ফিফার নতুন বাণিজ্যিক পরিকল্পনা: বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি উয়েফার

- আপডেট সময় : ০৩:১৩:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যে ফিফার নেওয়া নতুন পরিকল্পনায় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে বড় ধরনের বিরোধ দেখা দিয়েছে। ফিফা তাদের বাণিজ্যিক স্বত্ব, যেমন সম্প্রচার, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি ও লাইসেন্সিং এবং বিভিন্ন টুর্নামেন্ট পরিচালনার কার্যক্রম এক ছাতার নিচে আনতে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণহীন শেয়ার বিক্রি করে বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়েছে ফিফা। সংস্থাটির মূলধন ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি পাউন্ড। ফিফার দাবি, সদস্যদেশগুলোর অনুমোদন পেলে এই পরিকল্পনার মাধ্যমে আগামী চার বছরে ফুটবল উন্নয়নে ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হবে।
তবে এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে উয়েফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফিফা ‘সীমা অতিক্রম করেছে’। উয়েফার মতে, ফুটবলের আত্মা ও এর পরিচালনব্যবস্থা কোনো বেচাকেনার সম্পদ নয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ফিফা এমন একটি সীমা অতিক্রম করেছে যা ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কখনোই করা উচিত নয়। উয়েফা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং প্রতিটি জাতীয় ফুটবল সংস্থারও একইভাবে দেখা উচিত। এছাড়া লিগ, ক্লাব, খেলোয়াড়, সমর্থক ও সরকার—ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যাঁরা ভাবেন, প্রত্যেকেরই এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে উয়েফাভুক্ত ৫৫টি সদস্যদেশ চলতি সপ্তাহেই জরুরি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। স্কাই স্পোর্টস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগোলে তাঁকে চাপে ফেলতে বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দেওয়ার ব্যাপারেও দেশগুলোর আগ্রহ রয়েছে। ইএসপিএন জানিয়েছে, ফিফার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে এবং সম্ভাব্য বিশ্বকাপ বর্জনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে।
এর আগেও ২০২১ সালে প্রতি দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়ে উয়েফার কঠোর বিরোধিতার মুখে পড়েছিল ফিফা। শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হয়েছিল তাদের। এবারও ফিফার নতুন পরিকল্পনা ঠেকাতে একই ধরনের কৌশল নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ফুটবল বিনিয়োগকারীদের সম্পদ নয়। এটি তাঁদের, যাঁরা বৃষ্টি-রোদ উপেক্ষা করে প্রতি সপ্তাহে গ্যালারি ভরান এবং মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে দলকে সমর্থন করেন।’
ফিফা ও উয়েফার সম্পর্ক আগে থেকেই বেশ শীতল। বিশেষ করে ফিফার শাসনব্যবস্থা নিয়ে একাধিক বিতর্ক এবং বিশ্বকাপে ফোলারিন বালোগান ইস্যুতে সংস্থাটির ভূমিকার প্রতিবাদে উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার চেফেরিন ফাইনাল ম্যাচও বর্জন করেছিলেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে কারণ, বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের দিন নিউইয়র্কে সদস্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক হলেও সেখানে ফিফা এই যুগান্তকারী পরিকল্পনার কোনো উল্লেখই করেনি। অথচ পরে হঠাৎ করেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) এ পরিকল্পনার বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানত না। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও দ্য টাইমস প্রথম এ খবর প্রকাশ করে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে স্কটিশ ও ওয়েলশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে স্কাই স্পোর্টস।




























