জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুলের এমপি পদের ভাগ্য এখন স্পিকার ও ইসির হাতে
- আপডেট সময় : ০২:২৮:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের সংসদীয় পদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। দল থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দেওয়া হলেও এখনো তাঁর এমপি পদ বহাল রয়েছে। ফলে তিনি বর্তমানে কোন দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন বা স্বতন্ত্র হিসেবে সংসদে আছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গাজী নজরুল ইসলাম নিজেকে এখনো জামায়াতের এমপি বলেই দাবি করছেন। তিনি বলেন, দল তাঁকে বহিষ্কার করলেও আল্লাহর রহমতে তাঁর সদস্যপদ এখনো আছে এবং খাতা-কলমে সব জায়গায় তিনি জামায়াতের সদস্য হিসেবেই আছেন। তবে জামায়াত নেতারা এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ আসনের এমপি মো. ইজ্জত উল্লাহ এবং দলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের চিঠি ইতিমধ্যে সংসদ সচিবালয় ও ইসিতে পাঠানো হয়েছে। দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ নেই এবং দলের পক্ষ থেকে করণীয় সবকিছুই করা হয়েছে।
দল থেকে বহিষ্কারের পর সংসদেও গাজী নজরুলকে নিয়ে নানা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, যদিও তিনি ১০ সদস্যের এই কমিটির একজন সদস্য। কমিটির সভাপতি ও বিএনপিদলীয় এমপি মনিরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, জামায়াতের আপত্তির কারণেই তাঁকে ডাকা হয়নি। এ ছাড়া সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটি থেকেও বিরোধী দলের আপত্তির মুখে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়。
গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকা না-থাকা নিয়ে সাংবিধানিক জটিলতা রয়েছে। সংবিধানে নৈতিক স্খলনের দায়ে ফৌজদারি অপরাধে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ড হলে এমপি পদ বাতিলের কথা বলা আছে। তবে কেবল দল থেকে বহিষ্কৃত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমপি পদ বাতিলের কোনো স্পষ্ট বিধান নেই। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বর্তমানে ওমরাহ পালনের জন্য মদিনায় অবস্থান করছেন। সেখান থেকে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় তিনি জানান, গাজী নজরুল বর্তমানে কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও সংবিধান অনুযায়ী তাঁর এমপি পদ হারানোর বাধ্যবাধকতা নেই।
অতীতে দশম সংসদে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর ক্ষেত্রেও একই জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ২০১৪ সালে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর এমপি পদ বাতিলের সুপারিশ করে স্পিকারকে চিঠি দেওয়া হয়। তৎকালীন স্পিকার বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য ইসিকে চিঠি দিলেও শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর লতিফ সিদ্দিকী সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে পদত্যাগ করেন এবং ৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আসনটি শূন্য ঘোষণা করেন।
৭৫ বছর বয়সী গাজী নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর 'নৈতিক স্খলন'-এর অভিযোগে গত ২২ জুলাই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত। দল থেকে পদত্যাগ করে পরে ভুল স্বীকারের মাধ্যমে দলে ফেরার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি গত ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিনও তিনি বিরোধী দলের এমপিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন, তবে জামায়াত নেতাদের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি। জামায়াত নেতারা স্পষ্ট করেছেন যে তাঁর বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই এবং ওই আসনে নতুন প্রার্থী তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।





























