মার্কিন সিনেটে রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিল পাস, ভারত-চীনকে শাস্তির হুঁশিয়ারি
- আপডেট সময় : ০১:১২:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থ জোগানোর পথ বন্ধ করতে এবং মস্কোকে সহায়তাকারী দেশগুলোকে শাস্তির আওতায় আনতে মার্কিন সিনেটে একটি কঠোর নিষেধাজ্ঞা বিল পাস হয়েছে। ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের এই বিলটি সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়। এই বিলের ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ আমদানিকারক দেশগুলোর পণ্যের ওপর শতভাগ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন।
বর্তমানে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির শীর্ষে থাকা প্রধান পাঁচটি দেশ হলো—চীন, ভারত, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া। নতুন এই আইনের ফলে এসব দেশকে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য করা অথবা রাশিয়ার সস্তা জ্বালানি কেনার মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হবে। প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর তার শূন্য আসনে দায়িত্ব নেওয়া বোন ডারলাইন গ্রাহাম বলেন, “এই বিল রাশিয়ার অর্থনীতিকে সচল রাখা প্রধান দেশগুলোকে একটি সহজ, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে—আমেরিকার সঙ্গে ব্যবসা করা নাকি সস্তা রাশিয়ার জ্বালানি কেনা।”
রাশিয়ার পাশাপাশি এই বিলে ইরানের বিরুদ্ধেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এর আওতায় ১৯৯৬ সালের ইরান নিষেধাজ্ঞা আইনের মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যার মাধ্যমে ইরানের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শাস্তি দেওয়ার বিধান রয়েছে। এছাড়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দেশটির শীর্ষ ধনকুবের ব্যবসায়ী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে এই বিলে।
দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে থাকা এই বিলটির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন গত ১১ জুলাই প্রয়াত হওয়া রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। কিইভ সফরের পর গ্রাহামের আকস্মিক মৃত্যুর পর দুই দলের নেতারা ইউক্রেনের এই পরম মিত্রের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিলটি পাসে নতুন করে তৎপরতা শুরু করেন। ভোটের পর সিনেটর ব্লুমেনথাল সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা যা করেছি, তাতে লিন্ডসে গ্রাহাম গর্বিত হতেন।” তিনি আরও যোগ করেন, এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক সেই সব পক্ষকে থামিয়ে দেবে, যারা স্বাধীনতাকামী মানুষের বিরুদ্ধে রাশিয়ার এই হত্যাযজ্ঞ ও অপরাধমূলক আগ্রাসনের যুদ্ধে জড়িত।
তবে বিলটি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের অভ্যন্তরে বিতর্ক ও সমালোচনাও তৈরি হয়েছে। কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সদস্য সতর্ক করেছেন যে, এই বিল ট্রাম্পকে শুল্ক আরোপের একচ্ছত্র ক্ষমতা দেবে, যা তিনি নিজের বাণিজ্যনীতির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য গ্রেগরি মিকস ও ডন বেয়ার এই আইনের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এটি প্রেসিডেন্টকে ইচ্ছামতো শুল্ক আরোপের সুযোগ দেবে, যা অতীতেও তিনি করেছেন। তাদের মতে, এই বিল ট্রাম্পকে রাশিয়ার জবাবদিহি এড়াতে সাহায্য করবে এবং মার্কিন নাগরিকদের ওপর নতুন শুল্কের বোঝা চাপিয়ে দেবে। সিনেটে পাসের পর বিলটি এখন প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে, যেখানে আগামী ৩১ আগস্ট অধিবেশন শুরু হলে এটি উত্থাপন করা হতে পারে।


























