায় হাজির হয়েছিলেন গুগলির রহস্য শিখতে। রাতে আপেল দিয়ে সেই গুগলির কসরত করে পরের দিনই টেস্টে উইকেট পেয়েছিলেন ওয়ার্ন। এরপর কাদিরকে ফোন করে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেছিলেন, 'দেখেছ আমার বোলিং?' ওয়ার্নের দেরাজে কাদিরের বোলিংয়ের অজস্র ভিডিও ক্যাসেট জমা থাকত। কাদিরের বাসায় গিয়ে গালিচার ওপর কমলা দিয়ে দুই কিংবদন্তির লেগ স্পিন পরীক্ষার গল্পও ক্রিকেটে বেশ প্রচলিত। মূলত আশির দশকে কাদিরের বোলিং দেখেই নিজেকে গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন ওয়ার্ন।

১৯৫৫ সালে লাহোরের এক অতি সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া কাদিরের শৈশব কেটেছে মার্বেল, হকি ও ক্রিকেট খেলে। রাস্তায় মার্বেল খেলার সময় এক বন্ধুর অনুরোধে ক্রিকেটে যোগ দিয়ে প্রথম দুই বলেই বোল্ড হয়েছিলেন তিনি। তবে ব্যাটিংয়ের চেয়ে লাল বলের রহস্যই তাঁকে বেশি টেনেকছিল। এতটাই যে, রাতে ঘুমানোর সময়ও মাথার কাছে বল রেখে ঘুমাতেন। কাদিরের বিশ্বাস ছিল, যে পিচে কোনো বোলারের সাহায্য মেলে না, সেখানেও লেগ স্পিনাররা সফল হতে পারেন। বৈচিত্র্যের দিক থেকে কাদির ছিলেন এক জীবন্ত বিশ্বকোষ। তিনি বলতেন, আমি একটি ডেলিভারিই দশটি ভিন্ন উপায়ে করতে পারি—দশটি লেগব্রেক, দশটি গুগলি ও দশটি ফ্লিপার, যার সাথে যুক্ত হতো গতি ও কোণের বৈচিত্র্য।

ওয়ার্ন যেখানে পাঁচ আঙুল দিয়ে বল গ্রিপ করতেন, সেখানে কাদিরের গ্রিপ ছিল ব্যতিক্রমী। মধ্যমা, অনামিকা ও কনিষ্ঠা আঙুল একসঙ্গে রেখে ওপাশে তর্জনী রাখতেন তিনি, যা বল ছাড়ার সময় বাড়তি জোর দিত। তাঁর ছিল দুই ধরনের গুগলি—একটি কবজির মোচড়ে এবং অন্যটি আঙুলের ব্যবহারে। পেসারদের সেই স্বর্ণযুগে, যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস চতুষ্টয় কিংবা লিলি-থমসনদের দাপট ছিল, তখন কাদির স্পিনার হয়েও এক পেসারের আগ্রাসী মানসিকতা নিয়ে বল করতেন।

একবার ইংল্যান্ডে এক নারী কাদিরকে বলেছিলেন যে, তাঁর মেয়ের ক্রিকেটে কোনো আগ্রহ নেই, কিন্তু সে শুধু কাদিরের বোলিং দেখতে ভালোবাসে, কারণ তাঁর অ্যাকশন নাকি মঞ্চে তরুণীর নাচের মতো সুন্দর। ১৯৮৭ সালে ওভালে ফলোঅনে পড়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রায় কোনো বিরতি ছাড়াই টানা ১০০ ওভারের কাছাকাছি বোলিং করেছিলেন কাদির। দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল অগাধ; ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে ব্লাঙ্ক চেকের প্রস্তাব পেলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত বিজনেস কার্ডে লেখা থাকত 'কিং অব স্পিন' ও পাকিস্তানের 'প্রাইড অব পারফরম্যান্স'। ৪৩ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ায় এক টুর্নামেন্টে পিচের কোণ থেকে করা তাঁর এক জাদুকরী গুগলি সরাসরি মাঝ স্টাম্প উপড়ে দিয়েছিল। ১৯৮২ সালে ইমরান খানের পরামর্শে ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি রেখেছিলেন কাদির, যা তাঁর রহস্যময় জাদুকরী রূপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। মৃত্যুর আগে শেন ওয়ার্ন তাঁকে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন, 'সেরার প্রতি। ধন্যবাদ সবকিছুর জন্য। আবার দেখা হবে।' আজ হয়তো অনন্তের ঠিকানায় দুই কিংবদন্তির দেখা হয়েছে এবং ওয়ার্ন নিশ্চয়ই তাঁর গুরুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

যেমনটা করেন একজন লেগ স্পিনার, একজন শেন ওয়ার্ন কিংবা আবদুল কাদির।.লেগ স্পিনের ‘রকস্টার’ ওয়ার্ন, আর তাঁর চোখে সেরা ১১ .ওয়ার্নের ‘প্রতিজ্ঞা’ (অ্যাকশন) ছিল খোলামেলা।

দৌড়ে আসার অ্যাঙ্গেল, কখনো ৪৫ ডিগ্রি কোণে কখনো তার বেশি কিংবা কম, এতেও সেই বলের বাঁকের তারতম্য।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

লেগ স্পিনের জাদুকর আবদুল কাদিরের ৭১তম জন্মদিনে ফিরে দেখা

আপডেট সময় : ১০:৫২:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজ পাকিস্তানি কিংবদন্তি ক্রিকেটার আবদুল কাদিরের ৭১তম জন্মদিন। হারিয়ে যেতে বসা লেগ স্পিনের শিল্পকে তিনি শুধু নতুন করে জাগিয়েই তোলেননি, বাইশ গজে এই বোলিংকে এক গ্ল্যামারাস রূপ দিয়েছিলেন। 'পুবের জাদুকর' হিসেবে পরিচিত এই মহান ক্রিকেটারের প্রয়াণও ঘটেছিল এই সেপ্টেম্বর মাসেই, তাঁর জন্মদিনের ঠিক নয় দিন আগে, ২০১৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর।

জাদুর তিনটি ধাপ থাকে—প্রতিজ্ঞা, রূপান্তর ও মর্যাদা। একজন জাদুকর যেমন সাধারণ কিছু দেখিয়ে পরে তা উধাও করে আবার ফিরিয়ে এনে নিজের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেন, আবদুল কাদিরের লেগ স্পিনও ছিল ঠিক তেমনই এক জাদু। শেন ওয়ার্নের বোলিং অ্যাকশন যেখানে ছিল বেশ খোলামেলা, সেখানে কাদির ছিলেন রহস্যপ্রিয়। রানআপ শুরুর আগে শূন্যে বল স্পিন করানো, দৌড়ানোর ঠিক আগের মুহূর্তে বাঁ হাত দিয়ে গ্রিপ লুকিয়ে ডান হাতে লালা লাগানো—সব মিলিয়ে তাঁর মাঝে ছিল এক জাদুকরী আবহ। এরপর হাতের মোচড় আর আঙুলের ভেলকিতে ব্যাটসম্যানরা যখন পরাস্ত হতেন, তখন ধারাভাষ্যকাররা উত্তেজিত হয়ে উঠতেন গুগলির রোমাঞ্চে। কাদির তাঁর ক্যারিয়ারের প্রতিটি ম্যাচেই এই চাতুরি আর বৈচিত্র্য নিয়ে খেলেছেন।

কাদিরের এই জাদুকরী পথ অনুসরণ করেই পরবর্তী প্রজন্মের অনেক স্পিনার তৈরি হয়েছেন। দানিশ কানেরিয়াকে কাদির নিজের 'প্রোডাক্ট' বলে ডাকতেন। মুশতাক আহমেদ কিংবা ইমরান তাহিরের অ্যাকশনের ভিত্তিও গড়ে উঠেছিল কাদিরের হাত ধরে। এমনকি স্টিভ ওয়াহ তাঁর শিষ্য স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলকে এবং অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার পল স্ট্রাংকে তাঁর কাছে পাঠিয়েছিলেন দীক্ষা নিতে। ১৯৯৪ সালে পাকিস্তান সফরে গিয়ে শেন ওয়ার্ন নিজে কাদিরের বাসায় হাজির হয়েছিলেন গুগলির রহস্য শিখতে। রাতে আপেল দিয়ে সেই গুগলির কসরত করে পরের দিনই টেস্টে উইকেট পেয়েছিলেন ওয়ার্ন। এরপর কাদিরকে ফোন করে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেছিলেন, 'দেখেছ আমার বোলিং?' ওয়ার্নের দেরাজে কাদিরের বোলিংয়ের অজস্র ভিডিও ক্যাসেট জমা থাকত। কাদিরের বাসায় গিয়ে গালিচার ওপর কমলা দিয়ে দুই কিংবদন্তির লেগ স্পিন পরীক্ষার গল্পও ক্রিকেটে বেশ প্রচলিত। মূলত আশির দশকে কাদিরের বোলিং দেখেই নিজেকে গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন ওয়ার্ন।

১৯৫৫ সালে লাহোরের এক অতি সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া কাদিরের শৈশব কেটেছে মার্বেল, হকি ও ক্রিকেট খেলে। রাস্তায় মার্বেল খেলার সময় এক বন্ধুর অনুরোধে ক্রিকেটে যোগ দিয়ে প্রথম দুই বলেই বোল্ড হয়েছিলেন তিনি। তবে ব্যাটিংয়ের চেয়ে লাল বলের রহস্যই তাঁকে বেশি টেনেকছিল। এতটাই যে, রাতে ঘুমানোর সময়ও মাথার কাছে বল রেখে ঘুমাতেন। কাদিরের বিশ্বাস ছিল, যে পিচে কোনো বোলারের সাহায্য মেলে না, সেখানেও লেগ স্পিনাররা সফল হতে পারেন। বৈচিত্র্যের দিক থেকে কাদির ছিলেন এক জীবন্ত বিশ্বকোষ। তিনি বলতেন, আমি একটি ডেলিভারিই দশটি ভিন্ন উপায়ে করতে পারি—দশটি লেগব্রেক, দশটি গুগলি ও দশটি ফ্লিপার, যার সাথে যুক্ত হতো গতি ও কোণের বৈচিত্র্য।

ওয়ার্ন যেখানে পাঁচ আঙুল দিয়ে বল গ্রিপ করতেন, সেখানে কাদিরের গ্রিপ ছিল ব্যতিক্রমী। মধ্যমা, অনামিকা ও কনিষ্ঠা আঙুল একসঙ্গে রেখে ওপাশে তর্জনী রাখতেন তিনি, যা বল ছাড়ার সময় বাড়তি জোর দিত। তাঁর ছিল দুই ধরনের গুগলি—একটি কবজির মোচড়ে এবং অন্যটি আঙুলের ব্যবহারে। পেসারদের সেই স্বর্ণযুগে, যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস চতুষ্টয় কিংবা লিলি-থমসনদের দাপট ছিল, তখন কাদির স্পিনার হয়েও এক পেসারের আগ্রাসী মানসিকতা নিয়ে বল করতেন।

একবার ইংল্যান্ডে এক নারী কাদিরকে বলেছিলেন যে, তাঁর মেয়ের ক্রিকেটে কোনো আগ্রহ নেই, কিন্তু সে শুধু কাদিরের বোলিং দেখতে ভালোবাসে, কারণ তাঁর অ্যাকশন নাকি মঞ্চে তরুণীর নাচের মতো সুন্দর। ১৯৮৭ সালে ওভালে ফলোঅনে পড়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রায় কোনো বিরতি ছাড়াই টানা ১০০ ওভারের কাছাকাছি বোলিং করেছিলেন কাদির। দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল অগাধ; ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে ব্লাঙ্ক চেকের প্রস্তাব পেলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত বিজনেস কার্ডে লেখা থাকত 'কিং অব স্পিন' ও পাকিস্তানের 'প্রাইড অব পারফরম্যান্স'। ৪৩ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ায় এক টুর্নামেন্টে পিচের কোণ থেকে করা তাঁর এক জাদুকরী গুগলি সরাসরি মাঝ স্টাম্প উপড়ে দিয়েছিল। ১৯৮২ সালে ইমরান খানের পরামর্শে ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি রেখেছিলেন কাদির, যা তাঁর রহস্যময় জাদুকরী রূপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। মৃত্যুর আগে শেন ওয়ার্ন তাঁকে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন, 'সেরার প্রতি। ধন্যবাদ সবকিছুর জন্য। আবার দেখা হবে।' আজ হয়তো অনন্তের ঠিকানায় দুই কিংবদন্তির দেখা হয়েছে এবং ওয়ার্ন নিশ্চয়ই তাঁর গুরুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

যেমনটা করেন একজন লেগ স্পিনার, একজন শেন ওয়ার্ন কিংবা আবদুল কাদির।.লেগ স্পিনের ‘রকস্টার’ ওয়ার্ন, আর তাঁর চোখে সেরা ১১ .ওয়ার্নের ‘প্রতিজ্ঞা’ (অ্যাকশন) ছিল খোলামেলা।

দৌড়ে আসার অ্যাঙ্গেল, কখনো ৪৫ ডিগ্রি কোণে কখনো তার বেশি কিংবা কম, এতেও সেই বলের বাঁকের তারতম্য।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo