স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকেও টিএফআই সেলে রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

- আপডেট সময় : ০৩:০৭:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে র্যাব-১ কার্যালয়ের গোপন বন্দিশালা ‘টিএফআই সেল’-এ আটকে রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তাকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। শনিবার সকালে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও ভুক্তভোগীদের বর্ণনার ভিত্তিতে টিএফআই সেলের নির্দিষ্ট কক্ষগুলো শনাক্ত করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল বিচারকদের এই পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছিলেন। আমিনুল ইসলাম বলেন, এতদিন ‘আয়নাঘর’ নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও বিচারকদের সরাসরি ঘটনাস্থল দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনের পর্যবেক্ষণ একটি মেমোরেন্ডামে লিপিবদ্ধ করা হবে, যা মামলার বিচারিক নথির অংশ হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।
পরিদর্শনের সময় ভবনটির ভেতরে ২২টি ছোট-বড় কক্ষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি কক্ষ এতটাই ছোট যে সেখানে একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে শুয়ে থাকাও সম্ভব নয় বলে তিনি জানান। ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী, এসব কক্ষে হাত ও চোখ বেঁধে দিনের পর দিন, এমনকি বছরের পর বছর আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হতো। তিনি আরও জানান, ব্যারিস্টার আরমানকে যে কক্ষে রাখা হয়েছিল, সেটিও তদন্তকারীরা শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই শতাধিক গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান মেলেনি, যাদের মধ্যে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী অন্যতম। তিনি অভিযোগ করেন, আয়নাঘরে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ও ১৬৭ ধারার কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি। এসব ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তদন্তের সময় ভবনটির বিভিন্ন অংশে নতুন দেয়াল তুলে আগের কাঠামো আড়াল করার আলামতও পাওয়া গেছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের সন্দেহের ভিত্তিতে দেয়াল অপসারণ করলে গোপন কক্ষগুলো বেরিয়ে আসে। চিফ প্রসিকিউটর জানান, নিচতলার একটি কক্ষকে ভুক্তভোগীরা ‘ডেথ সেল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা এসব কক্ষের অস্তিত্ব গোপন করার চেষ্টা করেছেন, তারাও বিচারের বাইরে থাকবেন না। মাঠপর্যায়ে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের পাশাপাশি তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়বদ্ধতাও ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ নীতির আওতায় তদন্ত করা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যে ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে ডিজিএফআই-সংশ্লিষ্ট আরেকটি গোপন কেন্দ্র ‘জেআইসি’ পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যবিধির রুল ৪৬এ, রোম সংবিধির সংশ্লিষ্ট বিধান এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারকদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সুযোগ রয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এই বিচারিক পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছেন।
আইনগত বিষয় তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কাউকে গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হয় এবং গ্রেফতারের কারণ জানাতে হয়। একই বাধ্যবাধকতা রয়েছে ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ও ১৬৭ ধারায়। কিন্তু আয়নাঘরে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব সাংবিধানিক ও আইনি বিধান অনুসরণ করা হয়নি বলে



























