ঢাকা ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পূর্বাচলে মিষ্টিমুখের নতুন ঠিকানা ‘মহারাজা সুইটস’ নাটোরের পদ্মার চরে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান, গ্রেফতার ১৩ ইরানে হামলার ছক পেন্টাগনের, ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় ওয়াশিংটন জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ-ক্যামেরা চুরি: সিসিটিভি ফুটেজে ব্যক্তিকে খুঁজছে পুলিশ নির্বাচনে পরিকল্পিত ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিকার হয়েছি: জমিয়ত মহাসচিব আফেন্দী মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়েও নিয়োগবঞ্চিত ভোলার ফয়জুল আলম নেত্রকোণায় গোরস্থানের গাছে মিলল নিখোঁজ সাবেক সেনাসদস্যের লাশ সিডনিতে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে শাবনূর, পাশে বসে গান শোনালেন রবি চৌধুরী মাদ্রাসাসহ পুরো শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি বিএমজিটিএ-এর ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাই

সাহিত্যে নোবেল জয়: অ্যান কারসনের সৃষ্টিশীলতায় মুগ্ধ বিশ্বজুড়ে লেখককুল

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:২০:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার কেবল একজন লেখকের সাফল্য নয়, বরং সাহিত্যের প্রচলিত সীমানাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার এক অনন্য মুহূর্ত। অ্যান কারসনের নোবেলজয়ী হওয়ার খবরটি ঠিক তেমনই একটি মাইলফলক। কবিতা, অনুবাদ, প্রাচীন গ্রিক-রোমান সাহিত্য, গদ্য ও নাটকের মতো বিভিন্ন রীতির মেলবন্ধনে তিনি এমন এক সাহিত্যিক জগৎ তৈরি করেছেন, যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক কঠোরতা ও গভীর মানবিক সত্য পাশাপাশি অবস্থান করে।

কারসনের এই অর্জনের পর বিশ্বজুড়ে খ্যাতিমান লেখকেরা তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। মার্গারেট অ্যাটউড, এমিলি উইলসন, ওশান ভুয়ং এবং রেবেকা পেরির মতো লেখকেরা কারসনের স্বাতন্ত্র্য এবং প্রচলিত ছক ভেঙে নতুন পথ তৈরির সক্ষমতার কথা তুলে ধরেছেন।

মার্গারেট অ্যাটউড নতুন পাঠকদের জন্য কারসনের ‘দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড’ এবং ‘মেন ইন দ্য অফ আওয়ার্স’ বই দুটি পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অ্যাটউডের মতে, ‘দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড’ একই সঙ্গে শরীরী, মজার, রাগী ও বিষণ্ন। তিনি মনে করেন, কারসনের লেখা শুধু সুন্দর হওয়ার চেষ্টা করে না, বরং পাঠককে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং অচেনা জগতের মুখোমুখি দাঁড় করায়।

ক্লাসিক্যাল সাহিত্য ও অনুবাদের বিশিষ্ট লেখক এমিলি উইলসনের মতে, এই পুরস্কার কেবল কারসনের নয়, বরং অনুবাদ ও প্রাচীন সাহিত্যের সীমানা ভাঙারও স্বীকৃতি। উইলসনের দৃষ্টিতে, একজন অসাধারণ লেখক হওয়ার জন্য কোনো পূর্বনির্ধারিত ছাঁচে নিজেকে ঢোকানোর প্রয়োজন নেই, যা কারসনের কাজের মাধ্যমেই প্রমাণিত।

কবি ওশান ভুয়ং কারসনের কাজের গভীরতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক নিষ্ঠার প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান সময়ে যখন সাহিত্যিক সততা হুমকির মুখে, তখন এমন একজন লেখককে সম্মানিত করা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। ভুয়ংয়ের মতে, কারসন কয়েক দশক ধরে ‘অচেনা’ ও ‘রহস্যকে’ সত্য আবিষ্কারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন বড় লেখক কেবল নিজের বই লেখেন না, বরং অন্যদের লেখার সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দেন, যা কারসন সফলভাবে করেছেন।

রেবেকা পেরি ২০১৩ সালের পোয়েট্রি সোসাইটির বার্ষিক বক্তৃতার একটি স্মৃতিচারণ করেন। সেখানে কারসনের বুদ্ধিমত্তা ও তীক্ষ্ণতার পাশাপাশি তার ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেছিল। প্রশ্নোত্তর পর্বে এক দীর্ঘ প্রশ্নের উত্তরে কারসনের মাত্র এক শব্দের উত্তর ‘না’—পেরির কাছে তার জাদুর একটি উদাহরণ। পেরি মনে করেন, সাহিত্যে ঝুঁকি নেওয়া এবং আপসহীন হওয়ার যে সাহস কারসন দেখিয়েছেন, তা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পাথেয়।

কারসনের নোবেল জয় তাই কেবল একজন কবির সম্মাননা নয়; এটি কবিতা, অনুবাদ এবং প্রাচীন সাহিত্যকে নতুন চোখে দেখার এক বৈশ্বিক স্বীকৃতি। নিজের লেখার মতোই হয়তো এই মুহূর্তকে ব্যাখ্যা করতে কারসন খুব বেশি শব্দের প্রয়োজন বোধ করতেন না, তার ভাষায় হয়তো একটি শব্দই যথেষ্ট—‘আনন্দ’।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

সাহিত্যে নোবেল জয়: অ্যান কারসনের সৃষ্টিশীলতায় মুগ্ধ বিশ্বজুড়ে লেখককুল

আপডেট সময় : ০৩:২০:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার কেবল একজন লেখকের সাফল্য নয়, বরং সাহিত্যের প্রচলিত সীমানাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার এক অনন্য মুহূর্ত। অ্যান কারসনের নোবেলজয়ী হওয়ার খবরটি ঠিক তেমনই একটি মাইলফলক। কবিতা, অনুবাদ, প্রাচীন গ্রিক-রোমান সাহিত্য, গদ্য ও নাটকের মতো বিভিন্ন রীতির মেলবন্ধনে তিনি এমন এক সাহিত্যিক জগৎ তৈরি করেছেন, যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক কঠোরতা ও গভীর মানবিক সত্য পাশাপাশি অবস্থান করে।

কারসনের এই অর্জনের পর বিশ্বজুড়ে খ্যাতিমান লেখকেরা তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। মার্গারেট অ্যাটউড, এমিলি উইলসন, ওশান ভুয়ং এবং রেবেকা পেরির মতো লেখকেরা কারসনের স্বাতন্ত্র্য এবং প্রচলিত ছক ভেঙে নতুন পথ তৈরির সক্ষমতার কথা তুলে ধরেছেন।

মার্গারেট অ্যাটউড নতুন পাঠকদের জন্য কারসনের ‘দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড’ এবং ‘মেন ইন দ্য অফ আওয়ার্স’ বই দুটি পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অ্যাটউডের মতে, ‘দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড’ একই সঙ্গে শরীরী, মজার, রাগী ও বিষণ্ন। তিনি মনে করেন, কারসনের লেখা শুধু সুন্দর হওয়ার চেষ্টা করে না, বরং পাঠককে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং অচেনা জগতের মুখোমুখি দাঁড় করায়।

ক্লাসিক্যাল সাহিত্য ও অনুবাদের বিশিষ্ট লেখক এমিলি উইলসনের মতে, এই পুরস্কার কেবল কারসনের নয়, বরং অনুবাদ ও প্রাচীন সাহিত্যের সীমানা ভাঙারও স্বীকৃতি। উইলসনের দৃষ্টিতে, একজন অসাধারণ লেখক হওয়ার জন্য কোনো পূর্বনির্ধারিত ছাঁচে নিজেকে ঢোকানোর প্রয়োজন নেই, যা কারসনের কাজের মাধ্যমেই প্রমাণিত।

কবি ওশান ভুয়ং কারসনের কাজের গভীরতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক নিষ্ঠার প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান সময়ে যখন সাহিত্যিক সততা হুমকির মুখে, তখন এমন একজন লেখককে সম্মানিত করা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। ভুয়ংয়ের মতে, কারসন কয়েক দশক ধরে ‘অচেনা’ ও ‘রহস্যকে’ সত্য আবিষ্কারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন বড় লেখক কেবল নিজের বই লেখেন না, বরং অন্যদের লেখার সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দেন, যা কারসন সফলভাবে করেছেন।

রেবেকা পেরি ২০১৩ সালের পোয়েট্রি সোসাইটির বার্ষিক বক্তৃতার একটি স্মৃতিচারণ করেন। সেখানে কারসনের বুদ্ধিমত্তা ও তীক্ষ্ণতার পাশাপাশি তার ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেছিল। প্রশ্নোত্তর পর্বে এক দীর্ঘ প্রশ্নের উত্তরে কারসনের মাত্র এক শব্দের উত্তর ‘না’—পেরির কাছে তার জাদুর একটি উদাহরণ। পেরি মনে করেন, সাহিত্যে ঝুঁকি নেওয়া এবং আপসহীন হওয়ার যে সাহস কারসন দেখিয়েছেন, তা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পাথেয়।

কারসনের নোবেল জয় তাই কেবল একজন কবির সম্মাননা নয়; এটি কবিতা, অনুবাদ এবং প্রাচীন সাহিত্যকে নতুন চোখে দেখার এক বৈশ্বিক স্বীকৃতি। নিজের লেখার মতোই হয়তো এই মুহূর্তকে ব্যাখ্যা করতে কারসন খুব বেশি শব্দের প্রয়োজন বোধ করতেন না, তার ভাষায় হয়তো একটি শব্দই যথেষ্ট—‘আনন্দ’।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin