ঢাকা ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কিশোরগঞ্জে সড়ক সংস্কারে তোড়জোড় সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে ম্যাক্স গ্রুপ সেপ্টেম্বর থেকে মেট্রোরেলের সময় বাড়ছে, শেষ ট্রেন রাত ১১টায় সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে স্থবির জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য পঞ্চগড়ে গৃহবধূকে বর্বর নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসায় ক্রিকেট বিশ্ব মাদারীপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মশাল মিছিল জেন-জি থেকে প্রবীণদের শেখার আছে অনেক কিছু মাদক ও জুয়ার প্রতিবাদ করায় কলেজশিক্ষক লাঞ্ছিত, গ্রেপ্তার ১ ‘স্বর্ণমুকুট নৃত্যরত্ন পুরস্কার ২০২৫’ পেলেন ইয়াসমিন লাবণ্য

ফিলিস্তিনি ফুটবলে প্রাণের সঞ্চার: শুরু হচ্ছে থাউজ্যান্ড মার্টিয়ার্স কাপ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৭:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ প্রায় তিন বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে ফিলিস্তিনে আবার ফিরছে ফুটবল। দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরোয়া ক্লাব ফুটবলের কার্যক্রম পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রত্যাবর্তনের প্রথম টুর্নামেন্টটির নামকরণ করা হয়েছে 'থাউজ্যান্ড মার্টিয়ার্স কাপ' বা হাজারও শহীদের স্মরণে কাপ।

পশ্চিম তীরের আল-বিরেহতে অবস্থিত জোসেফ ব্লাটার একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পিএফএ সভাপতি জিব্রিল রাজুব এই টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনি ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণের সঞ্চার করা এবং দেশে ও প্রবাসে থাকা মানুষের মধ্যে আশার আলো ছড়িয়ে দেওয়া। একই সঙ্গে তিনি চলমান আর্থিক ও নিরাপত্তাজনিত সংকট মোকাবিলায় ফিফা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থাগুলোর কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

টুর্নামেন্টের নামকরণের পেছনে রয়েছে গভীর আবেগ ও স্মৃতি। পিএফএর তথ্যমতে, গত তিন বছরের সংঘাতময় সময়ে নিহত ১,০১৪ জন ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদকে শ্রদ্ধা জানাতেই এই নামকরণ করা হয়েছে। পশ্চিম তীর, গাজা ও লেবাননের জন্য আলাদা তিনটি ট্রফি তৈরি করা হচ্ছে এবং প্রতিটি ট্রফিতে ওই ১,০১৪ জন ক্রীড়াবিদের নাম যুক্ত থাকবে।

টুর্নামেন্টে অংশ নিতে মোট ২২৬টি ক্লাবকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিম তীরের ১৪৬টি, গাজার ৪৪টি এবং লেবাননের ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরের ৩৬টি ক্লাব রয়েছে। প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্বে অঞ্চল ও ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের শাখাভিত্তিক গ্রুপ পদ্ধতিতে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী দিনে তিনটি অঞ্চলে একই সঙ্গে ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পশ্চিম তীরে জাবাল আল-মুকাবের লড়বে শাবাব আল-খলিলের বিপক্ষে, গাজায় শাবাব রাফাহর মুখোমুখি হবে খাদামাত রাফাহ, এবং লেবাননের আইন আল-হিলওয়া শরণার্থী শিবিরে আল-আনসার ও আল-নাহদা একে অপরের মোকাবিলা করবে।

অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পিএফএ ঘোষণা করেছে যে, যোগ্যতা পূরণকারী প্রতিটি ক্লাবকে সমান আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে, যা সরঞ্জাম কেনা ও যাতায়াতের খরচ মেটাতে ব্যবহৃত হবে। জিব্রিল রাজুবের মতে, এই টুর্নামেন্ট কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি ফিলিস্তিনি ক্রীড়াঙ্গন পুনর্গঠনের একটি সূচনা। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন হিসেবে এই আসর আয়োজন করা হলেও, আগামী মৌসুমে নিয়মিত লিগ কাঠামো চালুর পরিকল্পনা রয়েছে পিএফএর। ধ্বংসস্তূপের পাশে গড়িয়ে যাবে বল, উঠবে গোলের উল্লাস আর সেই মুহূর্তে ফুটবল হয়তো আবার মনে করিয়ে দেবে, জীবন থেমে থাকে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

ফিলিস্তিনি ফুটবলে প্রাণের সঞ্চার: শুরু হচ্ছে থাউজ্যান্ড মার্টিয়ার্স কাপ

আপডেট সময় : ১০:০৭:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ প্রায় তিন বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে ফিলিস্তিনে আবার ফিরছে ফুটবল। দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরোয়া ক্লাব ফুটবলের কার্যক্রম পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রত্যাবর্তনের প্রথম টুর্নামেন্টটির নামকরণ করা হয়েছে 'থাউজ্যান্ড মার্টিয়ার্স কাপ' বা হাজারও শহীদের স্মরণে কাপ।

পশ্চিম তীরের আল-বিরেহতে অবস্থিত জোসেফ ব্লাটার একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পিএফএ সভাপতি জিব্রিল রাজুব এই টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনি ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণের সঞ্চার করা এবং দেশে ও প্রবাসে থাকা মানুষের মধ্যে আশার আলো ছড়িয়ে দেওয়া। একই সঙ্গে তিনি চলমান আর্থিক ও নিরাপত্তাজনিত সংকট মোকাবিলায় ফিফা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থাগুলোর কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

টুর্নামেন্টের নামকরণের পেছনে রয়েছে গভীর আবেগ ও স্মৃতি। পিএফএর তথ্যমতে, গত তিন বছরের সংঘাতময় সময়ে নিহত ১,০১৪ জন ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদকে শ্রদ্ধা জানাতেই এই নামকরণ করা হয়েছে। পশ্চিম তীর, গাজা ও লেবাননের জন্য আলাদা তিনটি ট্রফি তৈরি করা হচ্ছে এবং প্রতিটি ট্রফিতে ওই ১,০১৪ জন ক্রীড়াবিদের নাম যুক্ত থাকবে।

টুর্নামেন্টে অংশ নিতে মোট ২২৬টি ক্লাবকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিম তীরের ১৪৬টি, গাজার ৪৪টি এবং লেবাননের ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরের ৩৬টি ক্লাব রয়েছে। প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্বে অঞ্চল ও ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের শাখাভিত্তিক গ্রুপ পদ্ধতিতে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী দিনে তিনটি অঞ্চলে একই সঙ্গে ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পশ্চিম তীরে জাবাল আল-মুকাবের লড়বে শাবাব আল-খলিলের বিপক্ষে, গাজায় শাবাব রাফাহর মুখোমুখি হবে খাদামাত রাফাহ, এবং লেবাননের আইন আল-হিলওয়া শরণার্থী শিবিরে আল-আনসার ও আল-নাহদা একে অপরের মোকাবিলা করবে।

অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পিএফএ ঘোষণা করেছে যে, যোগ্যতা পূরণকারী প্রতিটি ক্লাবকে সমান আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে, যা সরঞ্জাম কেনা ও যাতায়াতের খরচ মেটাতে ব্যবহৃত হবে। জিব্রিল রাজুবের মতে, এই টুর্নামেন্ট কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি ফিলিস্তিনি ক্রীড়াঙ্গন পুনর্গঠনের একটি সূচনা। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন হিসেবে এই আসর আয়োজন করা হলেও, আগামী মৌসুমে নিয়মিত লিগ কাঠামো চালুর পরিকল্পনা রয়েছে পিএফএর। ধ্বংসস্তূপের পাশে গড়িয়ে যাবে বল, উঠবে গোলের উল্লাস আর সেই মুহূর্তে ফুটবল হয়তো আবার মনে করিয়ে দেবে, জীবন থেমে থাকে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh