শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে ছায়ানটের শরৎ উৎসব
- আপডেট সময় : ০৩:২৭:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল প্রাঙ্গণে শরৎকালকে বরণ করে নিতে এক বর্ণিল উৎসবের আয়োজন করা হয়। ‘যোগ দে রে আজ সমান তানে’ শিরোনামের এই শরৎ উৎসবটি যৌথভাবে আয়োজন করে ছায়ানট ও সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল। আশ্বিনের শেষ ভাগে এসে আকাশে সাদা মেঘ আর কাশফুলের আবহে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজনস্থল। শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির রূপ ও বৈচিত্র্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।
এই আনন্দ উৎসবে শুধু আয়োজক দুটি প্রতিষ্ঠানই নয়, সুরের মেলবন্ধনে অংশ নেয় নালন্দা উচ্চবিদ্যালয়, এক্সেল একাডেমি এবং সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ঠিক সকাল সাড়ে সাতটায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শরতে আজ কোন্ অতিথি’ গান ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমবেত কণ্ঠের গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করেন ছায়ানটের শিল্পীরা। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও অতুল প্রসাদ সেনের গান, ছড়া এবং কবিতা।
উৎসবে নালন্দা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘আলোর অমল কমলখানি’ ও ‘শরৎ (আজি কি তোমার মধুর মুরতি)’ গান দুটি পরিবেশন করে। এছাড়া তারা সুনির্মল বসুর ‘সবার আমি ছাত্র’ কবিতাটি সমবেতভাবে আবৃত্তি করে। এই পর্বে মেহেরিন ফাতেমা ‘তোমরা যা বলো তাই বলো’ এবং সুদর্শনা অলকানন্দা কুণ্ডু ‘ভোরের ঝিলের জলে’ গান দুটি একক কণ্ঠে গেয়ে শোনান। এক্সেল একাডেমির পরিবেশনায় ছিল সম্মেলক নৃত্যগীত ‘দেখো-দেখো, দেখো, শুকতারা আঁখি’। এতে একক গান পরিবেশন করেন অরুণাভ দে ও ইপ্সিতা সিকদার। অন্যদিকে সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা ‘কোন্ খেপা শ্রাবণ ছুটে এল’ গানটি পরিবেশন করে। এই পর্বে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শরৎ (এসেছে শরৎ, হিমের পরশ)’ কবিতা আবৃত্তি করেন ইজমির মুস্তাফিজ এবং কাজী নজরুল ইসলামের ‘কোন্ শরতে পূর্ণিমা-চাঁদ’ কবিতাটি দলগতভাবে আবৃত্তি করে শিক্ষার্থীরা।
সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা গেয়ে শোনান ‘আজ প্রথম ফুলের পাব প্রসাদখানি’। এই স্কুলের সার্থক সাহা ‘এসো শারদ প্রাতের পথিক’, বাঁধন কুণ্ডু ‘হৃদয়ে চিলে জেগে’ এবং দিব্যময় দেশ ‘মেঘেরা দল বেঁধে যায়’ একক গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের শেষ ভাগে ছিল ছায়ানটের নিজস্ব পরিবেশনা। ‘ওগো শেফালিবনের মনের কামনা’ গান ও দলীয় নৃত্যের মাধ্যমে তাদের পরিবেশনা শুরু হয়। এরপর একক গান গেয়ে শোনান অঙ্কিতা সরকার (‘অমল ধবল পালে লেগেছে’), শতদ্রু সরকার (‘আমার রাত পোহালে’) এবং প্রেমা দেওয়ানগাজী (‘হে ক্ষণিকের অতিথি’)। পার্থিব সাহার কণ্ঠে ‘শিউলি ফুল শিউলি ফুল’ গানের মধ্য দিয়ে একক পরিবেশনার সমাপ্তি ঘটে। সবশেষে সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যৌথভাবে ‘আজ ধানের ক্ষেতে’ গান ও নৃত্য পরিবেশন করে এবং জাতীয় সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি টানা হয়।
শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, আমাদের ছয়টি ঋতুর নিজস্ব বৈচিত্র্য রয়েছে। বিশেষ করে শরতের যে রূপ—নীল আকাশ, মেঘের ভেলা, কাশবন ও শিউলি ফুল—তা শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে ছায়ানট। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শৈশব থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির কাছাকাছি এনে এই সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিতে পারলে চলমান প্রকৃতি ধ্বংসের প্রবণতা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।



























