বিশ্বকাপে মেসিকে হত্যার হুমকি: ফাঁস হলো এফবিআইয়ের গোপন নথি

- আপডেট সময় : ০১:৩৮:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পার হলেও টুর্নামেন্ট চলাকালীন মাঠের বাইরের এক ভয়াবহ পরিস্থিতির তথ্য সম্প্রতি সামনে এসেছে। স্পেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্রেনসা ইবেরিকার অনুসন্ধানী অপরাধবিষয়ক চ্যানেলের মাধ্যমে এফবিআই ও আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা কেন্দ্রের (আইপিসিসি) কিছু গোপন নথি প্রকাশ পেয়েছে। এতে দেখা যায়, টুর্নামেন্টজুড়ে অনেক তারকা ফুটবলার, কোচ ও রেফারিদের প্রাণনাশের হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি ছিলেন এসব হুমকির মূল কেন্দ্রে। আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচের দিন টেক্সাসের ডালাস বিমানবন্দরে পুলিশকে ফোন করে এক ব্যক্তি দাবি করেছিলেন যে, তিনি ও তাঁর দুই সঙ্গী হাতে বানানো বোমা ও এআর-১৫ সেমিঅটোমেটিক রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি মেসিকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। এছাড়া মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যবহারকারী মেসিকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। স্টেডিয়ামের ডাস্টবিনে বোমা রাখা আছে—এমন ভুয়া তথ্যেও ম্যাচ চলাকালীন ব্যাপক তল্লাশি চালাতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও। ১৪ জুন এক ফিফা কর্মী জানান, এক ব্যক্তি রোনালদোর থাকার ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। ১৬ জুন হিউস্টনে পর্তুগাল দলের হোটেল থেকে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া টরন্টো ও মায়ামিতেও রোনালদোকে ঘিরে হয়রানির ঘটনা ঘটে।
মাঠের পারফরম্যান্স বা ফাউলের কারণেও খেলোয়াড়দের হুমকি পেতে হয়েছে। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে ৫ ও ৬ জুলাই প্যারাগুয়েতে প্রতিকৃতি পোড়ানোর মতো ঘটনা ঘটে। আলেকজান্ডার সরলথ, জামিনটন ক্যাম্পাজ ও লুকাস দিনিয়েও পেনাল্টি মিস বা ফাউলের কারণে প্রাণনাশের হুমকি পান। দক্ষিণ কোরিয়া পুরো দলকে বিমানবন্দর পর্যন্ত কড়া পুলিশ প্রহরায় রাখতে হয়েছিল।
রেফারিরাও ছাড় পাননি। আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের পর ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ারকে প্রায় ছয় হাজার হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়। ভিএআর দায়িত্বে থাকা উইলি দেলাজোদকেও একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়, পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে ফ্রান্সে এই দুই রেফারির বাড়ি ও স্বজনদের নিরাপত্তার জন্য আলাদা পুলিশি পাহারা বসাতে হয়েছিল। প্রসঙ্গত, ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বলটির দাম উঠতে পারে ১২৩ কোটি টাকা।




























