ঢাকা ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনীতিতে যতিচিহ্ন নেই, কী ভবিষ্যৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের? টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বাস চাপায় দুই কিশোর নিহত সুন্দরবনে বনদস্যু মজনু বাহিনীর কবলে ৪ জেলে, নৌকা ও মালামাল লুট ফেসবুক ও সংবাদপত্রে মিথ্যাচার ঠেকাতে সজাগ থাকার তাগিদ ড. মঈন খানের নয়াদিল্লির ছায়া কাটিয়ে বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির পথে বাংলাদেশ চাঁদা না দেওয়ায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও লুটপাট মধুপুরে বিরোধীদলকে আইসিটি মন্ত্রীর বার্তা: ‘লংমার্চ নয়, সত্য বলুন’ বিপর্যয়ের মুখে সিলেটের প্রকৃতি: প্রয়োজন দায়িত্বশীল পর্যটন ব্যবস্থাপনা কুবি সিন্ডিকেটে নতুন তিন সদস্য মনোনীত মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা: কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ ডিএনসিসি প্রশাসকের

গণহত্যা ও গুমের হোতাদের বিচার নিশ্চিত করার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৪:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



গণহত্যা, গুম-খুন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে বিচারের আওতার বাইরে রাখা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসব অপরাধের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধোলাইখালের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অভিনথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিএনপির ঢাকা-৬ আসন (সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেণ্ডারিয়া ও কোতোয়ালি ওয়ার্ড) এই সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে আইসিটি সচল রয়েছে এবং এটি সচলই থাকবে। খুনিদের বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো হবে। যারা এ দেশের মানুষের বুকে গুলি চালিয়ে গণহত্যা সংঘটিত করেছে, তাদের কোনোভাবেই ক্ষমা করা হবে না। বিগত ১৭ বছর ধরে যারা গুম-খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের প্রত্যেককে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিনা ভোটে দেশ চালিয়ে যারা গণতন্ত্রকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে, তারা বিশ্ব ইতিহাসে একটি লজ্জাজনক অধ্যায় তৈরি করেছে।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাম্প্রতিক তৎপরতা নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পতিত সরকারের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হয়ে নিয়মিত জুম মিটিং করছেন এবং নিজেদের কর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা প্রচার করছেন যে, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আমরাও চাই তিনি দেশে ফিরে আসুক এবং নিজের অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি হোক।'

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ স্পষ্ট করে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে ভারতের কাছে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে। তবে ভারত সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি। মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও তার সহযোগীদের ফিরিয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে তাদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং তারা চাইলে আপিল করার সুযোগও পাবেন। দেশে ফিরে তারা যেন সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হবে।

স্বাধীনতার পর দেশের মানুষ সবচেয়ে বর্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই ফ্যাসিবাদী শক্তি ও বাহিনীকে বাংলাদেশের মাটিতে আর কখনো রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সমালোচনা করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এই সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। এর মধ্যেই যারা সরকার পতনের এক দফার ডাক দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে জনগণকে ভাবতে হবে। বিএনপি এবং আন্দোলনের সহযোগী দলগুলো নীরব দর্শক হয়ে এসব কর্মকাণ্ড দেখবে না। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা, গণতন্ত্রকে সুসংহত করা এবং সাংবিধানিক পরিবর্তন আনতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো কোনো ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচারের উত্থান না ঘটে।

তিনি আরও বলেন, সরকার সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়ার জন্য সব পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু তারা সেখানে অংশ না নিয়ে রাস্তায় নেমে লং মার্চ শুরু করেছে। একবার উত্তর দিকে, আবার দক্ষিণ দিকে লং মার্চ করা হচ্ছে; এখন আবার পূর্ব ও পশ্চিমেও লং মার্চের কথা শোনা যাচ্ছে। সাধারণত একটি সরকারের চার বছর অতিবাহিত হওয়ার পর তীব্র আন্দোলন দেখা যায়। কিন্তু মাত্র ছয়-সাত মাসের মাথায় সরকারের এমন কী ব্যর্থতা দেখা গেল যে পতন আন্দোলন ও লং মার্চের ডাক দিতে হলো, সেই প্রশ্ন তোলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ২৬আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ৪১

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

গণহত্যা ও গুমের হোতাদের বিচার নিশ্চিত করার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৭:৪৪:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গণহত্যা, গুম-খুন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে বিচারের আওতার বাইরে রাখা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসব অপরাধের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধোলাইখালের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অভিনথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিএনপির ঢাকা-৬ আসন (সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেণ্ডারিয়া ও কোতোয়ালি ওয়ার্ড) এই সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে আইসিটি সচল রয়েছে এবং এটি সচলই থাকবে। খুনিদের বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো হবে। যারা এ দেশের মানুষের বুকে গুলি চালিয়ে গণহত্যা সংঘটিত করেছে, তাদের কোনোভাবেই ক্ষমা করা হবে না। বিগত ১৭ বছর ধরে যারা গুম-খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের প্রত্যেককে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিনা ভোটে দেশ চালিয়ে যারা গণতন্ত্রকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে, তারা বিশ্ব ইতিহাসে একটি লজ্জাজনক অধ্যায় তৈরি করেছে।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাম্প্রতিক তৎপরতা নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পতিত সরকারের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হয়ে নিয়মিত জুম মিটিং করছেন এবং নিজেদের কর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা প্রচার করছেন যে, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আমরাও চাই তিনি দেশে ফিরে আসুক এবং নিজের অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি হোক।'

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ স্পষ্ট করে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে ভারতের কাছে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে। তবে ভারত সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি। মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও তার সহযোগীদের ফিরিয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে তাদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং তারা চাইলে আপিল করার সুযোগও পাবেন। দেশে ফিরে তারা যেন সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হবে।

স্বাধীনতার পর দেশের মানুষ সবচেয়ে বর্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই ফ্যাসিবাদী শক্তি ও বাহিনীকে বাংলাদেশের মাটিতে আর কখনো রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সমালোচনা করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এই সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। এর মধ্যেই যারা সরকার পতনের এক দফার ডাক দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে জনগণকে ভাবতে হবে। বিএনপি এবং আন্দোলনের সহযোগী দলগুলো নীরব দর্শক হয়ে এসব কর্মকাণ্ড দেখবে না। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা, গণতন্ত্রকে সুসংহত করা এবং সাংবিধানিক পরিবর্তন আনতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো কোনো ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচারের উত্থান না ঘটে।

তিনি আরও বলেন, সরকার সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়ার জন্য সব পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু তারা সেখানে অংশ না নিয়ে রাস্তায় নেমে লং মার্চ শুরু করেছে। একবার উত্তর দিকে, আবার দক্ষিণ দিকে লং মার্চ করা হচ্ছে; এখন আবার পূর্ব ও পশ্চিমেও লং মার্চের কথা শোনা যাচ্ছে। সাধারণত একটি সরকারের চার বছর অতিবাহিত হওয়ার পর তীব্র আন্দোলন দেখা যায়। কিন্তু মাত্র ছয়-সাত মাসের মাথায় সরকারের এমন কী ব্যর্থতা দেখা গেল যে পতন আন্দোলন ও লং মার্চের ডাক দিতে হলো, সেই প্রশ্ন তোলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ২৬আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ৪১

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh