কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে রাষ্ট্রপতির গভীর উদ্বেগ
- আপডেট সময় : ০৪:৫৪:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রতি পরিবারের দায়বদ্ধতা বাড়াতে সামাজিক সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। সম্প্রতি কুমিল্লায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার মর্মান্তিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, একটি মেয়ে তিনদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পরও তার বাবা-মায়ের মধ্যে যে স্বাভাবিক উদ্বেগ থাকা প্রয়োজন ছিল, তা পরিলক্ষিত হয়নি। তার মতে, এই উদাসীনতা সমাজের গভীরে থাকা এক গভীর মানসিক সংকটের বহিঃপ্রকাশ।
গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার একটি ধানক্ষেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত স্কুলছাত্রী যশোর সদর উপজেলার আব্দুল আলিমের মেয়ে এবং কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা রিজিয়নে কর্মরত এবং তারা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নয়ন ও পরিবর্তন ঘটলেও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। তিনি অভিভাবকদের শিশুদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এক্ষেত্রে অবহেলা থাকলে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা না থাকায় মায়েদের ফুটপাতে বসে অপেক্ষা করতে হয়, যা সমাজের বিদ্যমান উদ্বেগেরই প্রতিফলন।
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির মতো অপরাধ দমনে দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার এবং কঠোর আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি স্পষ্টভাবে জানান, সরকার এসব অপরাধের বিষয়ে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে। তবে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; এজন্য মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন আবশ্যক।
এছাড়া, কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি প্রতিটি উপজেলায় কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
জানা যায়, ওই স্কুলছাত্রী যশোর সদর উপজেলার আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। নিহতের বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা রিজিয়নে চাকরি করেন। তারা কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।


























