রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির ৩ শীর্ষ নেতা

- আপডেট সময় : ০৪:০৮:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র দাবি করেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির তিন সিনিয়র নেতার নাম রাজনৈতিক মহলে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।
দলীয় ও রাজনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তারা হলেন—বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খান। এর পাশাপাশি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত থাকা একজন সিনিয়র সচিবের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। এ কারণে শূন্য হতে যাওয়া এই পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া যায়, তা নিয়ে সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নানামুখী আলোচনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠেয় সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে, দলের বাইরে থেকে কোনো গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে এই পদে নিয়ে আসার সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ। তবে বিএনপির একাংশের নেতাদের মতে, রাষ্ট্রপতির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের জন্য দলীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় পরিচালনায় অভিজ্ঞ কাউকেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত।
এদিকে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি পদে যেসব নাম সামনে আসছে তা মূলত অনুমাননির্ভর। বাস্তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কেউ কিছু জানেন না বলে ওই সূত্র দাবি করেছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, আগামী নির্বাচনের রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা, সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গে সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বিবেচনা করেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর বিভিন্ন সময়ে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।





























