সৌদি আরব কেন হুতিদের সামরিকভাবে পরাজিত করতে পারছে না
- আপডেট সময় : ০৫:২৩:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

সৌদি আরবের বিশাল সামরিক সক্ষমতা রয়েছে—তাদের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র এবং গোয়েন্দা প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটি সামরিক খাতে প্রায় ৮ হাজার ৩২০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে, যা বিশ্বে অষ্টম। তবে এই প্রথাগত শ্রেষ্ঠত্ব হুতিদের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত কৌশলগত বিজয় এনে দিতে পারেনি। সৌদি আরব দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালানোর সামর্থ্য রাখলেও, হুতিদের নিয়ে সৃষ্ট সংকটটি শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে সমাধানযোগ্য নয়।
সম্প্রতি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুবার ফোন করে হুতিদের ওপর সরাসরি হামলা চালানোর অনুরোধ করেছিলেন। ট্রাম্প সরাসরি হামলায় রাজি না হলেও গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, রিয়াদ এখন বুঝতে পারছে সামরিক অভিযানের সীমাবদ্ধতা কোথায়। হুতিদের লক্ষ্য সৌদি আরবের সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা নয়, বরং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে অনিরাপদ করে তোলা। এই 'সক্ষমতা অকার্যকর করার কৌশল' সৌদি আরবের 'শাস্তি দেওয়ার কৌশল'-এর চেয়ে বেশি কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে।
হুতিদের বর্তমান অগ্রযাত্রা ইয়েমেনের মোখা বন্দর দখল এবং বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে তাদের নজর কৌশলগত মানচিত্র বদলে দিয়েছে। বাব আল-মানদেব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ, যা লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ১১ সেপ্টেম্বর হুতি বাহিনী কৌশলগত পেরিম দ্বীপে পৌঁছানোর পর থেকে এই অঞ্চলে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। সৌদি আরবের হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনও এখন হুতিদের হুমকির মুখে।
২০১৫ সাল থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এসিএলইডি-র তথ্য অনুযায়ী, হুতিরা সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় এক হাজার রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাড়ে ৩০০-এর বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সময়ের সঙ্গে তাদের হামলার কৌশলেও পরিবর্তন এসেছে; গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার ১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০১৯ সালে আবকাইক ও খুরাইস তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনাটি প্রমাণ করেছে যে, তুলনামূলক কম খরচের অসম যুদ্ধেও বিশ্বের অন্যতম সামরিক শক্তিধর দেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
সৌদি আরবের জন্য সংকটটি বহুমুখী। একদিকে তারা সংযত থাকলে হুতিরা তাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়াচ্ছে, আবার সংঘাত বাড়ালে তেল স্থাপনা ও জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়ছে। হুতিদের নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড বা অস্ত্রের সংখ্যা দিয়ে তাদের মূল্যায়ন করা ভুল। তাদের আসল শক্তি হলো খুব কম খরচে সৌদি আরব ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর কৌশলগত অনিশ্চয়তা চাপিয়ে দেওয়া। তুলনামূলক কম খরচের একটি অসম হামলাও বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সামরিক শক্তিধর দেশগুলোর একটির ওপর বিপুল ক্ষতি চাপিয়ে দিতে পারে। এ কারণেই সৌদি আরবের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে কৌশলগতভাবে অজেয় থাকার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ২০২৬ সালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, হুতিদের হুমকি এখন আর মূলত ভূখণ্ডকেন্দ্রিক নয়, বরং শলগতভ (২০২৬) প্রেক্ষাপটে তা আরও বিস্তৃত। সংঘাতের এই কৌশলগত সমীকরণ বদলাতে না পারলে, কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে সৌদি আরবের পক্ষে হুতি সমস্যা সমাধান করা অত্যন্ত কঠিন।



























