ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চুয়েটে নতুন উপাচার্য প্রত্যাখ্যান, শিক্ষার্থীদের লাল কার্ড ও বিক্ষোভ এশিয়ান গেমসে পদক জিতলে আরচারদের জন্য থাকছে নগদ অর্থ পুরস্কার চট্টগ্রামে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন সয়াবিন তেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট, দাম বাড়ানোর পাঁয়তারার অভিযোগ বাগেরহাটে শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার, অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট অর্থকষ্টে দেশ ছাড়তে চেয়েছিলেন অঞ্জলি আনন্দ, যেভাবে ফিরলেন বড় পর্দায় জায়েদের সহায়তার টাকা কেন নিলেন না অভিনেতা রিফাত চৌধুরী হরমুজ প্রণালিতে ইরান বাড়াবাড়ি করছে: সাবেক পেন্টাগন কর্মকর্তা মোহাম্মদপুরে পুলিশ ফাঁড়ির সামনেই তাণ্ডব চালিয়ে জমি দখল কোটালীপাড়ায় উপজেলা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমপি জিলানীর উন্নয়ন আলোচনা

সংকটে সবসময় বিএনপি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে: নজরুল ইসলাম

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান মন্তব্য করেছেন যে, দলটি সবসময় দেশের সংকট ও দুঃসময়ে জনগণের পাশে থেকেছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যেখানে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, সেখানে বিএনপি সবসময় তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।

গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে বাকশাল গঠনের মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় শাসন কায়েম করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই বাকশালি শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।

নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, ১৯৮২ সালে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে এরশাদ যখন সামরিক স্বৈরশাসন কায়েম করেছিলেন, তখন কয়েকটি দল তাকে সহযোগিতা করেছিল। আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীসহ কিছু দল ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও বিএনপি জনগণের সাথে বেইমানি করেনি। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি দেশে বহুদলীয় ও সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরায় চালু করে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি অবিরাম লড়াই চালিয়ে গেছে। এই সংগ্রামে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের যত নেতাকর্মী গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তা দেশের অন্য যেকোনো দলের চেয়ে অনেক বেশি।

তিনি উল্লেখ করেন, গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি পুনরায় জনগণের আস্থা অর্জন করেছে এবং বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। তিনি বলেন, এটি কোনো ক্ষমতা নয়, বরং এটি একটি দায়িত্ব। বিএনপি ক্ষমতাকে কেবল দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ও দল সেই দায়িত্ব পালনে আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

দেশের অর্থনৈতিক সংকটের ইতিহাস তুলে ধরে এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমান যখন দায়িত্ব নেন, তখন দেশে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছিল। পরবর্তীতে খালেদা জিয়া দায়িত্ব নিয়ে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করেছিলেন এবং বাংলাদেশ 'ইমার্জিং টাইগার' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল। এবার তারেক রহমান যখন দায়িত্ব নেন, তখন ঋণের বোঝা, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি সংকটাপন্ন ছিল। বর্তমানে সেই অবস্থা থেকে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

দেশের কল্যাণে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন ব্যাহত হলে সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবীদের কষ্ট বাড়বে। তিনি বিরোধী দলগুলোকে এমন কোনো কাজ না করার অনুরোধ জানান যা পতিত স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সুবিধা করে দেয়। এছাড়া সরকারের দেওয়া 'ফ্যামিলি কার্ড' (যার মাধ্যমে নারীরা মাসে আড়াই হাজার টাকা পাচ্ছেন) এবং কৃষকদের জন্য 'কৃষক কার্ড'-এর মতো কল্যাণমুখী উদ্যোগের বিরোধিতা না করে আরও ভালো পরিকল্পনা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

সংকটে সবসময় বিএনপি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে: নজরুল ইসলাম

আপডেট সময় : ০৭:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান মন্তব্য করেছেন যে, দলটি সবসময় দেশের সংকট ও দুঃসময়ে জনগণের পাশে থেকেছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যেখানে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, সেখানে বিএনপি সবসময় তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।

গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে বাকশাল গঠনের মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় শাসন কায়েম করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই বাকশালি শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।

নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, ১৯৮২ সালে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে এরশাদ যখন সামরিক স্বৈরশাসন কায়েম করেছিলেন, তখন কয়েকটি দল তাকে সহযোগিতা করেছিল। আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীসহ কিছু দল ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও বিএনপি জনগণের সাথে বেইমানি করেনি। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি দেশে বহুদলীয় ও সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরায় চালু করে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি অবিরাম লড়াই চালিয়ে গেছে। এই সংগ্রামে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের যত নেতাকর্মী গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তা দেশের অন্য যেকোনো দলের চেয়ে অনেক বেশি।

তিনি উল্লেখ করেন, গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি পুনরায় জনগণের আস্থা অর্জন করেছে এবং বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। তিনি বলেন, এটি কোনো ক্ষমতা নয়, বরং এটি একটি দায়িত্ব। বিএনপি ক্ষমতাকে কেবল দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ও দল সেই দায়িত্ব পালনে আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

দেশের অর্থনৈতিক সংকটের ইতিহাস তুলে ধরে এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমান যখন দায়িত্ব নেন, তখন দেশে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছিল। পরবর্তীতে খালেদা জিয়া দায়িত্ব নিয়ে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করেছিলেন এবং বাংলাদেশ 'ইমার্জিং টাইগার' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল। এবার তারেক রহমান যখন দায়িত্ব নেন, তখন ঋণের বোঝা, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি সংকটাপন্ন ছিল। বর্তমানে সেই অবস্থা থেকে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

দেশের কল্যাণে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন ব্যাহত হলে সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবীদের কষ্ট বাড়বে। তিনি বিরোধী দলগুলোকে এমন কোনো কাজ না করার অনুরোধ জানান যা পতিত স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সুবিধা করে দেয়। এছাড়া সরকারের দেওয়া 'ফ্যামিলি কার্ড' (যার মাধ্যমে নারীরা মাসে আড়াই হাজার টাকা পাচ্ছেন) এবং কৃষকদের জন্য 'কৃষক কার্ড'-এর মতো কল্যাণমুখী উদ্যোগের বিরোধিতা না করে আরও ভালো পরিকল্পনা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh