ঢাকা ০৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকেও টিএফআই সেলে রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর আসামে বন্যা পরিস্থিতি: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮২ জন বাংলাদেশে আসছে তুর্কি মেগা সিরিজ ‘সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবি’ শিশুদের সুস্থতায় মায়ের দুধের বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজধানীর দুই মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা সদৃশ ব্যাগ, বন্ধ কার্যক্রম তৃণমূলে নতুন কমিটি ও অনলাইন সক্রিয়তায় ফেরার পথে আওয়ামী লীগ মিরপুর মেট্রো স্টেশনে বোমাতঙ্ক, এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন ব্যবসায়ীরা: সার্জিও গর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরছে: সার্জিও গর শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করলেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

তৃণমূলে নতুন কমিটি ও অনলাইন সক্রিয়তায় ফেরার পথে আওয়ামী লীগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৯:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বর্তমানে এক কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। ক্ষমতা হারানো দলটির কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তারা বিভিন্ন কৌশলে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দলটি তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো নতুন করে সাজানো, বিচ্ছিন্নভাবে রাজপথে কর্মসূচি পালন এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা ও অভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ওপর জোর দিচ্ছে।

দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করলেও তিনি নিয়মিত অনলাইনে দেশে-বিদেশে থাকা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। জেলা, উপজেলা, থানা ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। দলটির সূত্র অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশের অন্তত ১৭টি জেলায় উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠন বা দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অনেক কমিটিই ভার্চ্যুয়ালি অনুমোদন বা অনলাইনে ঘোষণা করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো কমিটি বিলুপ্ত করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে, আবার কোথাও 'সমন্বয়কারী' বা 'দায়িত্বপ্রাপ্ত' পরিচয়ে নেতৃত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চলতি মাসে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলে সংগঠন গোছানোর তৎপরতা আরও গতি পেয়েছে। জুলাইয়ের শুরুতে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের অধীনে মোহাম্মদপুর, শেরেবাংলা নগর, আদাবর ও কাফরুল থানার আহ্বায়ক কমিটি এবং ২৩টি ওয়ার্ডে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৭ জুলাই তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি এবং পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক লীগও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন ইউনিট ও জেলা পর্যায়ে কমিটি ঘোষণা করেছে।

নতুন কমিটিগুলোতে নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে চারটি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে: কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে সক্রিয় হওয়া, বিএনপি-জামায়াতের সাথে সখ্য বা আত্মীয়তার সুবাদে এলাকায় অবস্থান করতে পারা, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়া এবং বিদেশে বা কারাগারে থাকা নেতাদের অর্থের জোগান দেওয়ার সক্ষমতা। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ঝটিকা মিছিল করার সক্ষমতা এবং অনলাইন প্রচারের সক্রিয়তাকে মূল্যায়নের অন্যতম মানদণ্ড করা হয়েছে।

তবে এই কৌশল নিয়ে দলের ভেতরেই অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তৃণমূলের কম পরিচিত নেতারা সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারায় প্রচলিত সাংগঠনিক স্তর ও নেতৃত্বের ধাপ অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা জানিয়েছেন, এর ফলে তৃণমূলের নেতারা অনেক সময় জেলা বা কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের গুরুত্ব দিতে চাইছেন না।

দলীয় সূত্রমতে, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ প্রায় তিন শতাধিক নেতা বর্তমানে কারাগারে আছেন। দলের উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্যও গ্রেপ্তার হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অপরিবর্তিত রেখে তৃণমূল পুনর্গঠনের মাধ্যমে দলটি শুধু অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টা করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অতীতের ভুল নিয়ে আত্মসমালোচনা বা রাজনৈতিক সংস্কারের পথে না হেঁটে কেবল কমিটি পুনর্বিন্যাস করে জন-আস্থা ফেরানো কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে দলের ভেতরেই সংশয় রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

তৃণমূলে নতুন কমিটি ও অনলাইন সক্রিয়তায় ফেরার পথে আওয়ামী লীগ

আপডেট সময় : ০২:১৯:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
print news

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বর্তমানে এক কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। ক্ষমতা হারানো দলটির কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তারা বিভিন্ন কৌশলে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দলটি তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো নতুন করে সাজানো, বিচ্ছিন্নভাবে রাজপথে কর্মসূচি পালন এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা ও অভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ওপর জোর দিচ্ছে।

দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করলেও তিনি নিয়মিত অনলাইনে দেশে-বিদেশে থাকা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। জেলা, উপজেলা, থানা ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। দলটির সূত্র অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশের অন্তত ১৭টি জেলায় উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠন বা দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অনেক কমিটিই ভার্চ্যুয়ালি অনুমোদন বা অনলাইনে ঘোষণা করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো কমিটি বিলুপ্ত করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে, আবার কোথাও 'সমন্বয়কারী' বা 'দায়িত্বপ্রাপ্ত' পরিচয়ে নেতৃত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চলতি মাসে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলে সংগঠন গোছানোর তৎপরতা আরও গতি পেয়েছে। জুলাইয়ের শুরুতে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের অধীনে মোহাম্মদপুর, শেরেবাংলা নগর, আদাবর ও কাফরুল থানার আহ্বায়ক কমিটি এবং ২৩টি ওয়ার্ডে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৭ জুলাই তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি এবং পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক লীগও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন ইউনিট ও জেলা পর্যায়ে কমিটি ঘোষণা করেছে।

নতুন কমিটিগুলোতে নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে চারটি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে: কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে সক্রিয় হওয়া, বিএনপি-জামায়াতের সাথে সখ্য বা আত্মীয়তার সুবাদে এলাকায় অবস্থান করতে পারা, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়া এবং বিদেশে বা কারাগারে থাকা নেতাদের অর্থের জোগান দেওয়ার সক্ষমতা। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ঝটিকা মিছিল করার সক্ষমতা এবং অনলাইন প্রচারের সক্রিয়তাকে মূল্যায়নের অন্যতম মানদণ্ড করা হয়েছে।

তবে এই কৌশল নিয়ে দলের ভেতরেই অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তৃণমূলের কম পরিচিত নেতারা সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারায় প্রচলিত সাংগঠনিক স্তর ও নেতৃত্বের ধাপ অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা জানিয়েছেন, এর ফলে তৃণমূলের নেতারা অনেক সময় জেলা বা কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের গুরুত্ব দিতে চাইছেন না।

দলীয় সূত্রমতে, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ প্রায় তিন শতাধিক নেতা বর্তমানে কারাগারে আছেন। দলের উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্যও গ্রেপ্তার হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অপরিবর্তিত রেখে তৃণমূল পুনর্গঠনের মাধ্যমে দলটি শুধু অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টা করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অতীতের ভুল নিয়ে আত্মসমালোচনা বা রাজনৈতিক সংস্কারের পথে না হেঁটে কেবল কমিটি পুনর্বিন্যাস করে জন-আস্থা ফেরানো কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে দলের ভেতরেই সংশয় রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo