সুনামগঞ্জে এমপির ডিও লেটারে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জে বিসিআইসির সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, গোডাউন, আর্থিক সচ্ছলতা এবং বৈধ লাইসেন্সকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও এবার তা মানা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় এমপির ডিও লেটারের ভিত্তিতে, যার ফলে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও প্রকৃত সার ব্যবসায়ীরা বাদ পড়েছেন।
বাদ পড়া একাধিক প্রার্থী জানিয়েছেন, তারা যথাযথ কাগজপত্র জমা দিয়ে আবেদন করলেও কর্তৃপক্ষ তাদের বাদ পড়ার কোনো কারণ ব্যাখ্যা করেনি। তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেছে, ব্যবসার অভিজ্ঞতা নেই এমন অনেক ব্যক্তি কেবল এমপির ডিও লেটারের জোরে ডিলারশিপ পেয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বঞ্চিত ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সারের ব্যবসা করছি, আমার লাইসেন্স ও গোডাউন সবই আছে, কিন্তু আবেদন বাতিল করা হয়েছে। অথচ যাদের সারের দোকানই নেই, তারা ডিও লেটার ব্যবহার করে ডিলার হয়েছেন।
জেলা কৃষি অফিসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এমপির ডিও লেটারের মাধ্যমেই বেশিরভাগ নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া যেখানে একাধিক ডিও লেটার পাওয়া গেছে, সেখানে যাচাই-বাছাই করেই তালিকা পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, ডিলারশিপ অব্যবসায়ীদের হাতে চলে যাওয়ায় জেলার কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, এর ফলে সারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে এবং কালোবাজারি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্বচ্ছতার স্বার্থে বাদ পড়া প্রার্থীদের কারণ জানানো এবং নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান জানান, উপজেলা কমিটি যাচাই-বাছাই করে তিনটি করে নাম জেলা কমিটির কাছে পাঠায়, যা পরে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, জেলায় মোট ৫০৭টি আবেদন জমা পড়েছিল। তাহিরপুর উপজেলা ছাড়া বাকি ১১টি উপজেলায় মোট ৮১ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে স্থানীয় এমপির সাথে সমন্বয় করেই এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।


























