ঢাকা ১১:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়া যৌতুক নয়, রাসেলকে খালাস হাইকোর্টের রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও হামলা, যাত্রী টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও অজ্ঞাত বস্তুর আঘাত ও অগ্নিকাণ্ড হুতি হামলার জেরে রিয়াদে আতঙ্ক, বন্ধ বিমানবন্দর ও স্কুল ল্যাপটপের অবস্থান জেনেও উদ্ধার করতে পারছে না পুলিশ জ্বালানি তেল ও দুর্নীতির প্রতিবাদে এনসিপির সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি খাগড়াছড়িতে নারী ফুটবল একাডেমি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা ওয়াদুদ ভূইয়ার দুমকিতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবাধে চলছে মা ইলিশ শিকার শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, ডিসেম্বরে উদ্বোধনের পরিকল্পনা চাঁপাইনবাবগঞ্জে সারের দাবিতে ডিলারের গোডাউনে কৃষকদের হামলা

রংপুর-১ আসনে মনোনয়ন নিয়ে বিরোধিতা, জাতীয় পার্টিতে মসিউরের ফেরা নিয়ে আলোচনা

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:
  • আপডেট সময় : ০১:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৮০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি




স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমানের (রাঙ্গা) হঠাৎ দলে ফেরা ও সরব হওয়া নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।

রংপুরে জাতীয় পার্টির ১টি অংশ মসিউর রহমানকে স্বাগত জানালেও তাঁর নির্বাচনী এলাকা গঙ্গাচড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির বড় ১টি অংশ বিরোধিতা করছেন। তাঁকে ‘আওয়ামী লীগের’ দোসর উল্লেখ করে রংপুরে প্রতিহতের ডাক দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীরাও।

এ সম্পর্কে মসিউর রহমান জানান, তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতি করে এত দূরে এসেছেন। তাই জাতীয় পার্টিতে ফিরেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁকে ‘আওয়ামী লীগের দোস বলা অস্বাভাবিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় পার্টির সূত্র বলছে, ১৫ ডিসেম্বর রংপুর-১ আসন থেকে জাপার তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য মসিউর রহমান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেখা করেন। ওই দিন ফেসবুকে লাইভে এসে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের কাছে ক্ষমা চেয়ে দলে ফেরার কথা জানান মসিউর।

জাতীয় পাার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভা গতকাল (১৭ ডিসেম্বর ) বুধবার সকালে গুলশান-১–এর আইরিশ হলে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন মসিউর রহমানও।

মসিউর রহমান জানান, ‘আমাকে অব্যাহতি দেওয়ার পর থেকে আমি আর অন্য কোনো দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি নাই। মনে করেছিলাম রাজনীতি করব না। আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পরে রাজনীতি করার অবস্থা ছিল না। কিন্তু জাতীয় পার্টি করে এত দূর এগিয়েছি। আগামীতেও দলটির সঙ্গে থাকতে চাই।’

এ সম্পর্কে জাতীয় পাার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির জানান, ‘উনি (মসিউর) নতুন করে দলে যোগদান করেছেন। এটা দলের চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত। উনি চেয়ারম্যান সাহেবের পক্ষে থাকলে আমরা তাঁর পক্ষে থাকব।’

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের পর ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে রংপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মসিউর রহমান। এরপর তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী হন। ২০১৮ সালে নির্বাচনে পর জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হন।

একই সঙ্গে ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ২৬ জুলাই পর্যন্ত জাতীয় পার্টির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন মসিউর। তবে রওশন এরশাদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগে ওই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ সব পদপদবি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মসিউর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। আওয়ামী লীগের একটি অংশ তাঁর পক্ষে ভোট করলেও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলুর কাছে হেরে যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে আর প্রকাশ্যে ছিলেন না মসিউর। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ঘটনায় হত্যাসহ চারটি মামলা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

রংপুর-১ আসনে মনোনয়ন নিয়ে বিরোধিতা, জাতীয় পার্টিতে মসিউরের ফেরা নিয়ে আলোচনা

আপডেট সময় : ০১:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমানের (রাঙ্গা) হঠাৎ দলে ফেরা ও সরব হওয়া নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।

রংপুরে জাতীয় পার্টির ১টি অংশ মসিউর রহমানকে স্বাগত জানালেও তাঁর নির্বাচনী এলাকা গঙ্গাচড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির বড় ১টি অংশ বিরোধিতা করছেন। তাঁকে ‘আওয়ামী লীগের’ দোসর উল্লেখ করে রংপুরে প্রতিহতের ডাক দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীরাও।

এ সম্পর্কে মসিউর রহমান জানান, তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতি করে এত দূরে এসেছেন। তাই জাতীয় পার্টিতে ফিরেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁকে ‘আওয়ামী লীগের দোস বলা অস্বাভাবিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় পার্টির সূত্র বলছে, ১৫ ডিসেম্বর রংপুর-১ আসন থেকে জাপার তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য মসিউর রহমান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেখা করেন। ওই দিন ফেসবুকে লাইভে এসে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের কাছে ক্ষমা চেয়ে দলে ফেরার কথা জানান মসিউর।

জাতীয় পাার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভা গতকাল (১৭ ডিসেম্বর ) বুধবার সকালে গুলশান-১–এর আইরিশ হলে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন মসিউর রহমানও।

মসিউর রহমান জানান, ‘আমাকে অব্যাহতি দেওয়ার পর থেকে আমি আর অন্য কোনো দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি নাই। মনে করেছিলাম রাজনীতি করব না। আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পরে রাজনীতি করার অবস্থা ছিল না। কিন্তু জাতীয় পার্টি করে এত দূর এগিয়েছি। আগামীতেও দলটির সঙ্গে থাকতে চাই।’

এ সম্পর্কে জাতীয় পাার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির জানান, ‘উনি (মসিউর) নতুন করে দলে যোগদান করেছেন। এটা দলের চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত। উনি চেয়ারম্যান সাহেবের পক্ষে থাকলে আমরা তাঁর পক্ষে থাকব।’

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের পর ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে রংপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মসিউর রহমান। এরপর তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী হন। ২০১৮ সালে নির্বাচনে পর জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হন।

একই সঙ্গে ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ২৬ জুলাই পর্যন্ত জাতীয় পার্টির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন মসিউর। তবে রওশন এরশাদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগে ওই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ সব পদপদবি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মসিউর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। আওয়ামী লীগের একটি অংশ তাঁর পক্ষে ভোট করলেও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলুর কাছে হেরে যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে আর প্রকাশ্যে ছিলেন না মসিউর। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ঘটনায় হত্যাসহ চারটি মামলা হয়েছে।