কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী তাজমিনের মৃত্যুর আগে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ
- আপডেট সময় : ০৩:৩৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। মৃত্যুর আগের রাতে তার চলাচলের একটি সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর সে হোটেলের পশ্চিম পাশে কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের দিকে এগিয়ে যায় এবং একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলে। এ সময় দোকানি তাকে কিছু একটা দেখানোর বা দিক নির্দেশ করার চেষ্টা করেন। রাত ১২টার দিকে সেখান থেকে সরে তাজমিন অন্য পাশে যায় এবং রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে নূরজাহান হোটেল এলাকা ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায়। তবে এরপর সে কোন পথে গিয়েছিল, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। পুলিশ তার চলাচলের পথ এবং যাতায়াতের মাধ্যম নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রী তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। বাবার চাকরির সুবাদে সে কুমিল্লায় বড় হয়েছে এবং কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চার দিন আগে তাজমিন এক বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যায় এবং পরে ওই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যায়। সেখান থেকে বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয় সে। রাতে তার বাবা আবদুল আলীম মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তাজমিন রিসিভ না করায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পুলিশি অনুসন্ধানে জানা গেছে, তাজমিন সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজারে গিয়েছিল। তবে এসব স্থানে তার সঙ্গে অন্য কেউ ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামার পর সে কোথায় গিয়েছিল, কারও সঙ্গে দেখা হয়েছিল কি না এবং ঘটনাস্থলের অদূরে জব্দ করা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব বিষয় এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে পুলিশ।
তাজমিনের গৃহশিক্ষক সাদ বিন এরশাদ বলেন, আমি তাকে দীর্ঘদিন পড়িয়েছি। সে খুবই চঞ্চল স্বভাবের ছিল। তার মা কিছুটা অসুস্থ থাকায় দুই যমজ ভাইয়ের দেখভাল করত তাজমিন নিজেই। তার বাবা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করার কারণে সকালে বাসা থেকে বের হয়ে রাতে ফিরতেন। বাবা তাজমিনকে খুব আদর করতেন। তবে ঘরে রাগারাগি হলে সে হুটহাট করে বাসা থেকে বের হয়ে যেত। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হয়ে দোষীদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক সংস্থা কাজ শুরু করেছে।
কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ্ জানান, সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে সেখান থেকে একটি রেজিস্ট্রেশনকৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে। নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না, তবে গলায় গামছা পেচানো ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে মৃত্যুর সঠিক বিবরণ জানা যাবে। জব্দ করা অটোরিকশাটির সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করছে। আশা করছি দ্রুতই এই মৃত্যুর রহস্য উদঘাটিত হবে।



























