এসআরবি বিল: সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী সদস্যদের ৮ ভিন্নমত
- আপডেট সময় : ০৩:১৮:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

প্রস্তাবিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) বিলের আটটি বিষয়ে লিখিত ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বিরোধী দলের সদস্যরা। র্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে এই নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করা হয়। আজ মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত এই কমিটিতে থাকা বিরোধী দলের দুজন সদস্য তাঁদের লিখিত আপত্তি জমা দেন। আগামীকাল বুধবার বিলটি নিয়ে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়া হবে এবং পরদিন বৃহস্পতিবার এটি পাস হতে পারে বলে জানা গেছে।
বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেন জানান, র্যাব বিলুপ্ত করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও নতুন বিলে কেবল নাম পরিবর্তন করে আগের কাঠামোই হুবহু রেখে দেওয়া হয়েছে। এই কারণে তাঁরা বিলের ৭ থেকে ৮টি ধারায় ভিন্নমত দিয়েছেন। সংসদীয় কমিটির বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিরোধী সদস্যরা বিলটি তড়িঘড়ি করে পাস না করে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই র্যাবের নামের বাইরে আর কী কী পরিবর্তন আসছে, তা সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে। এসআরবির নিয়মনীতি, তদারকি ও কাজের ধরন র্যাবের চেয়ে আসলেই আলাদা কি না, তা বিদেশি রাষ্ট্রগুলো পর্যবেক্ষণ করবে।
বিরোধী দলের উত্থাপিত আপত্তিতে বলা হয়েছে, বিলে যেভাবে ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের কথা বলা হয়েছে, তাতে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। কারণ, এই কমিটির প্রধান ও সদস্যসচিব উভয়ই হবেন এসআরবির নিজস্ব কর্মকর্তা। এর পরিবর্তে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে সভাপতি করে এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বিরোধী দল। এ ছাড়া, বেসামরিক ব্যক্তিদের এসআরবি কোথায় এবং কতক্ষণ আটকে রাখতে পারবে, সে বিষয়ে বিলে স্পষ্টতা নেই। নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ ব্যবহারের সুযোগ রাখা হলেও সেগুলোর অবস্থান প্রকাশ বা হেফাজতের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড রাখার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। বিরোধী দল প্রস্তাব করেছে, এসআরবির সব দপ্তর, ক্যাম্প, হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষের অবস্থান সরকারি গেজেটে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তির নাম, সময়, স্থান, আইনি কারণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য ও থানায় হস্তান্তরের বিবরণ সংবলিত একটি পূর্ণাঙ্গ রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি, এসআরবি যে জেলায় কাজ করবে, সেখানে তাদের মাসিক কার্যবিবরণী জমা দেওয়ার বিধান রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সংসদীয় কমিটি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬ সংশোধিত আকারে সংসদে উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে। বৈঠকে আলোচনা হয় যে, অতীতে র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে অপব্যবহার করা হয়েছে। তবে কোনো বাহিনীর অপব্যবহারের জন্য পুরো বাহিনীটি বিলুপ্ত না করে, এর দক্ষ জনবল ও বিদ্যমান সরঞ্জামকে কাজে লাগানো উচিত। একই সঙ্গে বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারত্ব, প্রশিক্ষণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, হুইপ রকিবুল ইসলাম এবং কমিটির সদস্য মো. কামরুজ্জামান, মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, নূরুল ইসলাম ও আব্দুল বাতেন অংশ নেন।
২০০৩ সালে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স’ সংশোধনের মাধ্যমে র্যাব গঠনের আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন মহলে বাহিনীটি সমালোচিত হয়। এখন সেই অধ্যাদেশ থেকে র্যাব-সংক্রান্ত ধারাগুলো বাদ দিয়ে বাহিনীটি বিলুপ্ত করা হচ্ছে এবং নতুন এসআরবি আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। যদিও মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়া আইন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কাগজে-কলমে র্যাব বিলুপ্ত হলেও এর প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে। র্যাবের বর্তমান জনবল, ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা, সম্পত্তি, তহবিল, নথিপত্র ও হিসাবের সব কিছুই এসআরবিতে স্থানান্তরিত হবে। র্যাবের কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নতুন এই ইউনিটের সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন। এমনকি র্যাবের চলমান মামলা, চুক্তি ও দায়দায়িত্বও এসআরবির নামে পরিচালিত হবে। উল্লেখ্য, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর র্যাব এবং এর সাবেক ও তৎকালীন সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে জাতিসংঘ, গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এবং বিভিন্ন দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনও র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল।
তাঁরা বিলের ৭-৮টি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন।





























