দেশে এখন ‘নির্লজ্জ দলীয়করণ’ চলছে: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

- আপডেট সময় : ০৫:২৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়া। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে বর্তমানে দেশে ‘নির্লজ্জ দলীয়করণ’ চলছে। তিনি বলেন, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা ও বিভিন্ন প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য ও দেশপ্রেমিকদের সরিয়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা মহানগর জামায়াত আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ডা. শফিকুর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে জেলা পরিষদ ও করপোরেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে দলীয়করণ চলছে, যা নতুন ধরনের কোটা ব্যবস্থার মতো। তার অভিযোগ, যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিদের সরিয়ে সেখানে দুর্নীতিবাজদের বসিয়ে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য তৈরির চেষ্টা চলছে।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, যারা জীবন দিয়েছেন তারা কি কেবল এক দলকে সরিয়ে অন্য দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য আত্মত্যাগ করেছিলেন? তার মতে, শহীদরা চেয়েছিলেন রাষ্ট্র ও ব্যবস্থার পরিবর্তন। জামায়াত আমির আরও বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় অনেক দল দূরত্ব বজায় রাখলেও জামায়াত প্রকাশ্যে তরুণদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। তবে আন্দোলন সফল হওয়ার পরও দলটি এর কৃতিত্ব বা মাস্টারমাইন্ড হওয়ার দাবি করেনি, বরং শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে থাকাকেই প্রাধান্য দিয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ৬ আগস্টের পর থেকে দেশে চাঁদাবাজি শুরু হলেও তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যদিও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। শহীদ পরিবারের সদস্যদের মানসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, অনেক পরিবার আর্থিক সহায়তার চেয়ে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে, যা রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের জন্য শিক্ষার বিষয়।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, তারা প্রতিশোধ নয়, বরং শহীদদের হত্যার বিচার চান। যত সময় লাগুক, এই বাংলার মাটিতে বিচার হবেই। এছাড়া গণভোট ও জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি থেকে জামায়াত সরবে না বলেও তিনি জানান। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সঠিক পথে ফিরে আসার সময় এখনো আছে। নানা ভয়ভীতি ও লোভের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, আল্লাহ ছাড়া তারা কাউকে ভয় পান না এবং অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবেন না। শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে না দেওয়ার অঙ্গীকার করে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।
























