ঢাকা ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা ও ছড়ানো কি আইনত অপরাধ? আসামের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারের ঘর তৈরি করছেন সালমান খান ইয়াশের ‘টক্সিক’ ট্রেলার: সঙ্গে কিয়ারা-নয়নতারা ও অ্যাকশনের নতুন জগৎ সালমান শাহের সঙ্গে প্রথম কাজের স্মৃতিচারণ করলেন তুষার খান দক্ষিণ সুদান ও আবেই সফরে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান স্বাভাবিক হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ, সিএনজি স্টেশনে কমছে ভোগান্তি জ্বর নিয়েই শুটিংয়ে অবিকা, শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি কে হচ্ছেন দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট, সিদ্ধান্ত কেবল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সিরাজুল ইসলাম আপসহীন ছিলেন: মির্জা ফখরুল বুদ্ধিজীবী ও স্বৈরাচারের সখ্য: ক্ষমতার মোহে সততার বিসর্জন

সংবিধানে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোট

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৯:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহালের পথ প্রশস্ত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির ফুল আপিল বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দেন। সরকারের নীতিনির্ধারক, রাজনীতিবিদ ও আইনজীবীরা এই রায়কে দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের একটি অনন্য দলিল হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান রায়ের পর সাংবাদিকদের জানান, এই রায়ের মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ বন্ধ হলো। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। এটি বিএনপির দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলনের ফসল এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ সংগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষ যেন নিজের ভোট নিজে দিতে পারে। আইনমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণতন্ত্রের কবর রচনা করে ফ্যাসিবাদের যে নীলনকশা তৈরি করা হয়েছিল, এই রায় তা ভেঙে দিয়েছে। সরকার জুলাই সনদকে সামনে রেখে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেবে এবং রায়ে উল্লিখিত ৫৪টি বিষয়ের প্রতিটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করবে।

আইনজীবীদের মতে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য একটি সর্বজনস্বীকৃত পদ্ধতি। পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার নির্দেশে বিতর্কিত প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক এই ব্যবস্থা বাতিলের রায় দিয়েছিলেন, যা ইতিহাসের অন্যতম ঘৃণ্য নজির। সেই বিতর্কিত রায়কে পুঁজি করে ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোটের বিধানসহ সংবিধানের ৫৪টি অনুচ্ছেদ ও উপঅনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তাদের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট বাদ দেওয়ার সংক্রান্ত সংবিধানের ২০ ও ২১ ধারা বাতিল ঘোষণা করে। একইসঙ্গে ৭(ক), ৭(খ) ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদকে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও অন্যরা লিভ টু আপিল করলে, গত ১৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ তা মঞ্জুর করে। বৃহস্পতিবার সেই আপিলগুলো খারিজ হওয়ার ফলে হাইকোর্টের রায়টিই বহাল থাকল।

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, এখন থেকে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট ফিরে এল। তিনি আরও বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আনা বাকি পরিবর্তনগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার এখন জাতীয় সংসদের হাতে রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

সংবিধানে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোট

আপডেট সময় : ১০:৪৯:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
print news

সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহালের পথ প্রশস্ত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির ফুল আপিল বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দেন। সরকারের নীতিনির্ধারক, রাজনীতিবিদ ও আইনজীবীরা এই রায়কে দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের একটি অনন্য দলিল হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান রায়ের পর সাংবাদিকদের জানান, এই রায়ের মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ বন্ধ হলো। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। এটি বিএনপির দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলনের ফসল এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ সংগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষ যেন নিজের ভোট নিজে দিতে পারে। আইনমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণতন্ত্রের কবর রচনা করে ফ্যাসিবাদের যে নীলনকশা তৈরি করা হয়েছিল, এই রায় তা ভেঙে দিয়েছে। সরকার জুলাই সনদকে সামনে রেখে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেবে এবং রায়ে উল্লিখিত ৫৪টি বিষয়ের প্রতিটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করবে।

আইনজীবীদের মতে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য একটি সর্বজনস্বীকৃত পদ্ধতি। পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার নির্দেশে বিতর্কিত প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক এই ব্যবস্থা বাতিলের রায় দিয়েছিলেন, যা ইতিহাসের অন্যতম ঘৃণ্য নজির। সেই বিতর্কিত রায়কে পুঁজি করে ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোটের বিধানসহ সংবিধানের ৫৪টি অনুচ্ছেদ ও উপঅনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তাদের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট বাদ দেওয়ার সংক্রান্ত সংবিধানের ২০ ও ২১ ধারা বাতিল ঘোষণা করে। একইসঙ্গে ৭(ক), ৭(খ) ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদকে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও অন্যরা লিভ টু আপিল করলে, গত ১৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ তা মঞ্জুর করে। বৃহস্পতিবার সেই আপিলগুলো খারিজ হওয়ার ফলে হাইকোর্টের রায়টিই বহাল থাকল।

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, এখন থেকে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট ফিরে এল। তিনি আরও বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আনা বাকি পরিবর্তনগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার এখন জাতীয় সংসদের হাতে রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh