মতের ভিন্নতাই গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র, এর কোনো বিকল্প নেই: ড. মঈন খান
- আপডেট সময় : ০৮:৪৯:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হলো মতের ভিন্নতা বা বিভেদ প্রকাশ করা বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, ভিন্নমত প্রকাশ ও গণতন্ত্রের এই মূল নীতিকে ধারণ করেই ড. কামাল হোসেন গণফোরাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে তাঁর বিশ্বাস। শনিবার গণফোরামের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং দলটির ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও কর্মসংস্থানের সংকট নিয়ে কথা বলেন ড. আবদুল মঈন খান। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষুদ্র ভূখণ্ডের এই দেশে বিশাল জনসংখ্যার বিপরীতে সম্পদ অত্যন্ত সীমিত। এই সীমাবদ্ধতার মাঝেও মানুষকে টিকে থাকার সংগ্রাম করতে হচ্ছে। বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হলো কর্মসংস্থানের অভাব। আর এই বিশাল সংকট কাটিয়ে উঠতে গণতন্ত্রের চর্চা অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন।
গণতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. মঈন খান বলেন, এটি কেবল ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ দেয় না, বরং মানুষের বাকস্বাধীনতা, অর্থনৈতিক সমতা, উন্নত জীবনমান ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার একমাত্র পথ। গণতন্ত্র মানুষের মননশীলতা, চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অনুপস্থিত থাকলে একটি রাষ্ট্র সব দিক থেকে পিছিয়ে পড়ে।
বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসের কথা স্মরণ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, এই দীর্ঘ পথচলায় দেশ বারবার হোঁচট খেয়েছে। তবে একে বড় কোনো ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাঙালি জাতি প্রতিবারই হোঁচট খেয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং নতুন শক্তিতে এগিয়ে গেছে। এ দেশের মানুষ সবসময় সত্য, ন্যায়, মানবাধিকার ও নারীর অধিকারের পক্ষে সোচ্চার থেকেছে। আশির দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক গণআন্দোলন পর্যন্ত প্রতিটি লড়াইয়ে দেশের মানুষ গণতন্ত্র ও নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছে।
ড. মঈন খান আরও বলেন, গণতন্ত্রের পথ কখনো সহজ বা কুসুমাস্তীর্ণ হয় না। প্রতিটি মুহূর্তে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই আমাদের চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের মানুষের মধ্যে নানা বৈচিত্র্য থাকলেও সেই ভিন্নতাকে ধারণ করেই একটি সুষম ও ঐক্যবদ্ধ সমাজ গড়ে তুলতে হবে। সবার মত এক হওয়া প্রকৃতির নিয়মের পরিপন্থী। তাই ভিন্নমত থাকবেই, তবে যুক্তি ও তর্কের মাধ্যমে সঠিক পথটি বেছে নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে ড. কামাল হোসেনের কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, তাঁর কাছ থেকে কাজের প্রতি গভীর মনোযোগ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার বিষয়টি তিনি শিখেছেন। ড. কামাল হোসেন যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন তাঁর অধীনে অফিস পরিচালনার প্রক্রিয়া খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল বলে জানান ড. মঈন খান。




























